বছর সাতেক আগে আচমকা মারা যান দেশের নামি আয়কর উপদেষ্টা অনল মিত্র। তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয়, বিষক্রিয়ায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে বলেণ পোস্টমর্টেম রিপোর্টের বরাতে উল্লেখ করে ফরেনসিক বিভাগ। পুলিশের খাতায় আত্মহত্যা কিংবা অপমৃত্যু। পরে অবশ্য অনলবাবুর স্ত্রী সাগর দত্ত বলে একজনকে আসামী করে খুনের মামলা দায়ের করেন। মামলা চলমান, কিন্তু এই কেসের কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। অনল মিত্রের মেয়ে পৃথা দীর্ঘদিন পর যোগাযোগ করে প্রাইভেট ডিটেকটিভ অলোকেশ রয়ের সঙ্গে, যা ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা বলে আদতে কিছু নেই। তিনি চৌকশ, পেশাদার ও অসম্ভব মেধাবী-এক কথায় অন্তর্যামী। সহকারী উর্বী ও ক্রাইমরিপোর্টার শুভকে নিয়ে তিনি নেমে পড়ের অনল মিত্রের মৃত্যুরহস্য খুঁজতে। একে একে উঠে আসে বেশ কিছু নাম ও রহস্যজনক ঘটনা। হঠাৎ ব্যাংকের একটা চিঠি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দশ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন অনলবাবু। কেন? এ ব্যাপারে পরিবারের কেউ কিছু জানে না। নিহতের স্ত্রী রীতিমতো অন্ধকারে। অনল মিত্রের ঘরে পুরোনো ছবি। সেই ছবি থেকেই জট খুলতে শুরু করে অনল মিত্রের অপমৃত্যু-রহস্যের।

এক্স-নটরডেমিয়ান, ইংরেজি সাহিত্যে এমএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স করেন লন্ডনে। লেখালেখির শুরুটা তার কলেজকাল থেকেই। তিনি অসম্ভব প্রাণোচ্ছল একজন মানুষ। ঘুরতে পছন্দ করেন। নতুন দেশ নতুন মানুষ তার আগ্রহের বিষয়। বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকীতে নিয়মিত গল্প লিখছেন। শিশু কিশোরদের জন্য লিখছেন ছড়া, কবিতা, অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস, ভুতুড়ে ও গোয়েন্দাগল্প। পেশাগত কাজের ফাঁকে (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন। তিনি আড্ডার আমেজে জম্পেশ গল্পও বলেন । লেখক বস্তুত গোয়েন্দাগল্পের দারুণ ভক্ত। লেখা থেকে শেখা, তার মানে অন্ধ অনুকরণ নয়। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা ও কোনান ডয়েলের শার্লক হোমসের আদলে নির্মিত ডিটেকটিভ অলোকেশ রয় তার প্রিয় চরিত্র। ক্রাইম জোন, অশরীরী, অন্তরালে, ক্রাইসিস, কফিমেকার, যে রহস্যের কিনারা হয়নি, জলপিপি তার উল্লেখযোগ্য গোয়েন্দাগ্রন্থ। অসামান্য মেধার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নটরডেম কলেজে থেকে ১৯৯৫ সালে 'অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স' এবং স্পাই উপন্যাসের জন্য "এসিআই আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ লাভ করেন । তার জন্ম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানাধীন জহরের কান্দি গ্রামে স্ত্রী ডা. অপতী মণ্ডল। দুই ছেলে অনিকেত ও অগ্নিশ। তারাও লেখে। পুরো লেখক পরিবার ।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected