দুর্গেশনন্দিনী সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। দুর্গেশনন্দিনী বঙ্কিমচন্দ্রের চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ বছর বয়সের রচনা। এই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না। কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং ইংরেজি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও এটি অনূদিত হয়।

বাংলা গদ্যের সম্রাট বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। তার হাতেই প্রথম বাংলা কথাসাহিত্য সাবালক হয়ে ওঠে। নিজস্ব চিন্তা ও সময়কালকে তিনি চিত্রিত করেছেন তার অসামান্য সব লেখায়। তিনি হুগলি কলেজে অধ্যয়নকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর ও সংবাদ সাধুরঞ্জনে লেখা শুরু করেন। তার অনেক লেখা এই দুই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পড়া শেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি সারা জীবন তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। কমলাকান্ত ছদ্মনামেও লিখতেন তিনি। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো- দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল,দেবী চৌধুরানী, আনন্দমঠ।

No review found

Write a review

    Bad           Good
content title
Loading the player...
Boighor

Stay Connected