বড় লেখকদের ছেলেবেলার কথা লেখার একটা রেওয়াজ আছে। আমি জানি, আমি খুব বড় লেখক নই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই আমি বড় লেখকদের নানাভাবে অনুসরণ করে আসছি। আমার এই গ্ৰন্থরচনা সেই অনুসরণবিদ্যারই একটি ফসল। অনেক আগেই এ-গ্ৰন্থ আমি লিখতে পারতাম, হয়তো পরেও এ-গ্ৰন্থ লেখা যেতো। আগে লিখিনি, এই গ্রন্থের প্রকাশক পাবো, এমন বিশ্বাস নিজের মধ্যে সৃষ্টি হয় নি বলে; আরো পরে লেখার ঝুঁকি নিইনি, নিজের পরমায়ুর ওপর আগের মতো আস্থা নেই বলে। তাছাড়া, বিয়াল্লিশ বছরকে আমি একজন লেখকের জন্য যথেষ্ট বয়স বলেই মনে করি। ইতিমধ্যেই আমার স্মৃতি লোপ পেতে শুরু করেছে। আমি অপেক্ষা করব কোন্ ভরসায়।

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় এক নাম। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রচুর গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতার বিষয়সমূহকে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। তার নারীপ্রেমের কবিতাগুলোয় ভারতীয় উপমহোদেশীয় ড্রামাটিক আবেগ-অনু্ভূতির প্রকাশ হয়েছে নান্দনিক রূপে। তিনি তার কবিতায় দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিরল। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তার অসাধারণ কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কেমন করে আমাদের হলো’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সৃষ্টি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলি হলো, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার পেয়েছেন।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected