Ventriloquist

ভেন্ট্রিলোকুইস্ট

Product Summery

নৃতাত্ত্বিক মারুফ ও সাংবাদিক রুমির বন্ধুত্ব দীর্ঘ দিনের। কথা প্রসঙ্গে ওরা জানতে পারে তাদেরই আরেক বন্ধু পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে ভেন্ট্রিলোকুইজম। কৌতূহলী হয় ওরা। সেটার কারণ খুঁজতে শুরু হয় রহস্যময় এক অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসতে শুরু করে ভয়ংকর আর শিউরে ওঠার মতো সব সত্য, সাধারণ মানুষকে কখনোই জানতে দেয়া হয় না- এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সম্প্রদায়ের কথা। এর পদে পদে ওদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে ভয়ঙ্কর বিপদ, অভাবনীয় বিস্ময়, আছে ষড়যন্ত্র। ‘ভেন্ট্রিলোকুইস্ট’ কেবল উপন্যাসই নয়- পাঠকদের জন্য ইতিহাস, স্থাপত্য, গণিত, ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব এক স্মারকগ্রন্থ।

আরও পড়ুন >

Tab Article

নৃতাত্ত্বিক মারুফ ও সাংবাদিক রুমির বন্ধুত্ব দীর্ঘ দিনের। কথা প্রসঙ্গে ওরা জানতে পারে তাদেরই আরেক বন্ধু পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে ভেন্ট্রিলোকুইজম। কৌতূহলী হয় ওরা। সেটার কারণ খুঁজতে শুরু হয় রহস্যময় এক অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসতে শুরু করে ভয়ংকর আর শিউরে ওঠার মতো সব সত্য, সাধারণ মানুষকে কখনোই জানতে দেয়া হয় না- এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সম্প্রদায়ের কথা। এর পদে পদে ওদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে ভয়ঙ্কর বিপদ, অভাবনীয় বিস্ময়, আছে ষড়যন্ত্র। ‘ভেন্ট্রিলোকুইস্ট’ কেবল উপন্যাসই নয়- পাঠকদের জন্য ইতিহাস, স্থাপত্য, গণিত, ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব এক স্মারকগ্রন্থ।

Tab Article

জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। রহস্য আশ্রয়ী গল্প-উপন্যাস ও শিশু-কিশোর সাহিত্য পড়তে ও লিখতে আগ্রহী। সাহিত্য-পুরস্কার : এইচএসবিসি - কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই: ভেন্ট্রিলোকুইস্ট, মিনিমালিস্ট, বিলু কালু ও গিলুদের রোমাঞ্চকর অভিযান, ডক্টর কিজিল, ভাজা মাছের উল্টো পিঠের রহস্য ।

6 REVIEW for ' ভেন্ট্রিলোকুইস্ট'

বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে খোঁজ পায় শৈশবের বন্ধু শওকতের, "ভেন্ট্রিলোকুইস্ট"- এর মাধ্যমে যে এখন পরিচিত মুখ। কৌতূহলের বশে বন্ধুর সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ে রুমি আর মারুফ। কিন্তু ভাগ্যের লীলাখেলায় জড়িয়ে যায় ভয়ানক এক ষড়যন্ত্রের জালে! জানতে পারে গুপ্ত এক ধর্মের কথা, যার সাথে জড়িয়ে আছে ১৯ সংখ্যা। ভেন্ট্রিলোকুইস্টের সাথে সম্পর্ক আছে আদিম অন্ধকার এক প্রথার... আমার পড়া প্রথম ঐতিহাসিক থ্রিলার। সেরা একটা বই। শেষ না করা পর্যন্ত উঠতে পারি নাই। এরপরের বই "মিনিমালিস্ট" থেকে ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বেশি ভালো লেগেছে। ইতিহাস, বিজ্ঞান, গনিত, স্থাপত্য, ধর্ম, সংখ্যা, রহস্য, ষড়যন্ত্রের মিশ্রণে লেখা এক মাস্টারপিস।

Rafia Rahman 2022-05-06 00:34:28

আমরা প্রায় দেখি একজন মানুষ (ভেন্ট্রিলোকুইস্ট) একটি পুতুল হাতে নিয়ে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে বিচিত্র এক খেলা বা অনুষ্ঠানে অভিনয় করে যাচ্ছে। কখনও হাসি-ঠাট্টা, কখনও জীবন দর্শন, কখনও-বা সমাজের হালচাল নিয়ে রচিত হয় কথোপকথনের বিষয়বস্তু। কিন্তু উপস্থাপনা হয় খুবই সূক্ষ্মভাবে; যাতে করে দর্শকদের মাঝে সন্দেহ না হতে পারে যে দুজন একই ব্যক্তি। যিনি এই খেলাটি দেখান তিনি হলেন ‘মায়াস্বরবিদ’ বা ‘ভেন্ট্রিলোকুইস্ট’। আর খেলাটির বাংলা ‘মায়াস্বর’ হলেও ইংরেজি ‘ভেন্ট্রিলোকুইজম’ নামটিই বেশি পরিচিত। যীশু খ্রিষ্টের জন্মের অনেক আগ থেকে এই ভেন্ট্রিলোকুইজম সক্রিয় ছিল। গ্রিক মিথোলজিতে দেবতাদের পুণ্যভূমি—এথেন্সের ডেলফির মন্দিরে এই ভেন্ট্রিলোকুইজমের ভেল্কি দেখানো হতো। যদিও এই ধারণা অনেকটা কল্পনাপ্রসূত। কারণ ডেলফি ছিল দৈববাণী প্রকাশের মাধ্যম বা জায়গা। তবে প্রাচীনকালের অনেক পুরোহিত ও জাদুকররা সমাজে প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য এই ভেন্ট্রিলোকুইজম বেছে নিত। এই নিয়ে বিস্তর তথ্য আপনি ❛ভেন্ট্রিলোকুইস্ট❜ বইতে পেয়ে যাবেন। এছাড়া ইন্টারনেট তো আছেই। লেখক শুধুমাত্র ভেন্ট্রিলোকুইজমের মধ্যে পুরো উপন্যাস বন্দি করে রাখেননি। বাহাই ধর্ম, ইউনিট ৭৩১, ভিভিসেকশন, জাদুবিদ্যা, ভুডু, অনার কিলিং-সহ আরও নানান তত্ত্ব মিশ্রিত গাণিতিক যোগসূত্র নিয়ে তৈরি করেছেন ❛ভেন্ট্রিলোকুইস্ট❜ বইটি। ছোটোখাটো এক গবেষণা করা পুঁথি বললেও ভুল হবে না। ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও রহস্যময় দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হতে চাইলে এই বইটি আপনার জন্য। একটু ধীরেসুস্থে পড়লে ভালো। তাড়াহুড়ো করতে গেলে, মাথায় প্যাচ খাওয়ার কিঞ্চিৎ রয়েছে। বইটি জ্ঞান অন্বেষণে ইচ্ছুক পাঠকদের জন্য নিঃসন্দেহে দারুণ। তবে লেখকের লেখার গতি ও বইয়ের বিষয়বস্তু এই দুইয়ের সাথে তাল মেলাতে রয়েসয়ে পড়া ভালো। যে-সব বিষয়বস্তু নিয়ে লেখক আলোকপাত করেছেন, চাইলে পড়ার ফাঁকে সেই সম্পর্কে ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারেন। তাহলে পড়ায় সুবিধা হবে। প্রথমদিকে বেশ গোছানো মনে হলেও, দুই-তৃতীয়াংশ শেষে কাহিনি কিছুটা দ্রুত গতিতে শেষ হয়েছে। যেহেতু তথ্য দিয়ে ঠাসা তাই সেগুলো গল্পের সাথে কানেক্ট করতে এই উপায় বাতলে দেওয়া। লেখক যে ড্যান ব্রাউনের ভক্ত তা ওনার গল্প সাজানোর সাজ-সরঞ্জাম দেখে আন্দাজ করা যায়৷ সিম্বল নিয়ে অ্যাসাইমেন্ট এবং তথ্য-উপাত্ত সাজিয়ে পুরো উপন্যাস লিখতে ভালোই হ্যাপা পোহাতে হয়েছে। তবে আলোচনা-সমালোচনা করার ক্ষেত্রে দুটোই বেশ ভালোই প্রাধান্য হবে। কারণ যত তত্ত্ব নিয়ে খেলতে চেয়েছেন সেগুলো যতটা শক্ত গল্পে ততটা পোক্ত বা প্রকটভাবে ডানা মেলে উড়তে পারেনি। কিছু যুক্তি অকাট্য লেগেছে, ক্রুশিয়াল সিকোয়েন্সে এসে। যা-ই হোক, এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সেইদিকে যেতে চাচ্ছি না। গল্পের সিকোয়েন্স সাজানো ভালো, প্লটও ইন্টারেস্টিং। দেশের গণ্ডিতে এইরকম প্লট নিয়ে লেখার প্রচেষ্টা করার জন্য সাধুবাদ অবশ্যই জানাতে হচ্ছে। শেষটা শুধু আরেকটু ধীরে হলে ভালো হতো, কারণ এত সব যুক্তিতর্ক হজম করার জন্য সময়ের ভীষণ প্রয়োজন। আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, অহেতুক বর্ণনা বা ব্যবচ্ছেদে লেখক জাননি। থিউরি বা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট মার্জিত লেগেছে; শুধু অতিরিক্ত ইংরেজি সংলাপ বাদ দিলে। এই নিয়ে কিছুটা বিরক্তির উদ্রেক ঘটেছে। অন্যদের হয়তো ভালো লাগবে, আমার লাগেনি। দ্রুত এবং সাবলীল। এক বসায় পড়ার মতো লেখনশৈলী হলেও, সেটা সম্ভব হয়নি নানান বিষয়বস্তুর জন্য। তবে জ্ঞান জাহির বা পাণ্ডিত্যের ছড়ি ঘোরানোর মতো কাজগুলো নেই বলে ভালো লেগেছে। নৃতত্ত্ব নিয়ে আলাপ-আলোচনা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করার কারণে গল্পে কোনোপ্রকার বাধা সৃষ্টি হয়নি। পারিপার্শ্বিক আলোচনা এবং পর্যালোচনা দুটোই সমানুপাতিক। যতটুকু বর্ণনা করার দরকার ততটুকু করা হয়েছে। ইট-পাথরের তৈরি দালানের চিত্র কিংবা গ্রামের কোনো পরিত্যক্ত বাড়ির রহস্য; কোনো কিছুতেই অতৃপ্তি আসেনি৷ তবে উত্তেজনা যতটুকু ক্রিয়েট করার দরকার ছিল, সেটা তাড়াহুড়োর কারণে ফসকে গিয়েছে। আফসোস নেই, অপূরণীয় ক্ষতি অন্যদিকে পূরণ করে দিয়েছেন লেখক। গাণিতিক হর্ষদ সংখ্যা, ফিবোনাচ্চি সিরিজ এইসব ব্যবচ্ছেদ পড়তে গিয়ে মনে হলো নবম-দশম শ্রেণির টাইমলাইনে ফিরে গিয়েছি। মজাদার আবার একইসাথে কপালে ভ্রু কুঁচকানোর মতো অবস্থায় ছিলাম। চরিত্র হাতে গোনা। যেহেতু গল্প প্রথম পুরুষে লেখা, তাই পুরো উপন্যাস মারুফের পার্সপেক্টিভ থেকে দেখানো হয়েছে। তবে রুমি চরিত্র এই গল্পে একাই একশ! নৃতত্ত্ব নিয়ে জ্ঞান যার, সে এই গল্পে নিতান্ত এক ডামি ব্যতীত আর কিচ্ছু নয়। লেখকের উচিত ছিল, মারুফ ও রুমির মধ্যে ব্যালেন্স রাখা। নিক্তিতে মাপামাপি করতে হেলে রুমি কিছুটা সুপার হিউম্যান খেতাব পেয়ে যাবে৷ অ্যান্টানোগিস্ট চরিত্রে যিনি ছিলেন, তার অ্যাপিয়ারেন্স অতটা আকর্ষিত করেও যেন করতে পারেনি। বিশেষ করে গতানুগতিক ধারায় নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কীর্তিকলাপ স্বীকার করা এবং শেষ পরিণতি। যাহোক, লেখকের মূখ্য উদ্দেশ্য যে চরিত্র নিয়ে ছিল না, তা এই উপন্যাস যারা পড়েছে একটু মাথা খাটালে সেটা বের করা সম্ভব। লেখকের মূল বিষয়বস্তু বিভিন্ন টপিক নিয়ে খেলা করে। আর এই টপিকের গিনিপিগ হচ্ছে এইসব চরিত্র। তবে শওকত চরিত্র বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। সব কিছুর ব্যাখ্যা ও যোগসূত্র লেখক ভালোভাবে টেনেছেন। অতিরঞ্জিত কিছু ছিল না, শুধু শেষ পরিণতি ছাড়া। তবে সেটাকে আমি লাস্ট সাসপেন্স হিসেবে মার্ক করব। পুরো বইতে টুইস্ট আর সাসপেন্সের কোনো কমতি লেখক রাখেননি৷ এত এত সাসপেন্স যে, যারা সাসপেন্স খেয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন তাদের জন্য আদর্শ বটে।

Peal Roy Partha 2022-02-02 11:43:37

দীর্ঘ বিরতির পর একসাথে ১০ টা বই কিনলেও শুরু করেছিলাম মাশুদুল হকের এই বইটি দিয়ে। একদম ১ম লাইন থেকেই বইটি আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষন করে। আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ছোটোখাটো কিছু বিষয় ছাড়া বইটি ওভারঅল বেশ ভালো লেগেছে। নতুন অনেক কিছুই জানতে পেরেছি এই বইয়ের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত ভাবে এই রকম ঐতিহাসিক রেফারেন্স সমৃদ্ধ বই আমার কাছে বেশী ভালো লাগে। বাহাই, বাবি দের বিষয়গুলো একদম নতুন ছিলো আমার কাছে। ভেন্ট্রিলোকুইজম নিয়ে জানা থাকলেও সেটার ব্যাপারে কিছু নতুন তথ্য পেয়েছি। নাৎসি বাহিনী নিয়ে জানলেও জাপানের চায়না আক্রমণের বিভৎস এক্সপেরিমেন্টের বিষয়গুলো নতুন ছিলো আমার জন্য। তবে বইয়ের কিছু জিনিস একটু দূর্বল মনে হয়েছে। সবকিছুই কেমন অটোমেটিক চলে আসতেছিলো প্রটাগনিস্ট দের হাতে, অনেক বেশী দ্রুতলয়ে এগিয়েছে কাহিনী। কিছু জায়গায় আরো একটি ডিটেইলড বর্ণনা থাকলে হয়তো আরো বেশী উপভোগ করতে পারতাম বইটি। আর চরিত্রায়নের ব্যাপারে বলতে গেলে মারুফকে রুমীর তুলনায় খুব কম হাইলাইট করা হয়েছে। বিশেষ করে রুমির একদম সবকিছু জানা এই সবজান্তা ভাবটা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর ছিলো। যদিও সেই থ্রুতে আমারো অনেক কিছুই নতুন জানা হয়েছে তাই বিষয়টা নিয়ে খুব বেশী সমালোচনা করবো না। আগে দীর্ঘদিন বই পড়ার অভ্যাস থাকার সুবাদে বেশ কিছু অংশ আগে থেকেই ধরতে পারলেও শেষের রুনুর টুইস্টটা একদমই ধরতে পারিনি। ওভারঅল আমার কাছে চমৎকার এক সুখপাঠ্য বই ছিলো ভেন্ট্রিলোকুইস্ট। রেটিংঃ ৮.৫/১০

Zakaria Minhaz 2022-01-21 20:59:50

বইটা যে দারুন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। তবে কিছু জিনিস একটু খারাপ লেগেছে তা বলতেই হয়। সুন্দর একটা প্লট কিন্তু বইটার শুরুটা খাপছাড়া! মনে হয়েছে লেখক শুরু থেকেই খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিলেন। একটা বিয়ের অনুষ্টানের মাধ্যমে গল্পটার শুরু কিন্তু একদম মনেই হয়নি যে তারা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছিল।যাস্ট কোনোরকমে গল্পটা শুরু করতে পারলেই হলো এমনটা মনে হয়েছে! যদিও পরে আর সেরকম কিছু করেন নি লেখক। যে ব্যাপার বেশি ভালো লেগেছে এবং যার কারনে বইটাকে দারুন বলা সেটা হলো বইটার হিউজ পরিমাণ তথ্য এবং সে সবকে উপস্থাপনার সাবলীলতা। প্রতিটা ভালো বই শেষ করার পর আমার অনুভূতি হয় কি পড়লাম এটা!? ‘ভেন্ট্রিলোকুইস্ট’ বইটাও তার ব্যাতিক্রম নয়। দ্রুত শুরুর কারনে গল্পটায় ডুবে যেতে একটু সময় লেগেছে বটে তবে শেষ করার পর দারুন একটা অনুভূতি হয়েছে।

Shahriar Inam 2022-01-21 14:37:32

দেশের সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক মানের থ্রিলারধর্মী উপন্যাস আগে একটা সময় ছিলো যখন আমরা ড্যান ব্রাউন, জেমস রলিন্স এর বই পড়তাম আর মনের মধ্যে, নিজের পাঠকসত্তার আড়ালে আমাদের এক আক্ষেপ থেকে যেত যে , ‘ ইশ! বাংলাদেশি লেখকরা এরকম বই কবে লেখবে!’ সম্ভবত বেশির ভাগ দেশিয় পাঠকদের মধ্যে এরকম এক আক্ষেপ একটু হলেও কাজ করেছিল। তবে সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়েই থেকে যাবে। কারণ লেখক মাশুদুল হক এর ভেন্ট্রিলোকুইস্ট উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই একদল থ্রিলার পাঠক বুঝে গিয়েছিল যে এবার অন্যরকম কিছু একটা হবে! Something very crazy! Very amazing! ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বইটা আমার কাছে একটু বেশিই স্পেশাল। এমন নয় যে এই বই আমার জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠ বই! হ্যাঁ, বইটা অবশ্যই আমার প্রিয় বইগুলির মধ্যে একটা, তবে প্রিয় বই তো আরও অনেক আছে। এই বইটা আমার কাছে বেশি স্পেশাল, কারণ এই বইয়ের মাধ্যমেই আমি মৌলিক থ্রিলার পড়া শুরু করেছিলাম। এর আগে থ্রিলার উপন্যাস তেমন একটা পড়তাম না। পড়লেও বিদেশিগুলো পড়তাম। বাংলাদেশি লেখকদের থ্রিলার উপন্যাস পড়াটা আমার এই বই দিয়েই সূচনা হয়। থাক ভূমিকার কথা বাদ দিলাম এবার। সাধারণত বই রিভিউ যারা পড়ে তাদের চোখ থাকে ৪টি বিষয়ের উপরে। ১) কাহিনী সংক্ষেপ ২) বইয়ের ভালো দিক ৩) বইয়ের খারাপ দিক ৪) রেটিং তবে আজকে আমার রিভিউয়ে আমি এক নং বিষয় নিয়ে কোনো আলাপ আলোচনা করতে চাই না। কারণ বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ১৯১। এরকম ছোট্ট একটি বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা বাতুলতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, একেবারে প্রথম ১০ পৃষ্ঠার মধ্যেই লেখক আপনার পাঠক সত্তায় এমন এক হুক তৈরি করবেন যার রেশ থেকে যাবে একেবারে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। আপনি যদি ইনফরমেটিভ থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তাহলে আপনি একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টোতেই থাকবেন, এবং এক সময় আবিষ্কার করবেন যে আপনি বইয়ের একেবারে শেষের দিকে এসে পড়েছেন। সুনিপূণ ঠাসবুনোটের গাঁথুনিতে আগাগোড়া টানটান উত্তেজনার এই বহুমাত্রিক থ্রিলার উপন্যাসের প্রধান চরিত্র চারটি- নৃতাত্ত্বিক মারুফ, দৈনিক পত্রিকার ফিচার লেখক রুমী, ভেন্ট্রিলোকুইস্ট শওকত এবং মনো-গবেষক ডাঃ রুশদী। আরো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাসান এবং মিলি। প্রত্যেকটি চরিত্র নিজ নিজ জায়গা থেকে সেরা ছিল। লেখক অনেক দক্ষতার সাথে চরিত্রগুলো ডেভেলপ করেছেন। কোন পরিণতিতে তারা কিভাবে রিয়েক্ট করবে তা ছিল পুরোপুরি ম্যাচিউরড ও বাস্তবসম্মত। আর চরিত্রগুলোর সংলাপ এর মধ্যেও লেখকের maturity এর স্পষ্ট আভাষ পাওয়া গেছে।

Muhtasim Hasan 2022-01-16 19:34:38

Nice book.

Zerin 2021-10-12 14:02:43

ADD A REVIEW

Your Rating


content title
Loading the player...