Authors

Items Showing 1 to 24 from 30 Authors results

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের প্রথম প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থ ‘নেমেসিস’। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে পর পর চারটি সিক্যুয়েল (‘কন্ট্রাক্ট’, ‘নেক্সাস’, ‘কনফেশন’ ও ‘করাচি’) লিখতে হয়। সেগুলোও পায় ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘জাল’, ‘১৯৫২ নিছক কোনো সংখ্যা নয়’, ‘পেন্ডুলাম’, ‘কেউ কেউ কথা রাখে’ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ , ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেন নি’ প্রভৃতি। শেষের দুটি উপন্যাসের গ্রহণযোগ্যতা ঈর্ষণীয়, অভাবনীয়। এই সিরিজ তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করেছে পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলা পাঠকের কাছে। সফল অনুবাদক ও জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের আরেকটি পরিচয় হলো- তিনি বাতিঘর প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক। তার জন্ম ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বছর অধ্যয়নের পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তার সৃজনশীল সত্ত্বা বিকাশের উপযোগী আরেকটি বিষয় তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মৌলিক রচনার আগেই বাংলার পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন ভিনদেশী বিখ্যাত থ্রিলার অনুবাদ করার মধ্য দিয়ে।

শরীফুল হাসান

শরিফুল হাসানের জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তার শৈশব কেটেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শরিফুল হাসানের প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০১২ সাম্ভালা শিরোনামে। অন্য দুটি বইয়ের সাথে, এই মনোমুগ্ধকর ফ্যান্টাসি ট্রিলজি বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে এবং বাইরেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। সাম্ভালা ট্রিলজি ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হয়েছিল এবং সেটি প্রকাশিত হয়েছিল ভারত থেকে । সাম্ভালা ট্রিলজি (সাম্ভালা, সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা, সাম্ভালা শেষ যাত্রা), ঋভু, আঁধারের যাত্রী এবং কালি ও কলম ২০১৬ শিশু ও কিশোর সাহিত্যে পুরষ্কারপ্রাপ্ত অদ্ভূতুড়ে বইঘর তাঁর উল্লেখযোগ্য বই । এছাড়া বেশ কিছু গল্পসঙ্কলনে প্রকাশিত হয়েছে তার একাধিক ছোটগল্প। যদিও তাঁর সূচনা ফ্যান্টাসি এবং থ্রিলার দিয়ে, পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য বিভিন্ন ধারায় কাজ করেছেন। এই রচনাগুলিও বাংলাদেশী পাঠক সম্প্রদায় সাদরে গ্রহণ করেছে। তাঁর অনেক কাজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রকাশনা থেকেও প্রকাশিত হয়েছে।

ইন্দ্রজিৎ সরকার

জন্ম গাইবান্ধার মনদুয়ার গ্রামে। আজিজুল হক কলেজে পড়ার সুবাদে তারুণ্যের অর্ধযুগ কাটিয়েছেন বগুড়ায়। সেখানে নাটকের দল 'রোড থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন ২০০২ সালে। সম্পাদনা করেছেন ছড়ার কাগজ ‌'ছন্দ'। উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। পেশায় সাংবাদিক। লেখালেখি তার নেশা । এক দশক ধরে মূলত গল্প-উপন্যাস লিখলেও একসময় নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কবিতা লিখেছেন। পাশাপাশি লিখেছেন ছড়াও। তার ঝরঝরে গদ্যভাষা আর টানটান কাহিনিবিন্যাস পাঠককে নিবিষ্টচিত্ত করে রাখে। ইন্দ্রজিত সরকারের প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে আছে খুন করার পর তাকে ভালোবেসে ফেলি (উপন্যাস/২০২০), এইসব কাছে আসা (উপন্যাস/২০১৯), পতিত পুরুষ (উপন্যাস/২০১৮), ছোট মামার কাণ্ড (কিশোর গল্প সংকল্ন/২০১৭), বল্টুর ভয়ংকর অভিযান (কিশোর উপন্যাস/২০১৬), মানুষখেকোর জঙ্গলে গোয়েন্দা সপ্তক (কিশোর উপন্যাস/২০১৬), স্বর্ণমূর্তি উধাও রহস্য (কিশোর উপন্যাস/২০১৫), দস্যুর জঙ্গলে তোতন (কিশোর উপন্যাস/২০১৪), একা একা একাকার (উপন্যাস/২০১২), জেব্রাক্রসিংয়ের জন্য দুই মিনিট বিরতি (কবিতা/২০০৯) প্রভৃতি। ইন্দ্রজিৎ গাইবান্ধা ও বগুড়ার তিনটি আঞ্চলিক দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন। ঢাকায় সাংবাদিকতা করছেন ১৫ বছর। দীর্ঘদিন রয়েছেন দৈনিক সমকাল-এর অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে।

ড. তাবারক হোসেন

উইং কমান্ডার ড. তাবারক হোসেন ভূঁঞা, পিএসসি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস্ কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুরের একজন গ্রাজুয়েট। তিনি ১৯৮৭ সালে ২৯ ডিসেম্বর বিমান বাহিনী একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হয়ে কমান্ড্যান্ট’স ট্রফি অর্জনপূর্বক কমিশন প্রাপ্ত হন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৪.০ এর মধ্যে ৪.০) পেয়ে চ্যান্সেলর’স স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিস অনুষদ থেকে তিনি এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ল’ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল প্রফেশনাল এলএলএম ডিগ্রিও অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ ফ্যাকাল্টি থেকে তিনি ইন্টারন্যাশনালী ট্রেইনড্ লইয়ার’স প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। তাছাড়া তিনি ব্যারিস্টার এবং সলিসিটর হিসেবে ল’ প্র্যাকটিসের জন্য কানাডার ফেডারেশন অব ল’ সোসাইটিজ-এর ন্যাশনাল কমিটি অন অ্যাক্রেডিটেশন (এনসিএ) থেকে সার্টিফিকেট অব কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এন্ড ইকনমিক্স্ অনুষদের একজন খণ্ডকালীন অধ্যাপক। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ প্রোগ্রামে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ও দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে। ১৯৬২ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় লেখকের জন্ম।তাবারক হোসেন নামে তিনি লেখালেখি করেন।

শানারেই দেবী শানু

শানারেই দেবী শানু অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছেন। তার আরেকটি উপাধি ‘লাক্সতারকা’। এখন নিয়মিত লিখছেন কবিতা ও উপন্যাস। শানুর জন্ম ২২শে ফেব্রুয়ারি, সিলেটে। বাবা কবি এ. কে. শেরামের দেওয়া নাম, খুব পছন্দের। শানারেই, মণিপুরী শব্দ-মানে গাঁদা ফুল। শৈশবেই মণিপুরী নৃত্যে হাতেখড়ি, মা চন্দ্রা দেবীর হাত ধরে। স্বপ্নের ডানা মেলে বেড়ে ওঠা সিলেটের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির সাথে। পড়াশুনা সিলেট এম. সি. কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশ পায় ২০১৭ বইমেলায়। লেখালেখির প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে ‘সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার ২০১৭’ পান। এরপর আরও কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথম উপন্যাস ‘একলা আকাশ’-এর প্রকাশ। আর প্রথম শিশুতোষ বই ‘শানারেই ও তার জাদুর লেইত্রেং’-এর জন্য ‘মীনা মিডিয়া এওয়ার্ড ২০১৯’ অর্জন করেন। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আরও আছে লাল এপিটাফ, ত্রিভুজ, অসময়ের চিরকুট, একলা আকাশ।

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাংলা ভাষার জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক। তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক বলে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে তিনি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ তিন শতাধিক। হুমায়ূনের অনেক গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। রসায়ন বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই লেখক লেখালেখির খাতিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। তুমুল জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন মিসির আলী, হিমুর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বহু পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে একুশে পদক ও ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম। ২০১২ সালে তিনি প্রয়াত হন।

ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। গল্প, উপন্যাস ও নাটক এই তিন শাখাতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। ‘কিশোর বাংলা পত্রিকা’য় একটি শিশুতোষ গল্প লিখে তিনি সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। এপার-ওপার দুই বাংলায়ই তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাসের মধ্যে 'নূরজাহান' অন্যতম। এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, পরবাস, কালোঘোড়া, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, জীবনপুর, লিলিয়ান উপাখ্যান, কবি ও একটি মেয়ে, পর, সাড়ে তিন হাত ভূমি প্রভৃতি তাঁর অন্যতম রচনা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। ইমদাদুল হক মিলন ১৯৫৫ সালে বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৯৫২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রী নেন ১৯৮২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। একাধারে লিখে যাচ্ছেন উপন্যাস, ছোট গল্প, কিশোর উপন্যাস, কিশোর গল্প, শিশুতোষ গল্প, ভৌতিক গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক লেখা। তবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও কিশোর উপন্যাসগুলোর জন্য তিনি নবীন প্রজন্মের কাছে অসাধারণ জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে সুপরিচিত। লেখালেখির জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের আরেক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর বড় ভাই। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- রঙিন চশমা, অন্যজীবন, ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দীপু নাম্বার-টু ইত্যাদি।

রোমেনা আফাজ

রোমেনা আফাজ প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তাঁর জন্ম বগুড়া জেলার শেরপুর থানায় ১৯২৬ সালে । তিনি ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের জন্য বাঙালি পাঠক সামজে অতি পরিচিত। রোমেনা আফাজ লেখালেখি শুরু করেন শৈশব থেকেই। ছোটগল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা সিরিজ ও রহস্য সিরিজ রচনা করেছেন তিনি। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার মুখে অপরাধ ও অপরাধীদের রোমহর্ষক কথা শুনে রোমাঞ্চকর গল্পের প্রতি মোহ সৃষ্টি হয়। তার লেখা ‘দস্যু বনহুর’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর জন্যই তিনি বিখ্যাত হন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় রোমেনা আফাজকে।

সেলিনা হোসেন

সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন, ১৯৪৭, রাজশাহী শহর । পিতা এ কে মোশাররফ হোসেন রাজশাহী রেশমশিল্প কারখানার পরিচালক ছিলেন। মাতার নাম মরিয়মন্নেসা বকুল । পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান। ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা। সেই সময়ের লেখা নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থ 'উৎস থেকে নিরন্তর' প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তারপর উপন্যাস, গল্প, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, ভ্রমণসহ লেখালেখির নানাক্ষেত্রে তিনি বিচরণ করেছেন, করছেন। সেলিনা হোসেনের লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ, তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয় সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংকটের সামগ্রিকতা। বঙালির অহঙ্কার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করে। সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), একুশে পদক (২০০৯) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৮) অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৯৪-৯৫ সালে তিনি তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ রচনার জন্য ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। ২০১০ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট উপাধি পান। ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কানাড়ি, রুশ, মালে, ফরাসি প্রভৃতি ভাষায় তাঁর বেশ কয়েকটি গল্প অনূদিত হয়েছে ১৯৮৭ সালে 'হাঙর নদী গ্রেনেড এবং ১৯৮৩ সালে 'নীল মহূরের যৌবন' এবং ১৯৯৯ সালে টানাপোড়েন" উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ পায়। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ‘যাপিত জীবন এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নিরস্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস পাঠ্যসূচিভুক্ত।

নির্মলেন্দু গুণ

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় এক নাম। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রচুর গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতার বিষয়সমূহকে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। তার নারীপ্রেমের কবিতাগুলোয় ভারতীয় উপমহোদেশীয় ড্রামাটিক আবেগ-অনু্ভূতির প্রকাশ হয়েছে নান্দনিক রূপে। তিনি তার কবিতায় দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিরল। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তার অসাধারণ কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কেমন করে আমাদের হলো’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সৃষ্টি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলি হলো, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার পেয়েছেন।

আহসান হাবীব

কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের জন্ম সিলেটে। পাড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভূগোলে। তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুরের এসডিপিও হিসবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হন। পল্টু-বিল্টু, পটলা-ক্যাবলা তাঁর তৈরি কিছু বিখ্যাত কমিক্স চরিত্র। তিনি রম্য পত্রিকা ‘উন্মাদ’-এর সম্পাদক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘রাত বারোটার পরের জোকস’, ‘ফোর টুয়েন্টি ফোর আওয়ার জোকস’, ‘জোকস সমগ্র’, ‘৯৯৯ জোকস একটা ফাও’, ‘১০০১টি জোকস ১টি মিসিং’, ‘ভ্যালেন্টাইন জোকস’, ‘ভূত যখন Ghost', ‘বাছাই ভূত’ প্রভৃতি। তিনি ‘বাংলাদেশি কার্টুনের পিতা’, ‘গ্রান্ডফাদার অফ জোকস’ উপাধিতেও ভূষিত। তিনি তুরস্ক থেকে ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জা’ এবং ‘হাভানা পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন। তিনি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সর্বকনিষ্ঠ ভাই।

রাবেয়া খাতুন

বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ১৯৩৫ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন তিনি। তবে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের কন্যা হওয়ায় বিদ্যালয়ের গণ্ডির পর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিধি-নিষেধের বেড়াজাল ডিঙিয়ে তিনি লেখক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘মধুমতী’ তাঁতী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনের দুঃখগাঁথা নিয়ে রচিত। লেখালেখি ছাড়াও সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতাও করেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন আরও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে। একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই লেখিকা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো সাহেব বাজার, অনন্ত অন্বেষা, রাজারবাগ শালিমারবাগ, মন এক শ্বেত কপোতী, দিবস রজনী প্রভৃতি।

বাপ্পী খান

বাপ্পী খান এর জন্ম ১৬ই মার্চ, ১৯৮৭তে। বেড়ে ওঠা ঢাকা, বাংলাদেশেই। মূলত একজন মিউজিশিয়ান আর মিডিয়াকর্মী হিসেবেই তার মূল পরিচিতি। বই পড়াটাই সবচেয়ে বড় শখ, আর সে শখের বসেই লেখালেখিতে পদার্পণ। থ্রিলার, হরর আর অ্যাডভেঞ্চার তার পছন্দের জনরা। ২০১৭ তে বাতিঘর প্রকাশনীর থ্রিলার গল্প সংকলন ৪-এ তার ‘বুমেরাং’ এবং ‘প্রহেলিকা’ নামক দুটো গল্প স্থান পেয়েছিল। এরপর বাংলাদেশ-কলকাতা মিলিয়ে আরও বেশ কয়েকটি সংকলনে লিখেছেন পাঠকপ্রিয় কিছু গল্প। তার লেখা প্রথম নোভেলা ‘একা’ প্রকাশিত হয় ২০১৭ এর ডিসেম্বরে, কলকাতায়। এরপর বাতিঘর প্রকাশনী থেকে ২০১৮ সালে ‘নিশাচর’ এবং ২০১৯ সালে ‘হার না মানা অন্ধকার’ প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালে অন্ধকার সিরিজের দ্বিতীয় বই, ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’ প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ‘হার না মানা অন্ধকার’ ও ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’ এর কলকাতা সংস্করণ ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ এবং কলকাতার একাধিক গল্প সংকলন ছাড়াও ২০২১ সালের গ্রন্থমেলা ২০২১ এ প্রকাশিত হয়েছে অন্ধকার ট্রিলজির শেষ বই ‘কেটে যাক অন্ধকার’ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কিশোর অ্যাডভেঞ্চার নোভেলা ‘ক্ষ্যাপা’।

রেজা নুর

জন্ম, যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে, নানাবাড়িতে। পৈত্রিক নিবাস, ঝিকরগাছা’র বললা। মা : আনজুমান আরা ময়না, বাবা : আতিয়ার রহমান। পড়াশোনা : বললা প্রাইমারি স্কুল, রাজগঞ্জ হাই স্কুল, শার্শা পাইলট হাই স্কুল, যশোর এবং এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন ও আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ অনার্স ও মাস্টার্স। কম্পিউটারাইজড একাউন্টিং পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটির ‘ড্রেইক বিজনেস স্কুল’-এ। ঝিকরগাছা মহিলা কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কিছুকাল। ছাত্রজীবনে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন ধানমন্ডির ‘চিলড্রেন্স হোম প্রি-ক্যাডেট এ-হাই স্কুল’-এ। কবিতা লেখা, ইংরেজি থেকে অনুবাদ, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সমালোচনাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় রেজা নুর-এর বিচরণ। প্রকাশিত বই নয়টি : অপরূপা নীল নির্জনতায় (কাব্যগ্রন্থ, ২০০১); সন্ধ্যার ঘ্রাণ (উপন্যাস, ২০০৫); আমেরিকার সাম্প্রতিক কবিতা (অনুবাদ, ২০০৫); আমেরিকার সাম্প্রতিক কবিতা-২ (অনুবাদ, ২০০৯); বাংলা শেখা সহজ (ছোটদের বই, ২০০৯); উত্তরাধুনিক তিন কবি (প্রবন্ধ, ২০১২); একদিন কপোতাক্ষ ও অন্যান্য গল্প (গল্পগ্রন্থ, ২০১২); এই জল নদী ছিল (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৩); চেনা আগুন (উপন্যাস, ২০১৩)। সম্পাদিত সাহিত্যের কাগজ, অনুরণন। রেজা নুর ১৯৯৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে আমেরিকায় বসবাস করছেন। পাঁচ বছর নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়ায় থাকাকালে ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর স্টাফ রাইটার ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে, বসবাস করেন ম্যাসাচুসেটস্ স্টেইটের সাউথ ইসটন-এ।

সোলায়মান সুখন

১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন সোলায়মান সুখন। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও বাবার সামরিক বাহিনীর চাকরি সুবাদে দেশের বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন স্কুল আর কলেজে পড়ালেখা করেছেন। স্কুল জীবনে দেয়াল পত্রিকায় লেখালেখির শুরু। কলেজে বাস্কেটবল আর বিতর্কের ভক্ত ছিলেন। বিতর্ক আর উপস্থিত বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট লিখে দিতেন সহপাঠিদের। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০০ সালে নৌ কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন। যুদ্ধ জাহাজে টহল দেয়ার দিনগুলোতে নিয়মিত দিনপঞ্জিকা লিখতেন যা এখনো সযত্নে রেখে দিয়েছেন। ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। গত ১৪ বছরে কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় ও বিপনন নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি লেকচারার হিসেবে পড়িয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে ক্ষুদ্র ব্লগ ও ভিডিও ব্লগ শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সুখন দেশের অন্যতম শীর্ষ ভিডিও ব্লগার। এ পর্যন্ত তার অনুপ্রেরণামূলক ভিডিওর সংখ্যা ৩ শতাধিক, যা ৫ কোটিবারের বেশি দেখা হয়েছে ইন্টারনেটে। সোলায়মান সুখন দেশে ও বিদেশে প্রায় ৩৫০টি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সুইডেনভিত্তিক পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘জুটবর্গ’-এ তিনি গ্লোবাল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাম্বাসেডর। সংসার জীবনে তিনি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

Items Showing 1 to 24 from 30 Authors results

Boighor

Stay Connected