কুশলী অনিরুদ্ধ-গিরীশ, মাতব্বর শ্রেণীর হরিশ মন্ডল, প্রগতিশীল পেশাজীবি জগন-দেবু, পদ্ম-বিলু-দুর্গার মতো নানাশ্রেণীর নারীরা, বিপ্লবী যতীন- এ উপন্যাসের পাত্র-পাত্রীরা সকলেই গ্রামেরই বাসিন্দা। তবে সে গ্রাম বিভূতিভুষণের গ্রামের মতো শান্ত-স্নিগ্ধ নয় । শিল্পায়নের প্রভাবে শহরের ছোঁয়া এসে লেগেছে সেখানে। সামন্তপ্রথার বিলুপ্তিতে অর্থসমাগম বেড়েছে সমাজে, বিত্তের প্রভাবে পাওয়া ক্ষমতায় নিম্নস্তরের দুষ্টলোকেদের অনেকে ছিরুর মতো ভোল পাল্টে হয়েছে শ্রীহরি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালোত্তীর্ণ এ উপন্যাসের পুরোটা জুড়েই পাওয়া যায় সামাজিক অবক্ষয় আর অনাচারের চিত্র।

তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু। তারাশঙ্কর প্রায় দুশ’ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২), ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯), গণদেবতা (১৯৪৩), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪), কবি (১৯৪৪), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরৎস্মৃতি পুরস্কার’ (১৯৪৭) ও ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (১৯৫৬) লাভ করেন। এছাড়া তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৫৫), ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ (১৯৫৬), ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ (১৯৬৭) এবং ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৬২) ও ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected