Kandayer Pathe  Dosyu Bonhur

কান্দাইয়ের পথে দস্যু বনহুর

Product Summery

আজ বনহুরকে পেয়ে তাজ যেন আনন্দে আপ্লুত হলো। মুখ মাথা ঘষতে লাগলো সে বনহুরের শরীরের সঙ্গে। শুকতে লাগলো নাক দিয়ে বনহুরের গোটা শরীর। সম্মুখের পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগলো তাজ। বনহুরও তাজের মনোভাব বুঝতে পারলো- পিঠ ঘাড় নেড়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলো। তাজ যে সম্মুখের পা মাটিতে আঘাত করে প্রভুকে পিঠে উঠার জন্য ইংগিত করছে, বুঝতে পারলো বনহুর। বনহুর যখন তাজকে আদর করছিলো তখন রহমান দাঁড়িয়েছিলো তার পাশে। অদূরে দাঁড়িয়ে বনহুরের আদেশের প্রতিক্ষা করছিলো আরও কয়েকজন অনুচর। আজ সকলের মুখমণ্ডলই আনন্দোজ্জ্বল। শুধু আস্তানা আর অনুচরগণের মনেই খুশির জোয়ার বয়ে চলেনি, সমস্ত বনভূমি যেন আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠেছে। বসন্ত ফিরে এলে বসুন্ধরা যেমন নতুন রূপ ধারণ করে তেমনি বনহুরের আগমনে গাছের শাখায় শাখায় দোলা জাগলো, ফুল ফুটলো, বাতাস বইলো, ডালে ডালে পাখি গান গাইলো। বনহুরের মনেও যে খুশির দোলা লাগেনি তা নয়। বহুদিন তার পর তার মনে এক অফুরন্ত আনন্দ দ্যুতি খেলে যাচ্ছিলো, কিন্তু এতো খুশির মধ্যেও বনহুর সম্পূর্ণ তৃপ্তি অনুভব করছিল না। মনিরার কঠিন বাক্যগুলো তার হৃদয়ে প্রচণ্ড আঘাত হানছিলো। যতই সে ভুলে যাবার চেষ্টা করছিলো, ততই আরও বেশি করে মনে হচ্ছিলো মনিরার মুখখানা। এদিকে নূরীকে নিয়ে আর একটা বিভ্রাট শুরু হলো। আস্তনায় পৌঁছেই ‘আমার মনি কই, মনি কই’ বলে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললো।

Tab Article

আজ বনহুরকে পেয়ে তাজ যেন আনন্দে আপ্লুত হলো। মুখ মাথা ঘষতে লাগলো সে বনহুরের শরীরের সঙ্গে। শুকতে লাগলো নাক দিয়ে বনহুরের গোটা শরীর। সম্মুখের পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগলো তাজ। বনহুরও তাজের মনোভাব বুঝতে পারলো- পিঠ ঘাড় নেড়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলো। তাজ যে সম্মুখের পা মাটিতে আঘাত করে প্রভুকে পিঠে উঠার জন্য ইংগিত করছে, বুঝতে পারলো বনহুর। বনহুর যখন তাজকে আদর করছিলো তখন রহমান দাঁড়িয়েছিলো তার পাশে। অদূরে দাঁড়িয়ে বনহুরের আদেশের প্রতিক্ষা করছিলো আরও কয়েকজন অনুচর। আজ সকলের মুখমণ্ডলই আনন্দোজ্জ্বল। শুধু আস্তানা আর অনুচরগণের মনেই খুশির জোয়ার বয়ে চলেনি, সমস্ত বনভূমি যেন আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠেছে। বসন্ত ফিরে এলে বসুন্ধরা যেমন নতুন রূপ ধারণ করে তেমনি বনহুরের আগমনে গাছের শাখায় শাখায় দোলা জাগলো, ফুল ফুটলো, বাতাস বইলো, ডালে ডালে পাখি গান গাইলো। বনহুরের মনেও যে খুশির দোলা লাগেনি তা নয়। বহুদিন তার পর তার মনে এক অফুরন্ত আনন্দ দ্যুতি খেলে যাচ্ছিলো, কিন্তু এতো খুশির মধ্যেও বনহুর সম্পূর্ণ তৃপ্তি অনুভব করছিল না। মনিরার কঠিন বাক্যগুলো তার হৃদয়ে প্রচণ্ড আঘাত হানছিলো। যতই সে ভুলে যাবার চেষ্টা করছিলো, ততই আরও বেশি করে মনে হচ্ছিলো মনিরার মুখখানা। এদিকে নূরীকে নিয়ে আর একটা বিভ্রাট শুরু হলো। আস্তনায় পৌঁছেই ‘আমার মনি কই, মনি কই’ বলে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললো।

Tab Article

রোমেনা আফাজ প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তাঁর জন্ম বগুড়া জেলার শেরপুর থানায় ১৯২৬ সালে । তিনি ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের জন্য বাঙালি পাঠক সামজের কাছে বেশ পরিচিত। রোমেনা আফাজ লেখালেখি শুরু করেন শৈশব থেকেই। ছোটগল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা সিরিজ ও রহস্য সিরিজ রচনা করেছেন তিনি। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার মুখে অপরাধ ও অপরাধীদের রোমহর্ষক কথা শুনে রোমাঞ্চকর গল্পের প্রতি মোহ সৃষ্টি হয়। তার লেখা ‘দস্যু বনহুর’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর জন্যই তিনি বিখ্যাত হন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় রোমেনা আফাজকে।

ADD A REVIEW

Your Rating

0 REVIEW for কান্দাইয়ের পথে দস্যু বনহুর !

এই লেখকের আরও বই

এ রকম আরও বই