Keu Keu Kotha Rakhe

কেউ কেউ কথা রাখে

Product Summery

অস্থির আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ সময়ে ঘটে যাওয়া একটি খুনের রহস্য উদঘাটনে মরিয়া ভিন্ন মত আর স্বভাবের দু-জন মানুষ। অভিনবভাবে এক সন্দেহভাজনের সন্ধান পেলো তারা, অনেক কষ্টে তাকে ধরাও হলো কিন্তু হত্যারহস্য আর মিমাংসা করা গেলো না। এ ঘটনা বদলে দিলো তদন্তকারি দু-জনসহ আরো কিছু মানুষের জীবন। দুই যুগ পর স্মৃতিভারাক্রান্ত এক লেখক ব্যস্ত হয়ে পড়লো সেই হত্যারহস্য নিয়ে। চমকে যাবার মতো একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো তাকে। বিস্ময়কর সত্যটা জেনে যাবার পর নতুন এক সঙ্কটে নিপতিত হলো সে - সত্যটা প্রকাশ করার জন্য নির্ভর করতে হবে প্রকৃতির উপরে! ‘কেউ কথা রাখেনি’ একটি কাব্যিক অভিব্যক্তি। ঢালাও অভিযোগও বলা চলে। কিন্তু সত্যিটা হলো, কেউ কেউ কথা রাখে। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের নিরীক্ষাধর্মী একটি কাজ। তার আগের কাজগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।

Tab Article

অস্থির আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ সময়ে ঘটে যাওয়া একটি খুনের রহস্য উদঘাটনে মরিয়া ভিন্ন মত আর স্বভাবের দু-জন মানুষ। অভিনবভাবে এক সন্দেহভাজনের সন্ধান পেলো তারা, অনেক কষ্টে তাকে ধরাও হলো কিন্তু হত্যারহস্য আর মিমাংসা করা গেলো না। এ ঘটনা বদলে দিলো তদন্তকারি দু-জনসহ আরো কিছু মানুষের জীবন। দুই যুগ পর স্মৃতিভারাক্রান্ত এক লেখক ব্যস্ত হয়ে পড়লো সেই হত্যারহস্য নিয়ে। চমকে যাবার মতো একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে হলো তাকে। বিস্ময়কর সত্যটা জেনে যাবার পর নতুন এক সঙ্কটে নিপতিত হলো সে - সত্যটা প্রকাশ করার জন্য নির্ভর করতে হবে প্রকৃতির উপরে! ‘কেউ কথা রাখেনি’ একটি কাব্যিক অভিব্যক্তি। ঢালাও অভিযোগও বলা চলে। কিন্তু সত্যিটা হলো, কেউ কেউ কথা রাখে। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের নিরীক্ষাধর্মী একটি কাজ। তার আগের কাজগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।

Tab Article

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রথম প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থ ‘নেমেসিস’। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে পর পর চারটি সিক্যুয়েল (‘কন্ট্রাক্ট’, ‘নেক্সাস’, ‘কনফেশন’ ও ‘করাচি’) লিখতে হয়। সেগুলোও পায় ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘জাল’, ‘১৯৫২ নিছক কোনো সংখ্যা নয়’, ‘পেন্ডুলাম’, ‘কেউ কেউ কথা রাখে’ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ , ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেন নি’ প্রভৃতি। শেষের দুটি উপন্যাসের গ্রহণযোগ্যতা ঈর্ষণীয়, অভাবনীয়। এই সিরিজ তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করেছে পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলা পাঠকের কাছে। সফল অনুবাদক ও জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের আরেকটি পরিচয় হলো- তিনি বাতিঘর প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক। তার জন্ম ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বছর অধ্যয়নের পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তার সৃজনশীল সত্ত্বা বিকাশের উপযোগী আরেকটি বিষয় তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মৌলিক রচনার আগেই বাংলার পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন ভিনদেশী বিখ্যাত থ্রিলার অনুবাদ করার মধ্য দিয়ে।

ADD A REVIEW

Your Rating

4 REVIEW for কেউ কেউ কথা রাখে !

"বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল, যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে সেদিন আমার বুকেও এরকম আতরের গন্ধ হবে! ... কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনা!" বইটা হাতে নিয়েই মনে পড়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর লেখা “কেউ কথা রাখেনি” কবিতাটা। ‘কেউ কেউ কথা রাখে’ নামটি বেশ কাব্যিক ধরণের, নাম দেখে মনে হতেই পারে যে এটি একটি রোমান্টিক বই। কিন্তু মোটেই তা নয়; এটি থ্রিলার ও ট্র‍্যাজিক ঘরানার। গল্পটি রচিত হয়েছে একটি ধর্ষণ ও খুনের তদন্তের উপর নির্ভর করে। রোমান্স আছে কিন্তু প্রচলিত রোমান্স বলতে বয় মিটস গার্ল টাইপের যা বোঝায় তেমন নয়। আপাতভাবে একটি নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ঢাকা তথা বাংলাদেশের ভেঙ্গে পড়া সামাজিক অবস্থা, দুর্বল প্রশাসনিক আর অর্থনৈতিক কাঠামো, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে গল্প এগিয়ে গেলেও পুরো উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তিই হচ্ছে ভালোবাসা। বইটির শুরুতেই “লেখকের কথা” অংশে লেখক অকপটে স্বীকার করেছেন যে এটি তার পুরোপুরি মৌলিক সৃষ্টি নয়। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক এদুয়ার্দো সাচেরির “লা প্রেহুন্তা দে সুস ওহোস” (La pregunta de sus ojos) বইটি পড়ে তিনি মুগ্ধ হলে তিনি সেটার অনুবাদ করতে যান। কিন্তু তার নিজের লেখক সত্তার প্রভাবে অনুবাদ করা আর হয়ে উঠলো না; উক্ত বইটির দ্বারা প্রভাবিত বা অনুপ্রাণিত হয়ে সম্পূর্ণ নিজের সৃষ্ট চরিত্র ব্যবহার করে নিজের দেশের সামাজিক সমস্যাকে পুঁজি করে নিজেরই একটি গল্প অনুসরণ করে লিখে ফেললেন 'কেউ কেউ কথা রাখে' নামক এই অপূর্ব বইটি। কাহিনী সংক্ষেপঃ উপন্যাসের মূল চরিত্রের একজন আমাদের গল্পকথক যার নাম আমরা জানি না, তিনি বর্তমান সময়ের বেশ পরিচিত একজন লেখক। অনেক দ্বিধা আর জড়তার সাথে তিনি দেখা করতে গেছেন দুই যুগ আগের পরিচিত এক বান্ধবী রামজিয়া শেহরিন-এর সাথে। রামজিয়া শেহরিন ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী হলেও স্টেটসে গিয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করে প্রায় চার মাস হলো দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি ভুল বিচারের শিকার হওয়া মানুষদের আইনী সাহায্য করে এমন একটি একটি সংস্থা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটান। খানিকটা প্রাথমিক কথাবার্তার পর গল্পকথক তার লেখা অপ্রকাশিত একটি বইয়ের পান্ডুলিপি দেন রামজিয়া শেহরিনকে, শিরোনাম – “কেউ কথা রাখেনি”। পান্ডুলিপি হাতে নিয়েই রামজিয়া শেহরিন কয়েকটা পৃষ্ঠা দেখে গল্পকথককে জিজ্ঞাসা করে, “এটা কি... মিলির খুনটা নিয়ে?” কে এই মিলি নামের মেয়েটি? জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে দুই যুগ আগে।

Miraj Gazi 2022-01-16 18:30:18

২০২১ সালে বইঘর এপে বইটা পড়েছিলাম। গত বছরে আমার পড়া প্রিয় উপন্যাসগুলোর মাঝে এটি একটি। ক্রাইম থ্রিলার, মার্ডার মিস্ট্রি সচরাচর যেমন হয়ে থাকে এই বইটা তেমন না। পরতে পরতে মাথা-নষ্ট টুইস্ট নেই, নেই সুগভীর কোন রহস্য। লেখক ও হায়দার আলী উপন্যাসের মাঝপথেই খুনের রহস্যের সমাধান করে খুনীকে ধরে ফেলে। কিন্তু রহস্যের সমাধান হলেই কি একটি ক্রাইম থ্রিলার শেষ হয়ে যায়? ঘটনাপ্রবাহ টেনে নিয়ে চলে উপন্যাসটিকে। আমিও বইয়ের মাঝে ডুবে গিয়ে লেখকের সাথে পাড়ি দেই সত্তরের দশকের সে অস্থির সময়ের বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই। হায়দার আলীর কিছু উক্তি আমাকে ছুঁয়ে যায়। তার ব্যক্তিত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করে। তিনটি ঘটনার বর্ণনা পড়ে মনে হয় আমার চোখের সামনে ঘটছে -- মৃত্যু, হত্যাযজ্ঞ এবং শেষাংশ। কাহিনীর শেষটা কিছুটা আগেভাগে আন্দাজ করতে পেরেছি, তবে মুগ্ধতা একটুও কমেনি। কিছু উপন্যাস শুধুমাত্র অসাধারণ বর্ণনাভঙ্গি ও বলিষ্ঠ উক্তি'র জোরে প্রিয় হয়ে ওঠে। এই উপন্যাসটিও তার ব্যতিক্রম না! প্রিয় সব উক্তি: ১। "আমার মনে হয় মানুষ সৃষ্ট সব চাইতে 'যান্ত্রিক জিনিস' যন্ত্রপাতি কিংবা প্রযুক্তি নয়, এটা হলো আইন-কানুনের ভারি ভারি বইগুলো। যন্ত্রের মধ্যেও প্রচুর সৃজনশীলতা থাকে, কিন্তু এগুলোতে ছিটেফোঁটাও থাকে কিনা সন্দেহ!" ২। "এই চোখ ওঠা রোগটি তখন বেশ পরিচিত ছিল। যুদ্ধের সময় লক্ষ-লক্ষ শরণার্থী কোলকাতায় আশ্রয় নিলে রোগটা এদেশ থেকে সেখানেও চলে যায়। ওরা এটাকে 'জয় বাংলা' রোগ বলে ডাকতো।" ৩। "এটা কিভাবে বিশ্বাস করি, যে বঙ্গবন্ধুর জন্য একাত্তরেও মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি থাকার সময় যার মুক্তির জন্য এ দেশের মা-বোনেরা রোযা রেখেছে, যাকে জাতির পিতা হিসেবে সবাই মানে, তাকে কিনা হত্যা করবে এ দেশেরই সেনাবাহিনী!" ৪। "ধনীরা সাধারণত নিজেদের আচার-ব্যবহার দ্রুত বদলায় না। হয় এটা করার প্রয়োজনই মনে করে না তারা কিংবা এ কাজটা করতে চায় না। তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি যেমন মজবুত তেমনি তাদের এই আলগা ইমেজটিও শক্তপোক্ত থাকে। আর মধ্যবিত্ত অনেক চেষ্টা করে তিলে তিলে তাদের ইমেজটা গড়ে তুললেও সেটা ডিমের খোসার মতই ভঙ্গুর। দরকার শুধু একটা চাপের! তবে নিম্নবিত্ত তাদের শরীর মতই নগ্ন, আলগা ইমেজহগীন।" ৫। "বাঙালীর ঈর্ষা -- এর চেয়ে ভয়ানক অসুখ কমই আছে!" "ঈর্ষা খারাপ হতে পারে, কিন্তু ঈর্ষার শিকার হওয়াটা নেহায়েত মন্দ নয়। সম্ভবত কখনও কখনও সব চাইতে উপভোগ্য জিনিস!" ৬। ৭১ এ বাঙালি-বিহারী সম্পর্কটা চিরশত্রুর মত হয়ে উঠেছিল। অনেক বিহারী বাঙালি নিধনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল তখন, বিশেষত বিহারী অধ্যুষিত এলাকায় আজরাইলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তারা। সব যুদ্ধের মত আমাদের মুক্তিযুদ্ধও 'কোলাটেরাল ড্যামেজ' থেকে মুক্ত ছিল না। অনেক বাঙালি যেমন এর শিকার হয়েছে তেমনি কিছু বিহারীও বেঘোরে মারা পড়েছে শুধুমাত্র বিহারী বলেই। এটা অস্বীকার করা যাবে না।।

MUSTAKIM MORSHED 2022-01-16 13:26:49

One of my favorites.

Kowshik Debnath 2022-01-06 01:35:01

বই টা শেষ করে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি লেগেছে....

ishrat Zaman 2021-11-27 18:26:20

এ রকম আরও বই