‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’য় উঠে এসেছে এক প্রতিবাদী বাঙালি নারী জমিদার প্যারীসুন্দরীর জীবন কাহিনী। সঙ্গে আছে অত্যাচারী এক নীলকর টিআই কেনির অত্যাচারের বিবরণ। কাহিনী দুটি ধারায় বিভক্ত। একদিকে রয়েছে নীলকর টিআই কেনির সঙ্গে সুন্দরপুরের (সদরপুর) মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, রায়ত-প্রজার ওপর কেনির অত্যাচার-নিপীড়ন, নীল স্বাধীণতা সংগ্রাম ও কেনির পরিণতি। কাহিনীর দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মোশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

মীর মশাররফ হোসেন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী। তিনি ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে তিনি আধুনিক যুগে মুসলিম বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। যদিও তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে মুক্ত এক লেখক। তিনি তাঁর নাটক ও আত্মজৈবনিক উপন্যাসে সমকালীন সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যার ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষপাত করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস রত্নবতী ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি একে একে কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা হলো: বসন্তকুমারী নাটক, জমিদার দর্পণ, সঙ্গীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা ইত্যাদি। তাঁর অমর কীর্তি কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস। তাঁর সাহিত্যের গুরু ছিলেন কাঙাল হরিনাথ। ১৯১২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected