ধূসর পাণ্ডুলিপি কবি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কবিতার বই। যা তাকে বাংলা আধুনিক কবিতায় স্থান করে দেয়। বইটি ১৯৩৬ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রথম কবিতার বই ‘ঝরা পালক’ হতে এই বইয়ে তার নিজস্বতার ছাপ একটু বেশিই ফুটে উঠেছে। কবিতায় একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতাবোধ, বোধের বিকাশ, মানবীয় দৃষ্টির প্রসার ও জীবনের নিগুঢ় বাঁকগুলো আবছা আলোয় ছায়ার মতো মাঝেও যেন স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে।

রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে তাঁর কবিতায়। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। তিনি ইতিহাসচেতনা দিয়ে তার কবিতায় অতীত ও বর্তমানকে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কসূত্রে বেঁধেছেন। তাঁর কবিস্বভাব ছিল অন্তর্মুখী, দৃষ্টিতে ছিল চেতনা থেকে নিশ্চেতনা ও পরাচেতনার শব্দরূপ আবিষ্কারের লক্ষ্য। জীবনানন্দের শব্দ বুননের নৈপুণ্য তুলনাহীন। কবিতাকে তিনি মুক্ত আঙ্গিকে উত্তীর্ণ করে গদ্যের স্পন্দনযু্ক্ত করেন, যা পরবর্তী কবিদের প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, প্রকাশকাল, বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। এছাড়াও রয়েছে বহু অগ্রন্থিত কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প। ১৯৫৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected