ছুটির দুপুরে ক্লাবের আড্ডা তখন জমজমাট। কেউ বই পড়ছে অলসভাবে, কেউ ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ, চলছে ব্যায়ামের জন্য আরো যন্ত্রপাতি আনার আলোচনা, সাথে ঠাট্টা-মশকরা আর এক-আধটু বাঁদরামোও। এর মধ্যেই সান্টু গলা নামিয়ে রকিকে বল্লো, ওস্তাদ তোমার সীসপিয়া তুমি যাকে ডাকো লীলা বলে তিনি সব লীলাখেলা শেষ করে পরের বাড়ি চলে যাচ্ছেন। রকির ভাই রসি বলে উঠল, আমার ভাই গত এক বছর থেকে মজনু। লায়লীর কোনও রাইট নেই তাকে ত্যাগ করার বা দাগা দেবার। সেদিকে কান নেই রকির, স্বপ্ন দেখছিল সে- বিয়ের পর চলে যাবে ইটালিতে। পাহাড় আর ঝর্ণার ধারে ছোট্ট এক ভিলায় কফির পেয়ালা মুখোমুখি রেখে লীলা আর সে। সে আর লীলা। সে স্বপ্ন কি ভেঙ্গে যাবে এবার?

বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ১৯৩৫ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন তিনি। তবে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের কন্যা হওয়ায় বিদ্যালয়ের গণ্ডির পর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিধি-নিষেধের বেড়াজাল ডিঙিয়ে তিনি লেখক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘মধুমতী’ তাঁতী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনের দুঃখগাঁথা নিয়ে রচিত। লেখালেখি ছাড়াও সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতাও করেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন আরও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে। একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই লেখিকা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো সাহেব বাজার, অনন্ত অন্বেষা, রাজারবাগ শালিমারবাগ, মন এক শ্বেত কপোতী, দিবস রজনী প্রভৃতি।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected