Chander Pahar

চাঁদের পাহাড়

Product Summery

কাহিনী গড়ে উঠেছে এক বাঙালি অভিযাত্রীকের ওপর ভিত্তি করে, যিনি ১৯০৯-১৯১০ সাল নাগাদ আফ্রিকা যান। শঙ্কর রায় চৌধুরী, এই গল্পের নায়ক, গ্র্যাজুয়েশন করার পর পাটকলে চাকরি নেন। কিন্তু তিনি রোমাঞ্চ খোঁজেন। গ্রামের এক অধিবাসী, যে আফ্রিকায় কাজ করে, তার সহায়তায় শঙ্কর আফ্রিকায় ক্লার্ক হিসেবে কাজ নেন এবং উগান্ডা রেলওয়েতে চাকরি পান। কর্মসূত্রে বিভিন্ন পরিক্রমায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ভয়ঙ্কর জীবনঘাতী সব অ্যাডভেঞ্চারে।

Tab Article

কাহিনী গড়ে উঠেছে এক বাঙালি অভিযাত্রীকের ওপর ভিত্তি করে, যিনি ১৯০৯-১৯১০ সাল নাগাদ আফ্রিকা যান। শঙ্কর রায় চৌধুরী, এই গল্পের নায়ক, গ্র্যাজুয়েশন করার পর পাটকলে চাকরি নেন। কিন্তু তিনি রোমাঞ্চ খোঁজেন। গ্রামের এক অধিবাসী, যে আফ্রিকায় কাজ করে, তার সহায়তায় শঙ্কর আফ্রিকায় ক্লার্ক হিসেবে কাজ নেন এবং উগান্ডা রেলওয়েতে চাকরি পান। কর্মসূত্রে বিভিন্ন পরিক্রমায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ভয়ঙ্কর জীবনঘাতী সব অ্যাডভেঞ্চারে।

Tab Article

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর পৈত্রিক নিবাস উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ’র বারাকপুর গ্রামে। ছেলেবেলাতেই তাঁর বাবাকে হারান। ১৯১৪ সালে প্রথম বিভাগে এনট্রান্স, ১৯১৬ সালে কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে প্রথম বিভাগে আই.এ, ১৯১৮ সালে ডিস্টিংশনসহ বি.এ পাশ করেন। ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘আরণ্যক’, আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘ইছামতী’, ‘চাঁদের পাহাড়’ প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। সত্যজিতের ‘অপরাজিত’ এবং ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্র দুটিও বিভূতির উপন্যাস অবলম্বনে। ১৯৫১ সালে ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন।

ADD A REVIEW

Your Rating

3 REVIEW for চাঁদের পাহাড় !

অসাধারণ।

Salman Hasan 2022-08-14 22:05:47

ভূমিকা : কিছু মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা যেন হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্নের চেয়েও রোমহর্ষক। এমনই কিছু রোমহর্ষক ঘটনা আমরা দেখতে পাই "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসে। এই উপন্যাসে বিবৃত হয়েছে আফ্রিকার বিভিন্ন বিপদসংকুল স্থানের বর্ণনা। আফ্রিকায় না গিয়েও যে আফ্রিকার বিপদসংকুল অরণ্যের এমন নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া সম্ভব, লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার একটি দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাস রচনার মাধ্যমে। কাহিনি সম্পর্কে সম্যক ধারণা : অজ পাড়াগাঁয়ের শিক্ষিত বেকার যুবক শঙ্করকে নিয়ে গড়ে উঠেছে "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসের কাহিনি। সংসারে শঙ্করের অভাব অনটন লেগেই থাকে। সেই সাথে তার বাবার অসুস্থতা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। সংসারের হাল ধরার জন্য শঙ্করের মা শঙ্করকে পাটকলে চাকুরি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু, যে ছেলে দেশ-বিদেশ পরিব্রাজন করার স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করে রেখেছে, তাকে কি সংসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখা সম্ভব? সঙ্কর এমনই একজন ছেলে যে, বিপদের নেশায় পথে পথে ঘুরে বেড়াতেই জীবনের পরম আনন্দ খুঁজে পায়। স্বপ্ন দেখে একদিন সে আফ্রিকায় অবস্থিত মাউনটেন অফ দি মুন বা চাঁদের পাহাড় জয় করবে। তাই তো তাকে সংসার বন্ধনে আটকে রাখা যায়নি। প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নামের একজন ব্যক্তির সাহায্যে শঙ্কর আফ্রিকায় পাড়ি জমায়। সেখানে সে একটি চাকরি নেয়। সেখানে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সে আফ্রিকার ভয়ংকর সাপ কালো মাম্বার মুখোমুখি হয়। এছাড়া সেখানে সিংহের দর্শনও লাভ করেছিল সে। তখন শঙ্কর ছিল সম্পূর্ণ একা। এমন অবস্থায় এসব হিংস্র জীবজন্তুর মুখোমুখি হওয়াটা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটার রোমহর্ষক চিত্র আমরা অবলোকন করতে পারি এই "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসে। এরপর ঘটনাচক্রে শঙ্কর দেখা পায় ডিয়েগো আলভারেজ নামের একজন পর্তুগিজ ব্যক্তির সাথে। ডিয়েগো আলভারেজের জীবনে রয়েছে দুঃসাহসিক অভিযাত্রা করার বাস্তব অভিজ্ঞতা, যা তিনি শঙ্করকে শোনান। ডিয়েগো আলভারেজ নামের এই ব্যক্তির সাক্ষাৎ যেন শঙ্করের জীবনের মোড় পাল্টে দেয়। শঙ্কর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ডিয়েগো আলভারেজের সাথে বেরিয়ে পড়ে অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশে। এরপর উপন্যাসে ডিয়েগো আলভারেজ এবং শঙ্করের দুঃসাহসিক যাত্রার রোমহর্ষক বর্ণনা বিবৃত হতে থাকে। বিবৃত হয় বুনিপ নামের এক ভয়ঙ্কর জন্তুর কথাও। এভাবে উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ এগিয়ে যেতে থাকে পরিণতির দিকে। উপন্যাসের একদম শেষ পর্যায়ে এসে জানা যায়, শঙ্করের সেই আকাঙ্ক্ষিত চাঁদের পাহাড় জয় করতে পেরেছিল কি না। চরিত্রসমূহ : "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র হিসেবে আমরা দেখতে পাব শঙ্করকে। শঙ্করের সাথে অনেকটা অংশ জুড়ে দেখা যাবে ডিয়েগো আলভারেজকে। এছাড়া মাদ্রাজি কেরানি তিরুমল আপ্পা, ব্রিটিশ অভিযাত্রিক জিম কার্টার, ইতালিয় অভিযাত্রীক আত্তিলিও গাত্তি সহ আরও কয়েকজনের কথা সীমিত পরিসরে উঠে এসেছে উপন্যাসে। উপন্যাসের নায়ক শঙ্কর অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সাহসী এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। গ্রামে থাকাকালীন শঙ্কর সাঁতারে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া গাছে ওঠা, ঘোড়ায় চড়া এবং বক্সিংয়েও সে ছিল অত্যন্ত নিপুণ। পড়াশোনায় খুব তুখোড় না হলেও নিজ উদ্যোগে ভূগোল শাস্ত্রে সে বেশ দক্ষতা অর্জন করে ফেলেছিল। শঙ্কর ভূগোলের বই পড়তে খুব পছন্দ করত। সুযোগ পেলেই সে রাজ্যের মানচিত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করত। উপন্যাসে শঙ্করের কষ্ট সহিষ্ণুতারও পরিচয় আমরা পাই। রিখটারসভেল্ড পার হওয়ার সময় আলভারেজ নিরলস হেঁটেই চলেছে। কিন্তু শঙ্কর হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তবুও সে বিশ্রাম নিতে চায়নি। যতই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ুক, নিরবচ্ছিন্ন হেঁটে চলার জন্য শঙ্কর ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভূগোল শাস্ত্রের উপর শঙ্করের মেধা এবং তার সাহস ও কষ্টসহিষ্ণু বৈশিষ্ট্যের কারণে দুঃসাহসিক যাত্রায় অগ্রসর হতে পেরেছিল শঙ্কর। তাই বলা যায়, শঙ্কর নামের এই চরিত্রটি উপন্যাসকে সার্থক করে তুলেছে। অন্যদিকে উপন্যাসে ডিয়েগো আলভারেজ নামের চরিত্রটি আবির্ভূত হওয়ার কারণে উপন্যাসটি যেন পূর্ণতা লাভ করেছে। অ্যাডভেঞ্চারের উপর আলভারেজের ছিল ভালোবাসা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে আলভারেজ শঙ্করের সাথে উপন্যাসের দারুণভাবে মিশে গিয়েছিলেন। তাছাড়া, শঙ্করের অ্যাডভেঞ্চারের উপর ভালোবাসা ও পুঁথিগত বিদ্যা থাকলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না। আলভারেজ যদি তার অ্যাডভেঞ্চারে সঙ্গী না হতো, তাহলে শঙ্করের যাত্রা আরও বেশি কঠিন হয়ে যেতে পারত। সেই সাথে উপন্যাসটির কাহিনিও যেন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকত। লেখন-শৈলী : "চাঁদের পাহাড়" নামের এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ১৯৩৮ সালে। কিন্তু বইটির ভাষা এতটাই প্রাঞ্জল এবং আধুনিক যে, পাঠকের মনে হবে যেন সাম্প্রতিক সময়ে বইটি রচিত হয়েছে। তাছাড়া, বইটিতে আফ্রিকা মহাদেশের বর্ণনা পড়ে পাঠকের মনে হতে পারে লেখক হয়তো বইটি অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ করেছেন নতুবা অন্য ভাষার কোনো বইয়ের ছায়া অবলম্বনে বইটি রচনা করেছেন। পাঠকের এমন অনুভূতি সঞ্চার হওয়া মোটেও অমূলক নয়। কারণ, "চাঁদের পাহাড়"-এর মতো এমন অ্যাডভেঞ্চার জনরার বই বাংলা ভাষায় খুব একটা রচিত হয়নি বললেই চলে। তবে আশ্চর্য হলেও সত্য, উপন্যাসের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কল্পনা থেকেই সৃষ্টি করেছেন "চাঁদের পাহাড়" নামের এই কালজয়ী উপন্যাস। এমনকি লেখক কখনো আফ্রিকাতেও গমন করেননি। তারপরও তিনি যত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে আফ্রিকার দৃশ্যপট বর্ণনা করেছেন যে, আফ্রিকা থেকে ঘুরে এসে কেউ এত সুন্দর বর্ণনা দিতে পারবে কি না সন্দেহ। ব্যক্তিগত অনুভূতি : একটা উপন্যাস তখনই সার্থকতা লাভ করে, যখন সেটি পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করে। সেদিক বিবেচনায় "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসটি সার্থকতা লাভ করেছে বলেই মনে করি। শঙ্কর যখন দুঃসাহসিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল, তখন আমার মনে হচ্ছিল শঙ্করের স্থানে যেন আমি রয়েছি। আমি নিজেই যেন বিচরণ করছি বিপদসংকুল পথে। কখনো দুঃসাহসিক মুহূর্তে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছি। আবার কখনো শঙ্করের কষ্টে আমিও বেদনাকাতর হয়েছি। এভাবেই উপন্যাসটির সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম আমি। রুদ্ধশ্বাসের শেষ করেছি পুরো উপন্যাসটি। উপসংহার : সংসার বন্ধনের মধ্যে আবদ্ধ না হয়ে বরং বিপদসংকুল পথে সাহসের সাথে এগিয়ে চলার মধ্যে রয়েছে জীবনের সার

সাইক 2022-01-13 11:44:23

বইটি যেন স্বর্গ থেকে আনা। এতো সুন্দর বই।ভাগ্য ভাল বাংলাদেশি হয়ে জন্মেছি নাহলে এটি কখনো পড়তে পারতাম না

Mamunur Rashid Toha 2022-01-11 22:16:01

এ রকম আরও বই