রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই মেলোড্রামাটিক নভেলার মাধ্যমে, চিরায়ত নারীর মনস্তত্ত্বের জটিলতা এবং সেসময়কার সমাজ বাস্তবতা স্টাডি করেছেন। 'নষ্টনীড়' এর মূল চরিত্র চারুলতা তার কর্মব্যস্ত স্বামীর সাহচর্য সহসা পায়না।অন্যদিকে স্বামীর ছোটভাই অমলের ছেলেমানুষী সহসা চারুর মনে জায়গা করে নেয়,অমলকে সে ভালোবেসে ফেলে। রবীঠাকুর তাঁর অসাধারণ লেখনীতে চারুর ভালোবাসা কে জীবন্ত করে তুলেছেন। অমল এর লেখা যখন পত্রিকায় ছাপে, তখন সে লেখা হাজার-শতেক পাঠকের সাথে, তাদের মত করে চারুকেও ভাগাভাগি করে পড়তে হবে দেখে তীব্র ঈর্ষাবোধ চারুকে দগ্ধ করে। তার এই ঈর্ষাবোধ, সাথে তীব্র ভালোবাসা রবীন্দ্রনাথ ফুটিয়ে তুলেছেন অনন্য অসাধারন ভাবে। তবে যে কারণে এই লেখাটি অনবদ্য হয়ে উঠেছে, তা হলো শতর্বষ পরেও মানবমনের এই জটিলতা, আবেগের ওঠানামা, সমাজব্যবস্থার অসাম্যতা কিছুমাত্র বদলায়নি। রবীন্দ্রনাথ স্থান,কাল,পাত্র জয় করেছেন অনুভূতির মোহময় লেখনীতে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, দার্শনিক। তিনি বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। ১৮৬১ সালে তিনি কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আট বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জীবনের পর্বে পর্বে তাঁর জীবনজিজ্ঞাসা ও সাহিত্যাদর্শের পরিবর্তন ঘটেছে। যুগে যুগে পৃথিবীতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা, দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে যে রূপান্তর ঘটেছে, রবীন্দ্রনাথ তা আত্মস্থ করেছেন গভীর অনুশীলন, নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে। তাই তাঁর সাহিত্যজীবনের নানা পর্যায়ে বিষয় ও আঙ্গিকের নিরন্তর পালাবদল লক্ষণীয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফসল তাঁর অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র ও দেশে বিদেশে প্রদত্ত বক্তৃতামালা। রবীন্দ্রনাথ কালজয়ী। বাংলা সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব যুগান্তকারী। ১৯৪১ সালে নোবেলজয়ী এই কবি প্রয়াত হন।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected