1
আলোক আকাশের মা - তিলোত্তমা মজুমদার
32:25
1
আলোক আকাশের মা - তিলোত্তমা মজুমদার
32:25

আলোক এবং আকাশ ছিলেন ডাক্তার আনন্দরূপ এবং বাণী দেবীর দুই কৃতি, মেধাবী পুত্র সন্তান, যাঁরা সমাজের নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে, সত্তরের ছাত্র আন্দোলনে সামিল হন এবং অকালেই সেই আগুনে হারিয়ে যান চিরতরে। সন্তান হারানোর নিদারুন শোক বুকে নিয়ে আনন্দরূপ এবং বাণী, দুই জীবন্ত লাশে পরিণত হন এবং বর্তমানের কায়িক অস্তিত্ব ভুলে স্মৃতির আবর্তে তলিয়ে যান। সর্বগ্রাসী সেই হাহাকারের মধ্যে শুধু জেগে থাকে একটাই প্রশ্ন - মনুষত্বের দাবিতে দুই নবীন প্রাণের আত্মত্যাগের কেন হবে এই নিদারুন পরিণতি? তাঁদের নির্বাক প্রশ্ন সমাজের সেই মানুষ্য শ্রেণীর প্রতি - যা পরাভূকের মতন উৎসর্গীকৃত প্রাণের বালিদানে বলীয়ান, কিন্তু যারা সেই চরম আহুতির কথা মনে রাখেনি কোনোদিন। আনন্দরূপ জীবন বিমুখ হলেন, সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করে ক্রমে ছেড়ে দিলেন তাঁর সঙ্গতির সকল উপায়; এর পরিসামাত্তি এলো চরম দারিদ্র তাড়িত মৃত্যুর মধ্যে। হতদরিদ্র অবস্থায় ছেড়ে গেলেন স্ত্রী বাণী এবং তাঁদের কন্যা সন্তান - আভেরিকে। রূঢ় বাস্তবের কোলে লালিত হয়ে বড় হয় আভেরি এবং সেই বড় হওয়ার জীবনদর্শন তাকে শেখায় আত্মকেন্দ্রিকতা, যা তার মৃত সহোদরদের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। স্বকীয় বিচার বুদ্ধিতে আভেরির প্রতীত হয় তার ভাতৃদ্বয়ের বিচারবোধ, আদর্শবাদ নিছক অপরিমিত নির্বুদ্ধিতা, বাস্তবজ্ঞানহীনতা ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। জীবন আদর্শের এই সংঘাতের মধ্যেই, সহায় সম্বলহীন বাণী আশ্রিত হতে বাধ্য হলেন মেয়ে-জামাইয়ের বাসস্থানে। কিন্তু বাণীর হৃদয়ের মাঝে বেঁচে থাকলো তাঁর মৃত সন্তানদের অবিমিশ্র আদর্শবাদ। কিন্তু নিরাবেগ বাস্তবের সাথে অসম সম্মুখ সমরে আদর্শের শেষ পরিণতি কি হলো? জড়বাদী সমাজের এই মর্মস্পর্শী সামাজিক আলেখ্য শুনুন বইঘরে।

তিলোত্তমা মজুমদার উত্তর পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন ১১ জানুয়ারী, ‌১৯৬৬। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম উপন্যাস ‌'ঋ' একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশ হয়। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা- সবই লিখেছেন, খ্যাতি পেয়েছেন। তিনি আনন্দ পুরস্কার, শরৎ স্মৃতি পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননায় ভূষিত।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected