‘কুহেলিকা’ উপন্যাসের মূল চরিত্র জাহাঙ্গীর। পাঠককে ভাবায় জাহাঙ্গীরের জন্ম-সংক্রান্ত বিদ্রোহের বর্ণনা, বন্ধু হারুনের সাথে ওর বাড়ীর দিকে যাত্রার গল্প, হারুনের পাগলী মায়ের অদ্ভুত আচরন, তার অন্ধ পিতা, খোন্দকার সাহেবসহ দুই বোনের চরিত্র। উপন্যাসের সংলাপগুলো গভীর মনস্তত্ত্বের কথা বলে। সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভুতির মিশেল এই কাহিনি। বহুবছর আগে লিখিত এই উপন্যাসে বর্তমান সময়ের নিম্নবিত্ত বাঙালির বাস্তব রূপটাও ফুটে উঠেছে।

বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর প্রতিভার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতা, নাটক ও উপনাস্যের মতো শিল্পের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তাঁর ছিলো অবাধ বিচরণ। লিখতেন গান, দিতেন সেইসব গানে সুর, আবার গাইতেনও| সাংবাদিক হিসেবেও কলম ধরেছিলেন। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য অংশগ্রহণ করেছিলেন নানা আন্দোলনেও| ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল সুদৃঢ়। ১৮৯৯ সালে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিদ্রোহী এই কবি। চরম দারিদ্রের মধ্যেই তাঁর বাল্য, কৈশোর ও যৌবন বয়স কাটে| দুঃখ-দূর্দশার মধ্যেও তিনি আজীবন সাহিত্যচর্চা করে গিয়েছিলেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো, বিষের বাঁশি, অগ্নিবীণা, কুহেলিকা প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু তাঁকে ঢাকায় নিয়ে এসে নাগরিকত্ব দেন। সেইসঙ্গে ভূষিত হন জাতীয় কবির মর্যদায়। ১৯৭৬ সালে কবি মৃত্যুবরণ করেন।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected