হাংরি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ লেখক মলয় রায়চৌধুরীর গল্পগঠনে দৃঢ়তা ও রচনাশৈলীর রহস্যময়তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই উপন্যাসেও তিনি নারী-পুরুষের চিরাচরিত সম্পর্ককে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁর ‘নামগন্ধ’ উপন্যাসে খুশিদি, যিশু, ভবেশকার ত্রিভুজের মতো জাল বিস্তার করেছে। উপন্যাসে আছে প্রাকৃতিক মায়াজালে ঘেরা নীরবতা, শরীরী আবেদনের রহস্য ও ঝাড়ফুঁকের কাহিনি। খুশিদি চায় পূজা, বন্দনা, আরাধনা; তৃপ্ত হতে চায় পুরুষের মুগ্ধতা গায়ে মেখে। অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা আদিত্য অজস্র নোট গোনার চাকরিতে ক্লান্ত এক যুবক। মানুষের হাতে হাতে ঘুরা পচা ছ্যাতলা পড়া নোটের দুর্গন্ধ আর অ্যালুমিনিয়াম মুদ্রার ধাতব গন্ধে হাঁপিয়ে উঠা আদিত্য অ্যালার্জি রোগে আক্রান্ত হয়।

মলয় রায়চৌধুরী একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সাংবাদিক। ১৯৩৯ সালে জন্ম নেয়া মলয় রায়চৌধুরি ১৯৬০-এর দশকের হাংরি আন্দোলন (হাংরিয়ালিজম) তথা বাংলা সাহিত্যের প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলনের জনক। মলয় রায়ের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য সাহিত্যের সনাতন ধারা অনুশাসনের বিরুদ্ধাচারণ। গতানুগতিক চিন্তাধারা সচেতনভাবে বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে উত্তর আধুনিকতাবাদ চর্চা এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে ‘প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার’ কবিতার জন্যে রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাষের অধিক। তাঁর ১০টি কাব্যগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ১০টি সমালোচনা গ্রন্থ এবং কয়েকটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে শয়তানের মুখ, জখম, ডুব জলে যেটুকু প্রশ্বাস, নামগন্ধ চিৎকার সমগ্র, কৌণপের লুচিমাংস অ্যালেন গিন্সবার্গের ক্যাডিশ গ্রন্থের অনুবাদ ইত্যাদি অন্যতম।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected