নীতিবাদী সাহিত্যিক শেখ ফজলল করিম তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্ম ও নীতিশাস্ত্র বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ইসলাম ধর্মের আলোকে মুসলমানদের মধ্যে আদর্শ জীবনযাত্রা এবং নীতি-উপদেশ শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। তবে তিনি সমকালের জীবন-যন্ত্রণা ও সমাজ-সমস্যার কথা উপেক্ষা করেননি। বিশেষত মুসলিম সমাজের নানা দুঃখ-দুর্দশা তাঁর মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। লেখক মাতৃভূমি রক্ষার জন্য যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিকদের অস্ত্রত্যাগ না করে যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছেন; যা “রণ-ভেরী” রচনায় বর্ণিত হয়েছে।

শেখ ফজলল করিম একাধারে কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্য সম্পাদক। ১৮৮২ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর কাব্যভাবনা ও সাহিত্যসাধনা প্রধানত ধর্মীয় বোধ ও নীতি-চিন্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি ইসলাম ধর্মের আলোকে মুসলমানদের মধ্যে আদর্শ জীবনযাত্রা এবং নীতি-উপদেশ শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। তবে তিনি সমকালের জীবন-যন্ত্রণা ও সমাজ-সমস্যার কথাও উপেক্ষা করেননি। বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় বাসনা পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন: ‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক,/ কে বলে তা বহু দূর,/মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক,/ মানুষেতে সুরা-সুর।’ শেখ ফজলল করিমের রচিত গ্রন্থসমূহ হলো- সরল পদ্য বিকাশ, তৃষ্ণা, পরিত্রাণ, ভগ্নবীণা, প্রেমের স্মৃতি, ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি, পথ ও পাথেয়, গাথা ইত্যাদি। ১৯৩৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected