1
পোড়া ছায়া
12:35
1
পোড়া ছায়া
12:35

ভূত দেখে নীলা চিৎকার করলেও কোনো শব্দ বের হলো না। বরং কানের কাছে হঠাৎ বিকট একটা আওয়াজ উঠায় আঁতকে উঠে সে মূর্ছা যায়। প্রফুল্ল বাবুও একরাতে দেয়ালে ছায়া মূর্তি দেখেন। ছায়া মিলিয়ে যাওয়ার পর তিনিও গলা ফাটিয়ে আর্তনাদ করেন। কিন্তু কোনো আওয়াজ হলো না। ভূতের রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রফুল্ল বাবু তার মেয়েকে নিয়ে রাত জেগে বসে থাকে। হঠাৎ ঘরের মধ্যে একটা অদ্ভুত অস্পষ্ট গড়গড় চাপা আওয়াজ শুনতে পায়। সেই সঙ্গে দেয়ালে দেখা যায় চারটি পোড়া ছায়া! ছায়াগুলো আচমকা হাত ঘড়িটাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তুলে নিয়ে যায়। তারা সকলে ভয়ে চিৎকার করে। এই ছায়া রহস্য ও অদ্ভুত আরো ভৌতিক ঘটনা জানতে শেষপর্যন্ত বইয়ের সঙ্গে থাকা যাক।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০৮ সালে। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মূহুর্তে বাংলা কথাসাহিত্য যে কয়েকজন লেখকের হাত ধরে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসীয় শ্রেণীসংগ্রাম তত্ত্ব তার লেখায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তার রচনায় ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি। তার জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরেও তিনি রচনা করেন চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশত ছোটোগল্প। পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ১৯৫৬ সালে; মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে এই কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected