১৯১৪ সালে ‘বিরাজবৌ’ প্রকাশ পায়। একজন স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অসম্ভব শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি অনুরাগের এক আবেগী বহিঃপ্রকাশ এই উপন্যাস। দু’জন নারীকে এমন গুনবতী, মায়বতী ও কর্তব্যপরায়ণ হিসেবে উপন্যাসটিতে উপস্থাপন করে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লেখক।

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭৬ সালে হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এন্ট্রান্স পাসের পর দারিদ্রের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। বাংলাসহ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় তাঁর অনেক উপন্যাসের চিত্রনাট্য নির্মিত হয়েছে এবং সেগুলি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি চিত্রাঙ্কনেও দক্ষ ছিলেন। ‘মহাশ্বেতা’ তাঁর একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম। শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি। এরপর তিনি একে একে বহুল জনপ্রিয় বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য, পরিণীতা, পল্লীসমাজ, দেবদাস, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত, দত্তা, গৃহদাহ, দেনা-পাওনা, পথের দাবী ইত্যাদি রচনা করেন। ১৯৩৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected