Samvala Shesh Jatra

সাম্ভালা শেষ যাত্রা

Product Summery

সাম্ভালার খোঁজে ড. কারসন দলবল নিয়ে চলে এসেছেন তিব্বতে, তার সত্যিকার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কেউ জানে না। ওদিকে অপহৃত হলেন ড. আরেফিন। সুদূর ঢাকা থেকে রাশেদ তার বন্ধুকে নিয়ে ড. আরেফিনকে উদ্ধার করতে চলে এলো তিব্বতে কিন্তু তাদের পেছনে লাগল একদল লোক। লখানিয়া সিং ওরফে মজিদ ব্যাপারীও আছেন সাম্ভালার পথে, সঙ্গী যজ্ঞেশ্বর আর বিনোদ চোপড়া, তাদের দুজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। মিচনারও পিছিয়ে নেই, প্রতিপক্ষ লখানিয়া সিং থেকে সে কেবল এক পা দূরে। অন্যদিকে পিশাচ সাধক আকবর আলী মৃধা আছে পেছনে, তার উদ্দেশ্য একটাই, প্রতিশোধ। দুই চিরশত্রু কি মুখোমুখি হবে একে অপরের? অবশেষে সাম্ভালার সন্ধান কি তারা করতে পেরেছিল? যেতে পেরেছিল কেউ ওখানে? এই রকম আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে ‘সাম্ভালা শেষ যাত্রা’য়। বাকি দুটি পর্বের মতোই টানটান উত্তেজনায় আপনাকে ধরে রাখবে একদম শেষ পর্যন্ত।

Tab Article

সাম্ভালার খোঁজে ড. কারসন দলবল নিয়ে চলে এসেছেন তিব্বতে, তার সত্যিকার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কেউ জানে না। ওদিকে অপহৃত হলেন ড. আরেফিন। সুদূর ঢাকা থেকে রাশেদ তার বন্ধুকে নিয়ে ড. আরেফিনকে উদ্ধার করতে চলে এলো তিব্বতে কিন্তু তাদের পেছনে লাগল একদল লোক। লখানিয়া সিং ওরফে মজিদ ব্যাপারীও আছেন সাম্ভালার পথে, সঙ্গী যজ্ঞেশ্বর আর বিনোদ চোপড়া, তাদের দুজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। মিচনারও পিছিয়ে নেই, প্রতিপক্ষ লখানিয়া সিং থেকে সে কেবল এক পা দূরে। অন্যদিকে পিশাচ সাধক আকবর আলী মৃধা আছে পেছনে, তার উদ্দেশ্য একটাই, প্রতিশোধ। দুই চিরশত্রু কি মুখোমুখি হবে একে অপরের? অবশেষে সাম্ভালার সন্ধান কি তারা করতে পেরেছিল? যেতে পেরেছিল কেউ ওখানে? এই রকম আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে ‘সাম্ভালা শেষ যাত্রা’য়। বাকি দুটি পর্বের মতোই টানটান উত্তেজনায় আপনাকে ধরে রাখবে একদম শেষ পর্যন্ত।

Tab Article

শরীফুল হাসানের জন্ম ময়মনসিংহে। ব্রহ্মপুত্রের তীরে তার শৈশব কেটেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। শরীফুল হাসানের প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে, ‘সাম্ভালা’ শিরোনামে। অন্য দুটি বইয়ের সাথে, এই মনোমুগ্ধকর ফ্যান্টাসি ট্রিলজি দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। সাম্ভালা ট্রিলজির ইংরেজি অনুবাদ বের হয় ভারত থেকে। সাম্ভালা ট্রিলজি (সাম্ভালা, সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা, সাম্ভালা শেষ যাত্রা), ‘ঋভু’, ‘আঁধারের যাত্রী’, ‘অদ্ভূতুড়ে বইঘর’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই । এ ছাড়া বেশ কিছু গল্প সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে তার ছোটগল্প।

ADD A REVIEW

Your Rating

2 REVIEW for সাম্ভালা শেষ যাত্রা !

বইয়ের নাম সাম্ভালা হলেও প্রকৃত নাম হচ্ছে ❛শাম্ভালা❜ বা সাংগ্রিলা। বইটি পড়ার শুরুতে বা কেনার পূর্বে মাথায় আসতে পারে এই সাম্ভালা কী বা কেন এই নামকরণ? শাম্ভালা হচ্ছে পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় এক স্থান। অনেকের চোখে পৌরাণিক রহস্যে ঘেরা এক দেশ। পৌরাণিক বলার পেছনে কারণ রয়েছে, বইয়ের তথ্য অনুসারে তিব্বতের কৈলাস পর্বতের মানস সরোবর ও রাক্ষসতাল হ্রদের মাঝামাঝি এক জায়গায়তে এই শাম্ভালা রাজ্যের অবস্থান। শাম্ভালার বিশেষত্ব হচ্ছে বিভিন্ন প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ইতিহাসে এই জায়গার উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন কালচক্র তন্ত্র থেকে তিব্বতের বৌদ্ধধর্মের জ্যাংজুং সংস্কৃতিতে এই রাজ্য বা শহরের নাম পাওয়া গিয়েছে। শুধুমাত্র বৌদ্ধধর্মীয় মানুষদের কাছে এই শাম্ভালা আটকে থাকেনি, হিন্দুদের কাছে আর্যদের পবিত্র রাজ্য এই শাম্ভালা। চীনাদের কাছে এই রাজ্য 'হেসি তিয়ান' নামে পরিচিত। পশ্চিমা জগত আবার একে 'হোসি ওয়াং মু' নামে চেনে। বিস্ময়কর এই স্থানটি নিয়ে প্রচুর মিথ প্রচলিত থাকলেও বিভিন্ন ধর্মের জাতিগোষ্ঠী বিশ্বাস করে পৃথিবীতে এই শাম্ভালার অস্তিত্ব রয়েছে। যে রাজ্যে সম্রাট অশোকের বিশেষ নয়জন ব্যক্তি শাম্ভালার গোপন জ্ঞান ও শিক্ষা খুবই গোপনীয়তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে। এছাড়া বিষ্ণুপুরাণেও উল্লেখ রয়েছে, বিষ্ণুর অবতার কল্কির জন্মস্থান এই শাম্ভালায়। একজন অ্যাডভেঞ্জার প্রেমী হিসেবে এই ট্রিলজি-কে দেশিয় প্রেক্ষাপটে সেরার কাতারে অবশ্যই রাখব৷ উক্ত ট্রিলজি নবাগত লেখকদের ফ্যান্টাসি থ্রিলার সাহিত্যকে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করছে ভবিষ্যতেও করবে। অনেক লেখক ইতোমধ্যে এই প্রেক্ষাপট ও প্লট বিল্ডাপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে একইসাথে ইতিহাসের মেলবন্ধনে সৃষ্ট অসাধারণ এই সাম্ভালা ট্রিলজি বিশ্ব দরবারে বেশ প্রসিদ্ধ স্থান দখল করে নিতে পারবে বলে বেশ আশাবাদী। এই ট্রিলজির ইংলিশ ভার্সন অলরেডি পাওয়া যাচ্ছে। ● প্রারম্ভ— যেহেতু সম্পূর্ণ ট্রিলজি পড়েছি তাই প্রারম্ভ তিন খণ্ডে তিনভাবে শুরু হয়েছে। সেদিক থেকে মূল কাহিনির সূচনা যেখান থেকে হয়েছে সেদিক থেকে আলোচনা করা যাক। প্রথম খণ্ডে শুরুতে এক বৃদ্ধের কাহিনি দিয়ে গল্পের সূত্রপাত। গল্পে ঢোকার জন্য যথেষ্ট ছিল, কাহিনির সাথে জড়িয়ে যেতে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়নি৷ রোমাঞ্চকর যাত্রার প্রথম রোমাঞ্চ বেশ ভালোভাবে হয়েছে। শুরুটা এখনও চোখে ভাসে, সাদামাটা শুরু হওয়া গল্প যে এত বিস্তৃত কে জানত। ● গল্প বুনন— লেখক খুব ভালো গল্প বুনন করতে পারেন৷ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেভাবে গল্পের সিকুয়েন্স, চরিত্রের স্থান-কাল সাজিয়েছেন এক কথায় অসাধারণ। লেখকের প্রধান কাজ থাকে নিজের কাহিনিকে পাঠকের মানসপটে জীবন্ত করে তোলা, ভাসা ভাসা ভাবে সবকিছু চোখের সামনে ভেসে ওঠা। যখন পাঠক তৃপ্তি নিয়ে সেইসব দৃশ্যায়ন সাবলীল ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তখন পূর্ণ স্বার্থকতা আচ্ছাদিত হয়ে আঘাত হানে লেখকের মনে। পাঠক পুলকিত হবেন সেটা দেখে লেখক স্মিত হাসি হেসে বলবেন—আমি স্বার্থক, আমার সৃষ্টি স্বার্থক। ● লেখনশৈলী— যে বিষয় পাঠককে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে এবং লেখক থেকে লেখককে আলাদা করে রাখে তা হচ্ছে লেখনশৈলী। পাঠক কোনো বইয়ের শুরুতে যে বিষয় লক্ষ করে সেটা হচ্ছে লেখনশৈলী। লেখক কীভাবে তার লেখা লেখেছেন, শব্দ চয়নে কেমন শব্দ নির্বাচন করেছেন। সাবলীল ভাবে সেগুলো বাক্যের মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে পেরেছেন কিনা এইসব কিছু। সাম্ভালা ট্রিলজিতে এই লেখনশৈলী বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। গল্পের সাথে হুকড করার মতো যে শক্তি সেটা লেখক এই লেখনশৈলীর মধ্যে দিয়ে দেখিয়েছেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বর্ণনা থেকে ফাইট সিকুয়েন্স, চরিত্রের সংলাপ ইত্যাদি সহজ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দেখে কাহিনি গতিময় ছিল, থমকে যাওয়া বা বোরিং হওয়ার কোনো চান্স ছিল না৷ ● বর্ণনাভঙ্গি— গল্পের গাঁথুনিতে বাক্যের সাবলীলতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এই যেমন, লেখক কোনো ঘটনার বিবরণ দিচ্ছে সেই ঘটনার বিভিন্ন দৃশ্য একই সাথে চরিত্রের ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি জীবন্ত করে তুলে ধরছেন সেটা সম্ভব বর্ণনার বিবরণের মাধ্যমে। সাম্ভালা ট্রিলজির প্রত্যকটি গল্প, গল্পের পেছনের ঘটনাবলি, সেগুলা কীভাবে ঘটেছে ইত্যাদি বিষয়গুলো সুনিপুণভাবে বর্ণনা দিয়েছেন। সবুজ পাহাড়ের বুকে ঝড়ে পড়া তুমুল বর্ষণ থেকে কাঠমুন্ডু ও তিব্বতের সৌন্দর্যের রূপরেখা শিল্পী তুলিতে আঁকলে যেভাবে দেখায় ঠিক সেইভাবে দেখিয়েছেন। চরিত্রের মধ্যকার সাসপেন্স, দূরত্ব, অনুসরণ, লুকোচুরি খেলা, ইতিহাসের মাহাত্ম্য কোনকিছু বাদ রাখেননি বর্ণনা করতে। কাহিনির স্বার্থকতা এইখানে যে লেখক তার সম্পূর্ণ জ্ঞান ও ধ্যান এই জীবন্ত বর্ণনার পেছনে ব্যয় করেছেন বলে। ● চরিত্রায়ন— পুরো কাহিনিতে ছিল চরিত্রের মনোমুগ্ধকর খেলা। কখনও রূদ্ধশ্বাসে এক চরিত্র অন্য চরিত্রকে ধাওয়া করা, আবার কখনও পদে পদে বিপদের মুখোমুখি লড়াই করা। চরিত্র বিল্ডাপে লেখকের ত্রুটি তেমন ছিল না। প্রত্যক চরিত্রের ব্যাকস্টোরি ছিল তরতাজা। সামান্য চরিত্রের গুণ খুব ভালোভাবে প্রকাশিত করতে পেরেছেন। বিশেষ দুই চরিত্রের পাশাপাশি অন্যান্য যতসব চরিত্র সৃষ্টি করেছেন সবার মধ্যে উৎকৃষ্ট শক্তিসামর্থ্য, জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। আগেই বলেছি লেখক ইতিহাসের অনেক কিছু টেনেছন গল্পের স্বার্থে সেদিক থেকে বিশেষ এক চরিত্রের ব্যাকস্টোরি দারুণ ভাবে যুক্ত করেছেন দেখে ভালো লেগেছে। প্রোটাগনিস্টের ব্যবহার করেছেন দক্ষতার সাথে, পাঠকের জন্য রয়েছে শেষদিকে চমকপ্রদ সাসপেন্স। চরিত্রের সাসপেন্স ও প্লটের আর্কষণ দুই মিলে এই রোমাঞ্চকর যাত্রা সত্যিকার অর্থে রোমাঞ্চিত করেছে। ● সমাপ্তি— কাহিনির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনা লেখক সৃষ্টি করে আবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন সেদিক থেকে সফল হয়েছেন। কারণ আমি সন্তুষ্ট। আমি অনেক অভিযোগ দেখেছি যে দ্বিতীয় খণ্ড প্রায় পাঠকের ভালো লাগেনি বা রুচির সাথে মেলেনি৷ তবে আমি বলব কাহিনির মূল গাঁথুনি ছিল এই খণ্ডে। প্রোটাগনিস্ট তৈরি থেকে সব চরিত্রকে একজোটে বেঁধে নিয়ে এসে এক স্থানে বন্দি করার প্রক্রিয়া সত্যিকারের রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেই। যারা 'তিগো' ভালোবাসেন এবং রোমাঞ্চকর জার্নি পছন্দ করেন ত

Peal Roy Partha 2022-02-02 11:31:33

সাম্ভালার সবচেয়ে সেরা পর্ব এবং আগের ২ পর্বের তুলনায় বেশ অনেক দ্রুত গতির। ১ম পর্বের শেষটুকু যদি রোলার কোস্টার রাইড হয় তাহলে এই পর্বের পুরোটাকেই সেই রাইডের আওতায় ফেলা যায়। আগের ২ পর্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা অসংখ্য জিনিস এখানে এসে এক বিন্দুতে মিলেছে। বইয়ের শেষ অংশটুকু এতো অসাধারণ ছিলো যে হাত থেকে কোনো কিছুর বিনিময়েই বই রাখার উপায় ছিলো না। সাম্ভালার যে বর্ণনা এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কল্পনা আর এই বিষয়ক একটা গেম খেলার কারনে তা মনে হলো যেনো নিজের চোখের সামনে ফুটে উঠতে দেখলাম। আবারো রাশেদ আর আকবর আলীর চোর পুলিশ খেলা, অপহরণ, বেঈমানী, রহস্য, উত্তেজনা, বন্ধুত্ব, একশন সবকিছু এই এক পর্বেই ঢেলে দিয়েছেন লেখক। একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। এই পর্ব শেষ করার পরেই আপনার মনে হবে এই ট্রিলজি একটা মাস্ট রিড। রেটিংঃ ৯/১০

Zakaria Minhaz 2022-01-21 21:02:05

এ রকম আরও বই