লেখক হিসেবে তিনি হিন্দু-মুসলমান সকলের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিতভাবে একটি সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদ নির্মাণ করতে সক্ষম হবে। এস. ওয়াজেদ আলীর রচনায় মার্জিত রুচি ও পরিচ্ছন্ন রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এ গ্রন্থে বিষয়গত কোনো ঐক্য নেই। দেশি ও বিদেশি, পূর্ব-পশ্চিমের বিভিন্ন বিষয়ের লেখা এ গ্রন্থে আছে বলেই এই গ্রন্থের নাম ‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’।

শেখ ওয়াজেদ আলি ছিলেন একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক। তিনি সমকালীন মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত একজন লেখক হিসাবে প্রতিপত্তি লাভ করেন। ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাশ করেন এবং ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এস. ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ‘অতীতের বোঝা’। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব। মননশীল চেতনা, ইতিহাস ও নীতিজ্ঞান এবং সত্য ও সুন্দরের মহিমায় তাঁর সাহিত্যকর্ম সমৃদ্ধ। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: প্রবন্ধ জীবনের শিল্প (১৯৪১), প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩), ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩), প্রভৃতি। ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected