1
এলো
14:12
1
এলো
14:12

বেশ ক’বছর খালি পড়ে থাকা হরিশবাবুর বাড়ির দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। জানালাও বন্ধ। হঠাৎ করে হরিশবাবু তার পরিবারসহ কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। বাড়ির আঙিনা আগাছায় ভরে গেছে। হরিশবাবু একটা ঠিকানা দিয়ে গিয়েছিল বিমানের বাবাকে। কিন্তু অনেক চিঠি দেওয়ার পরও কোনো উত্তর আসেনি। হঠাৎ এক রাতে বিমান শুনতে পায় হরিশবাবু বাড়ি এসেছে। তার বাড়িটি আজও বাইরে থেকে তালা দেওয়া। বিমান খুশি হয়ে তার বাল্য বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে ঘরের ভিতর থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়। এমন সময় হঠাৎ গোরা এসে বিমানের হাত ধরে। তার হাতটা কেমন যেন শীতল। বিমান ভয়ে কেঁপে উঠে! দরজা না খুলে সে এলোই বা কি করে? সে কি ভূত না কি! হরিশবাবুর চেহারাটাও রহস্যময়! বিমান বাড়ি ফিরলে তার প্রচণ্ড জ্বর হয়!

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০৮ সালে। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মূহুর্তে বাংলা কথাসাহিত্য যে কয়েকজন লেখকের হাত ধরে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসীয় শ্রেণীসংগ্রাম তত্ত্ব তার লেখায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তার রচনায় ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি। তার জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরেও তিনি রচনা করেন চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশত ছোটোগল্প। পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ১৯৫৬ সালে; মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে এই কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected