সরল গদ্যে লেখা এই কাহিনি নিছক কল্পকাহিনি নয়। এক কল্পিত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় আন্তঃমানবিক নানা দিক উঠে এসেছে যুক্তির সিঁড়ি বেয়ে। এ গল্পে আছেন সুগত মণ্ডল নামে এক ‘প্রাচীনপন্থী’ সমাজবিজ্ঞানী, যিনি বলতে চান মানুষের জন্মক্ষেত্র হিসেবে কারখানা অপেক্ষা নারীগর্ভ উত্তম; যিনি গবেষণা করে দেখিয়েছেন গর্ভজাত নারী-পুরুষেরা কারখানাজাতদের চেয়ে উৎকৃষ্ট। এই তত্ত্ব প্রচারের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ, তাঁকে হত্যা করার জন্য পাঠানো হয় কিলার রোবট। গল্পে আরো আছে বায়োকেমিক্যাল চিপের কম্পিউটার, যে নিজেকে মহামতি সক্রেটিসের মতো প্রজ্ঞাবান বলে দাবি করে এবং মানুষের কাছে মানুষের সম্মান চায়। কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে আছে তমাল নামের এক কারখানাজাত যুবক আর শীলা নামের এক গর্ভজাত যুবতী। একজন সমকামী পুরুষ, একজন সমকামী নারী। কিন্তু দৈবক্রমে তমাল শীলার প্রেমে পড়ে যায়। শীলা তমালের প্রেমকে নিষিদ্ধ, অস্বাভাবিক, পাগলামিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করতে চায় কিন্তু পারে না। তার অজান্তে তমাল তার হৃদয় হরণ করে। লেসবিয়ান প্রবণতা লুপ্ত হয় শীলার। তার স্বপ্নে হানা দেয় পুরুষ।

১৯৬৬ সালে জয়পুরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। মস্কোর পাত্রিস লুমুম্বা গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে সাংবাদিকতা শুরু করেন। মশিউল আলমের লেখালেখির শুরু ৮০ দশকের মাঝামাঝি গল্প লেখা দিয়ে। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ 'রূপালি রুই ও অন্যান্য' গল্প। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'আমি শুধু মেয়েটিকে বাঁচাতে চেয়েছি' বের হয় ১৯৯৯ সালে। এর কাহিনী অবলম্বনে 'পলায়নপর্ব' নামে নির্মিত হয় ধারাবাহিক টিভিনাটক। ২০০২ সালে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'মাংসের কারবার' দেশের গল্পপাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 'তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত' মশিউল আলমের একটি বহুল আলোচিত উপন্যাস। '২০০৯' ও 'প্রিসিলা' নামে দুটি সামাজিক ফ্যান্টাসি উপন্যাসও তিনি লিখেছেন। মূল রুশ থেকে অনুবাদ করেছেন ফিওদর দস্তইয়েফস্কির উপন্যাস 'সাদা রাত'।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected