রাত গভীর হয়েছে। নীলুর থাকার ঘরের জানালা দিয়ে চাঁদের আলো বিছানার ওপর আছড়ে পড়েছে। সঙ্গে মৃদুমন্দ বাতাসের হালকা পরশ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে তাহসান সৃষ্টিকর্তার এই দানটুকু নয়নভরে দেখতে পেল। এমন সময় নীলু জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে রুমে ঢুকল। এখন জোছনার আলোয় প্রদীপের মতো নিবু নিবু মোমবাতির আলো নিতান্তই ম্লান হয়ে গেল। জোছনার আলোর সঙ্গে তাহসান তার মনের আলো মিশিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, নীলু প্রতিমার মতো গভীর মায়াভরা কালো চোখে তার দিকে চেয়ে আছে। হাসনাহেনার পাগল করা সুবাস আবার বইতে শুরু করেছে। জোছনার আলো, হেনা ফুলের সুবাস আর নীলুর মায়াভরা মুখখানি একসঙ্গে মিশে গিয়ে এই নির্জন কক্ষটি আজ যেন স্বপ্নরাজ্যেরই একটুকরা অংশ হয়ে গেল। তাহসান মনে মনে ভাবে, এই মধুময় পরিবেশে নীলুর মতো একজন মানবীর সঙ্গে একই কক্ষে হাজার বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়। কে জানে কিসের টানে, কিসের মোহে দুটি প্রাণ আজ এত পাশাপাশি, কাছাকাছি চলে এসেছে! তাহসানের রঙিন ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কোত্থেকে যেন দমকা হাওয়ায় ভেসে একখণ্ড চাপা কষ্ট এসে তার মনটাকে উদাস করে দিল। বারবার তাহসানের মনে হলো, এখানে সে এক রাতের অতিথি ছাড়া আর কিছুই না।

উইং কমান্ডার ড. তাবারক হোসেন ভূঁঞা, পিএসসি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস্ কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুরের একজন গ্রাজুয়েট। তিনি ১৯৮৭ সালে ২৯ ডিসেম্বর বিমান বাহিনী একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হয়ে কমান্ড্যান্ট’স ট্রফি অর্জনপূর্বক কমিশন প্রাপ্ত হন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৪.০ এর মধ্যে ৪.০) পেয়ে চ্যান্সেলর’স স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিস অনুষদ থেকে তিনি এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ল’ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল প্রফেশনাল এলএলএম ডিগ্রিও অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ ফ্যাকাল্টি থেকে তিনি ইন্টারন্যাশনালী ট্রেইনড্ লইয়ার’স প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। তাছাড়া তিনি ব্যারিস্টার এবং সলিসিটর হিসেবে ল’ প্র্যাকটিসের জন্য কানাডার ফেডারেশন অব ল’ সোসাইটিজ-এর ন্যাশনাল কমিটি অন অ্যাক্রেডিটেশন (এনসিএ) থেকে সার্টিফিকেট অব কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এন্ড ইকনমিক্স্ অনুষদের একজন খণ্ডকালীন অধ্যাপক। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ প্রোগ্রামে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ও দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে। ১৯৬২ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় লেখকের জন্ম।তাবারক হোসেন নামে তিনি লেখালেখি করেন।

Ahammed Nibir 2021-06-13 12:06:21

বইয়ের এই লাইন টা হাইলাইট করে রেখেছি- স্বামী-স্ত্রীর বড় ধর্ম বিশ্বাস। বিশ্বাস করে অবিশ্বস্ত স্বামীকেও ছেড়ে দিলে বিবেকের তাড়নায় সে বিশ্বস্ত হয়ে ফিরে আসবে।

Tariq Iqbal 2021-06-12 15:22:55

পরকীয়া প্রেম নিয়েও যে সুন্দর- সাবলিল গল্প লিখা যায় এই বই পড়ে বুজলাম। সত্যি বলতে উপন্যাসের কাহিনি পড়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। লেখকের জন্য ভালোবাসা।

Rejwan Khan 2021-06-12 10:48:47

Ei boita porte jeye onek question mone asche. Extra marital affair e manush ashole keno joray? Shudhui ki need naki addiction or unhappiness.. kichu jaygay mone hoyeche Tahsan er character ta k aro bhalo moto explain kora jeto. Overall, bhalo legeche boita.

Mahbubul Alam 2021-06-10 02:45:04

Tahsan ki asholei porokiyay ashokto? Ar or stree Taslimai ba ki chay? Emon onek proshno niye boita sesh kori. Aar beshi kicu bolle spoiler hoye jabe tai pathokder pore dekhai valo. Chomotkar legeche Ekratri uponnashti.

Ratul Islam Roni 2021-05-13 18:38:56

Ekratri uponnashe Tahsaner shanti nei, karon tar stree take shondeho kore ar mone kore Tahsan onno narir tane tar proti udashin hoye geche. Strir shondeher provab Tahsaner Office er kormider upor o pore. Emon shongshar hoyto ache amader pasher flat ei. Amrai keo hoyto Tahsan.. Tai noy ki?!

Abu Sayed 2021-05-11 17:27:31

‘একরাত্রি’ উপন্যাসে এইযুগের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা "সন্দেহ আর পরকীয়ার" দৃশ্য তুলে ধরেছে। সংসারের অশান্তি, পরকীয়ার টানে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উদাসীনতা। তাবারক হোসেনের লেখা আগে পড়িনি তবে পড়ে বেশ ভালো লাগলো।


Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected