Authors

Items Showing 1 to 10 from 10 Authors results

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাংলা ভাষার জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক। তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক বলে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে তিনি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ তিন শতাধিক। হুমায়ূনের অনেক গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। রসায়ন বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই লেখক লেখালেখির খাতিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। তুমুল জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন মিসির আলী, হিমুর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বহু পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে একুশে পদক ও ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম। ২০১২ সালে তিনি প্রয়াত হন।

শানারেই দেবী শানু

শানারেই দেবী শানু অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছেন। তার আরেকটি উপাধি ‘লাক্সতারকা’। এখন নিয়মিত লিখছেন কবিতা ও উপন্যাস। শানুর জন্ম ২২শে ফেব্রুয়ারি, সিলেটে। বাবা কবি এ. কে. শেরামের দেওয়া নাম, খুব পছন্দের। শানারেই, মণিপুরী শব্দ-মানে গাঁদা ফুল। শৈশবেই মণিপুরী নৃত্যে হাতেখড়ি, মা চন্দ্রা দেবীর হাত ধরে। স্বপ্নের ডানা মেলে বেড়ে ওঠা সিলেটের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির সাথে। পড়াশুনা সিলেট এম. সি. কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশ পায় ২০১৭ বইমেলায়। লেখালেখির প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে ‘সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার ২০১৭’ পান। এরপর আরও কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথম উপন্যাস ‘একলা আকাশ’-এর প্রকাশ। আর প্রথম শিশুতোষ বই ‘শানারেই ও তার জাদুর লেইত্রেং’-এর জন্য ‘মীনা মিডিয়া এওয়ার্ড ২০১৯’ অর্জন করেন। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আরও আছে লাল এপিটাফ, ত্রিভুজ, অসময়ের চিরকুট, একলা আকাশ।

ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। গল্প, উপন্যাস ও নাটক এই তিন শাখাতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। ‘কিশোর বাংলা পত্রিকা’য় একটি শিশুতোষ গল্প লিখে তিনি সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। এপার-ওপার দুই বাংলায়ই তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাসের মধ্যে 'নূরজাহান' অন্যতম। এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, পরবাস, কালোঘোড়া, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, জীবনপুর, লিলিয়ান উপাখ্যান, কবি ও একটি মেয়ে, পর, সাড়ে তিন হাত ভূমি প্রভৃতি তাঁর অন্যতম রচনা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। ইমদাদুল হক মিলন ১৯৫৫ সালে বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে।

রাবেয়া খাতুন

বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ১৯৩৫ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার আরমানিটোলা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন তিনি। তবে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের কন্যা হওয়ায় বিদ্যালয়ের গণ্ডির পর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিধি-নিষেধের বেড়াজাল ডিঙিয়ে তিনি লেখক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘মধুমতী’ তাঁতী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনের দুঃখগাঁথা নিয়ে রচিত। লেখালেখি ছাড়াও সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতাও করেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন আরও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে। একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই লেখিকা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো সাহেব বাজার, অনন্ত অন্বেষা, রাজারবাগ শালিমারবাগ, মন এক শ্বেত কপোতী, দিবস রজনী প্রভৃতি।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৯৫২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রী নেন ১৯৮২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। একাধারে লিখে যাচ্ছেন উপন্যাস, ছোট গল্প, কিশোর উপন্যাস, কিশোর গল্প, শিশুতোষ গল্প, ভৌতিক গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক লেখা। তবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও কিশোর উপন্যাসগুলোর জন্য তিনি নবীন প্রজন্মের কাছে অসাধারণ জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে সুপরিচিত। লেখালেখির জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের আরেক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর বড় ভাই। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- রঙিন চশমা, অন্যজীবন, ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দীপু নাম্বার-টু ইত্যাদি।

লুৎফর হাসান

লুৎফর হাসান। বাড়ি ঝিনাই নদীর ধারে। সেটা নবগ্রামে। টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের এক নিঝুম গ্রাম। ঘুরেফিরে তার নানান লেখায় এই গ্রাম আর নদীই শাসন করে যায়। পড়ালেখা পাকুটিয়া স্কুল ও গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসায়। তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাস তাকে পাখি হতে শিখিয়েছিল। সেই থেকে উড়ালপনা। এক সময় ঢাকায়। সেটাও এক যুগেরও আগে। রাজধানীতে থিতু হতে গিয়ে বাসের হেলপারি করেছেন, ইটভাটায় কাজ করেছেন, থেকেছেন বুড়িগঙ্গার নৌকাতেও। করেছেন শিক্ষকতা। তারপর নানান পেশা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কখনও ডেস্কে বসে কাজ করেছেন। কখনও দেশ চষে বেড়িয়েছেন অনুষ্ঠান নির্মাণে। তারপর জীবনের ঘিঞ্জিতে ঝলমল করে গানের রোদ উঠে গেছে এক ফাঁকে। গেয়েছেন- ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো, ভাবনায় ডুবি ভাসি, যদি কান্না কান্না লাগে এবং আরও প্রায় দুই শতাধিক গান। লিখেছেন ও সুর করেছেন অর্ধ সহস্র গান। মূল পরিচয় গানে। তবুও আরাম পান লিখতেই। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, লিখছেন অনেক শাখাতেই। এ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে দেড় ডজন গ্রন্থ। ইনহাউস প্রোডাকশন, হেলেঞ্চাবতী, সগৌরবে চলিতেছে, ঝিনাইপাখি, ফেকুয়া, ঘাসফুল ও সন্ধ্যামালতীরা, আগুনভরা কলস, ঠিকানা রাত্রিপুর, নীল মলাটের গল্প, ডাকবাক্সের ডানা, তোমার খোলা পিঠে আমার আততায়ী মেঘ, মানিব্যাগ, সুতো ছাড়া সংসার, আয়না ভাঙা রোদ, লাল কাতানের দুঃখ, ভালোবাসার উনুনঘর, যে বছর তুমি আমি চাঁদে গিয়েছিলাম, দুপুর পাখি। লুৎফর হাসানের একমাত্র মেয়ে দুপুর। মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন, সে বড় হয়ে বলুক ‘বাবা, তোমার আর দুঃখ নেই, আমি বড় হয়ে গেছি, তোমাকে কে ভালবেসেছে, কে ভালোবাসে নাই, আর দুঃখ করো না।’

নির্মলেন্দু গুণ

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় এক নাম। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রচুর গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতার বিষয়সমূহকে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। তার নারীপ্রেমের কবিতাগুলোয় ভারতীয় উপমহোদেশীয় ড্রামাটিক আবেগ-অনু্ভূতির প্রকাশ হয়েছে নান্দনিক রূপে। তিনি তার কবিতায় দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিরল। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তার অসাধারণ কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কেমন করে আমাদের হলো’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সৃষ্টি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলি হলো, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার পেয়েছেন।

জীবনানন্দ দাশ

রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে তাঁর কবিতায়। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। তিনি ইতিহাসচেতনা দিয়ে তার কবিতায় অতীত ও বর্তমানকে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কসূত্রে বেঁধেছেন। তাঁর কবিস্বভাব ছিল অন্তর্মুখী, দৃষ্টিতে ছিল চেতনা থেকে নিশ্চেতনা ও পরাচেতনার শব্দরূপ আবিষ্কারের লক্ষ্য। জীবনানন্দের শব্দ বুননের নৈপুণ্য তুলনাহীন। কবিতাকে তিনি মুক্ত আঙ্গিকে উত্তীর্ণ করে গদ্যের স্পন্দনযু্ক্ত করেন, যা পরবর্তী কবিদের প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, প্রকাশকাল, বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। এছাড়াও রয়েছে বহু অগ্রন্থিত কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প। ১৯৫৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

Items Showing 1 to 10 from 10 Authors results

Boighor

Stay Connected