‘কঙ্কাবতী’ বাংলা সাহিত্যের একটি রসাত্মক উপন্যাস। লেখক এতে কৌতুক এবং করুণা উদ্রেক করে বিনা আড়ম্বরে আপন কল্পনাশক্তির পরিচয় দিয়েছেন। ভূত-প্রেত ও কাল্পনিক জীব-জন্তু-এর এমন এক জগৎ নির্মাণ করেছেন যার অভিনবত্ব পাঠককে রূপকথার জগতে নিয়ে যাবে। এ জগৎ থেকে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় আমদানি করেন কঙ্কাবতীকে। উপন্যাসের প্রথম ভাগে বর্ণিত হয়েছে বাস্তব জীবনের কথা। দ্বিতীয় ভাগে লেখক তাঁর লেখা নিয়ে যান রূপকথার কল্পজগতে। এ জগৎ ঘুরে এসে তিনি ফিরে যান বাস্তবলোকে। লেখক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর এ উপন্যাসে বাঙালি সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অন্ধ সংস্কারকে আঘাত করেছেন।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার অন্তর্গত শ্যামনগরের কাছে রাহুতা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বিশ্বম্ভর মুখোপাধ্যায়। ত্রৈলোক্যনাথ চুঁচুড়ার ডাফ সাহেবের স্কুলে এবং ভদ্রেশ্বরের কাছে তেলিনীপাড়া বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। সংসারের অসচ্ছল অবস্থার জন্য ১৮৬৫ সালে বাড়ি থেকে রোজগারের জন্য চলে যান এবং নানা দেশ ভ্রমণ করেন। ব্যঙ্গকৌতুক রসের স্রষ্টা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ত্রৈলোক্যনাথের কর্মজীবনের সূচনা ঘটে স্কুল শিক্ষকতার মাধ্যমে। পরবর্তীকালে তিনি বিভিন্ন ধরনের পেশায় নিযুক্ত হন। তার রচিত ডমরু চরিত এবং কঙ্কাবতী খুবই বিখ্যাত। মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও তিনি ফারসি, ওড়িয়া ইত্যাদি কয়েকটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। ইংরেজি ভাষাতেও তিনি কয়েকটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার রচিত বইগুলির মধ্যে কঙ্কাবতী, ভূত ও মানুষ, ফোকলা দিগম্বর, ডমরু চরিত, বাঙ্গাল নিধিরাম, বীরবালা, লুল্লু, নয়নচাঁদের ব্যবসা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected