‘এবং প্যারিস’ মূলত এক মলাটে দুটি বই। দুটিই ভ্রমণ কাহিনী। একটি ‘গিমে পর্ব’, অন্যটি ‘এবং প্যারিস’। গিমে জাদুঘরের ইতিহাস, তার জন্মকথা ও কর্মকান্ড এবং মিউজিয়ামের ধারণা কীভাবে মানবজাতির মধ্যে এসেছে, তার জন্ম-ইতিহাস সম্পর্কে একটি বিশদ ধারনা পাওয়া যাবে বইয়ের প্রথম অর্ধাংশজুড়ে। ফিলিপ স্টার্নের রবীন্দ্ৰদৰ্শন কোথায় ঘটেছিলো, বুলনে আলবার্ত কানের ওই বাগানবাড়িতে, নাকি গিমের রবীন্দ্র-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে? এ রকম পুরনো কিছু প্রশ্নের মীমাংসা করারও চেষ্ট করা হয়েছে প্রথম অংশে। ‘এবং প্যারিস’ অংশে কবিকন্যা মৃত্তিকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দু’জনের অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা। এই পর্বটির বিশাল অংশ জুড়ে আছে ফরাসি বিপ্লব ও কবিকে লেখা অনেকগুলো চিঠি এবং তার জবাব। বইটি ভ্রমণপিয়াসী, জ্ঞানপিপাসু পাঠকের প্যারিস-আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় এক নাম। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রচুর গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতার বিষয়সমূহকে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। তার নারীপ্রেমের কবিতাগুলোয় ভারতীয় উপমহোদেশীয় ড্রামাটিক আবেগ-অনু্ভূতির প্রকাশ হয়েছে নান্দনিক রূপে। তিনি তার কবিতায় দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিরল। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তার অসাধারণ কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কেমন করে আমাদের হলো’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সৃষ্টি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলি হলো, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার পেয়েছেন।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected