Authors

Items Showing 1 to 20 from 20 Authors results

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাংলা ভাষার জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক। তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক বলে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে তিনি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ তিন শতাধিক। হুমায়ূনের অনেক গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। রসায়ন বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই লেখক লেখালেখির খাতিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। তুমুল জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন মিসির আলী, হিমুর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বহু পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে একুশে পদক ও ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম। ২০১২ সালে তিনি প্রয়াত হন।

রোমেনা আফাজ

রোমেনা আফাজ প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তাঁর জন্ম বগুড়া জেলার শেরপুর থানায় ১৯২৬ সালে । তিনি ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের জন্য বাঙালি পাঠক সামজে অতি পরিচিত। রোমেনা আফাজ লেখালেখি শুরু করেন শৈশব থেকেই। ছোটগল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা সিরিজ ও রহস্য সিরিজ রচনা করেছেন তিনি। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার মুখে অপরাধ ও অপরাধীদের রোমহর্ষক কথা শুনে রোমাঞ্চকর গল্পের প্রতি মোহ সৃষ্টি হয়। তার লেখা ‘দস্যু বনহুর’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর জন্যই তিনি বিখ্যাত হন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় রোমেনা আফাজকে।

তাবারক হোসেন

উইং কমান্ডার মো. তাবারক হোসেন ভূঁঞা, পিএসসি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস্ কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুরের একজন গ্রাজুয়েট। তিনি ১৯৮৭ সালে ২৯ ডিসেম্বর বিমান বাহিনী একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হয়ে কমান্ড্যান্ট’স ট্রফি অর্জনপূর্বক কমিশন প্রাপ্ত হন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৪.০ এর মধ্যে ৪.০) পেয়ে চ্যান্সেলর’স স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিস অনুষদ থেকে তিনি এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ল’ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল প্রফেশনাল এলএলএম ডিগ্রিও অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ ফ্যাকাল্টি থেকে তিনি ইন্টারন্যাশনালী ট্রেইনড্ লইয়ার’স প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। তাছাড়া তিনি ব্যারিস্টার এবং সলিসিটর হিসেবে ল’ প্র্যাকটিসের জন্য কানাডার ফেডারেশন অব ল’ সোসাইটিজ-এর ন্যাশনাল কমিটি অন অ্যাক্রেডিটেশন (এনসিএ) থেকে সার্টিফিকেট অব কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস এন্ড ইকনমিক্স্ অনুষদের একজন খণ্ডকালীন অধ্যাপক। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ প্রোগ্রামে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ও দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে। ১৯৬২ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় লেখকের জন্ম।তাবারক হোসেন নামে তিনি লেখালেখি করেন।

ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। গল্প, উপন্যাস ও নাটক এই তিন শাখাতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। ‘কিশোর বাংলা পত্রিকা’য় একটি শিশুতোষ গল্প লিখে তিনি সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। এপার-ওপার দুই বাংলায়ই তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাসের মধ্যে 'নূরজাহান' অন্যতম। এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, পরবাস, কালোঘোড়া, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, জীবনপুর, লিলিয়ান উপাখ্যান, কবি ও একটি মেয়ে, পর, সাড়ে তিন হাত ভূমি প্রভৃতি তাঁর অন্যতম রচনা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। ইমদাদুল হক মিলন ১৯৫৫ সালে বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৯৫২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রী নেন ১৯৮২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। একাধারে লিখে যাচ্ছেন উপন্যাস, ছোট গল্প, কিশোর উপন্যাস, কিশোর গল্প, শিশুতোষ গল্প, ভৌতিক গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক লেখা। তবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও কিশোর উপন্যাসগুলোর জন্য তিনি নবীন প্রজন্মের কাছে অসাধারণ জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে সুপরিচিত। লেখালেখির জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের আরেক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর বড় ভাই। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- রঙিন চশমা, অন্যজীবন, ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দীপু নাম্বার-টু ইত্যাদি।

আহসান হাবীব

কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের জন্ম সিলেটে। পাড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভূগোলে। তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুরের এসডিপিও হিসবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হন। পল্টু-বিল্টু, পটলা-ক্যাবলা তাঁর তৈরি কিছু বিখ্যাত কমিক্স চরিত্র। তিনি রম্য পত্রিকা ‘উন্মাদ’-এর সম্পাদক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘রাত বারোটার পরের জোকস’, ‘ফোর টুয়েন্টি ফোর আওয়ার জোকস’, ‘জোকস সমগ্র’, ‘৯৯৯ জোকস একটা ফাও’, ‘১০০১টি জোকস ১টি মিসিং’, ‘ভ্যালেন্টাইন জোকস’, ‘ভূত যখন Ghost', ‘বাছাই ভূত’ প্রভৃতি। তিনি ‘বাংলাদেশি কার্টুনের পিতা’, ‘গ্রান্ডফাদার অফ জোকস’ উপাধিতেও ভূষিত। তিনি তুরস্ক থেকে ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জা’ এবং ‘হাভানা পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন। তিনি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সর্বকনিষ্ঠ ভাই।

নির্মলেন্দু গুণ

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাসাহিত্যের জনপ্রিয় এক নাম। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রচুর গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতার বিষয়সমূহকে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। তার নারীপ্রেমের কবিতাগুলোয় ভারতীয় উপমহোদেশীয় ড্রামাটিক আবেগ-অনু্ভূতির প্রকাশ হয়েছে নান্দনিক রূপে। তিনি তার কবিতায় দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিরল। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তার অসাধারণ কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কেমন করে আমাদের হলো’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সৃষ্টি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলি হলো, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার পেয়েছেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭৬ সালে হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এন্ট্রান্স পাসের পর দারিদ্রের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। বাংলাসহ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় তাঁর অনেক উপন্যাসের চিত্রনাট্য নির্মিত হয়েছে এবং সেগুলি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি চিত্রাঙ্কনেও দক্ষ ছিলেন। ‘মহাশ্বেতা’ তাঁর একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম। শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি। এরপর তিনি একে একে বহুল জনপ্রিয় বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য, পরিণীতা, পল্লীসমাজ, দেবদাস, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত, দত্তা, গৃহদাহ, দেনা-পাওনা, পথের দাবী ইত্যাদি রচনা করেন। ১৯৩৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশ

রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে তাঁর কবিতায়। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। তিনি ইতিহাসচেতনা দিয়ে তার কবিতায় অতীত ও বর্তমানকে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কসূত্রে বেঁধেছেন। তাঁর কবিস্বভাব ছিল অন্তর্মুখী, দৃষ্টিতে ছিল চেতনা থেকে নিশ্চেতনা ও পরাচেতনার শব্দরূপ আবিষ্কারের লক্ষ্য। জীবনানন্দের শব্দ বুননের নৈপুণ্য তুলনাহীন। কবিতাকে তিনি মুক্ত আঙ্গিকে উত্তীর্ণ করে গদ্যের স্পন্দনযু্ক্ত করেন, যা পরবর্তী কবিদের প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, প্রকাশকাল, বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। এছাড়াও রয়েছে বহু অগ্রন্থিত কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প। ১৯৫৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর প্রতিভার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতা, নাটক ও উপনাস্যের মতো শিল্পের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তাঁর ছিলো অবাধ বিচরণ। লিখতেন গান, দিতেন সেইসব গানে সুর, আবার গাইতেনও| সাংবাদিক হিসেবেও কলম ধরেছিলেন। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য অংশগ্রহণ করেছিলেন নানা আন্দোলনেও| ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল সুদৃঢ়। ১৮৯৯ সালে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিদ্রোহী এই কবি। চরম দারিদ্রের মধ্যেই তাঁর বাল্য, কৈশোর ও যৌবন বয়স কাটে| দুঃখ-দূর্দশার মধ্যেও তিনি আজীবন সাহিত্যচর্চা করে গিয়েছিলেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো, বিষের বাঁশি, অগ্নিবীণা, কুহেলিকা প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু তাঁকে ঢাকায় নিয়ে এসে নাগরিকত্ব দেন। সেইসঙ্গে ভূষিত হন জাতীয় কবির মর্যদায়। ১৯৭৬ সালে কবি মৃত্যুবরণ করেন।

হেলাল হাফিজ

হেলাল হাফিজ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয়তম আধুনিক কবি। তিনি ১৯৪৮ নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে যোগদান করার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয়। বইটির কবিতাগুলো প্রেম আর দ্রোহের খনি। প্রকাশের পর বইটি কবিতাপ্রেমিদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ভাষার এমন সুন্দর ব্যবহার, শব্দের এমন চমৎকার চয়ন, বিমোহিত করে তাবৎ কাব্যপ্রেমীকে। অসংখ্য পুরস্কারের মাঝে ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’, ‘দুঃসময়ে আমার যৌবন’ ইত্যাদি।

মাজহারুল ইসলাম

জন্ম ১ অক্টোবর, ১৯৬৬, সিরাজগঞ্জে। প্রকাশনা শিল্পের অন্যতম এক নাম মাজহারুল ইসলাম। এই পরিচয় ছাপিয়ে তিনি আলোচিত লেখক হিসেবেও। এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ। স্কুলজীবন থেকে মাজহারুল ইসলাম সম্পৃক্ত নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় যুক্ত হন গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনে। এ সময় তিনি মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গেও জড়িত হন অপেশাদার হিসেবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের কয়েক বছরের মধ্যেই ১৯৯৬-এর জানুয়ারিতে পাক্ষিক ‘অন্যদিন’ সম্পাদনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে শুরু হয় এক নতুন যাত্রা। পরের বছর সৃজনশীল প্রকাশনায় উৎকর্ষের সন্ধানে শুরু করেন ‘অন্যপ্রকাশ’। বই প্রকাশে পেশাদারিত্ব আর মুদ্রণ ও বিপণনের আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়েই তা মনোযোগ আকর্ষণ করে সবার। বাংলা ভাষার জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রায় সকল বই এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রকাশের ফলে একটা অভিনব জুটি তৈরি হয়, লেখক-প্রকাশকের। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতায় স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের এই শিল্পও পৌঁছাবে এমন এক উচ্চতায়, যার অহংকারের অংশীদার হবে প্রতিটি বাঙালি। তাঁর পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে কয়েকটি টিভি নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটক। সফলতা পেয়েছেন সেখানেও।

লতিফুল ইসলাম শিবলী

লতিফুল ইসলাম শিবলী (জন্ম: ১৪ এপ্রিল), বাংলাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত শিল্পী। বাংলাদেশে ৯০ দশকে ব্যান্ড গানের ক্ষেত্রে অন্যতম গীতিকবি হিসেবেও পরিচিত তিনি। গীতিকার পরিচয়ের বাইরে লতিফুল ইসলাম শিবলী একাধারে কবি, গায়ক, লেখক এবং অভিনেতাও। লিখেছেন নাটক, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। অভিনয়ের উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স শেষে গ্রুপথিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকেন শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে। আধুনিক জীবনযন্ত্রণাগ্রস্ত তারুণ্যের ভাষাকে শিবলী উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত সহজসরল 'রক'-এর ভাষায়। তার সাফল্য এখানেই । তাই অল্প সময়ের মধ্যেই শিবলী পরিণত হয়েছেন এ দেশের ব্যান্ড সংগীতজগতের কিংবদন্তি গীতিকবিতে। শিবলীর লেখা (প্রায় ৩০০) জনপ্রিয় গানের মধ্যে কয়েকটি: জেল থেকে বলছি ; ফিলিংস /নগরবাউল, তুমি আমার প্রথম সকাল; তপন চৌধুরী-শাকিলা জাফর, কষ্ট পেতে ভালবাসি ; আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি), হাসতে দেখো গাইতে দেখো (আইয়ুব বাচ্চু )। নিজের লেখা নাটক 'রাজকুমারী'তে (১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে নিজের অনবদ্য অভিনয় অনেকের মন কেড়েছেন। তার কাহিনী সংলাপ ও চিত্রনাট্যে প্রথম পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'পদ্ম পাতার জল'। শিবলীর প্রথম ও বেস্টসেলার উপন্যাস, দারবিশ (২০১৭)। বেরিয়েছে আরও কিছু উপন্যাস। এদিকে ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে 'বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন' নামে ব্যান্ড সংগীতের ওপর তার লেখা গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ। শিবলী স্বভাবজাত বোহেমিয়ান, ঘুরেছেন ইউরোপের নানা দেশসহ পৃথিবীর পথে পথে।

লুৎফর হাসান

লুৎফর হাসান। বাড়ি ঝিনাই নদীর ধারে। সেটা নবগ্রামে। টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের এক নিঝুম গ্রাম। ঘুরেফিরে তার নানান লেখায় এই গ্রাম আর নদীই শাসন করে যায়। পড়ালেখা পাকুটিয়া স্কুল ও গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসায়। তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাস তাকে পাখি হতে শিখিয়েছিল। সেই থেকে উড়ালপনা। এক সময় ঢাকায়। সেটাও এক যুগেরও আগে। রাজধানীতে থিতু হতে গিয়ে বাসের হেলপারি করেছেন, ইটভাটায় কাজ করেছেন, থেকেছেন বুড়িগঙ্গার নৌকাতেও। করেছেন শিক্ষকতা। তারপর নানান পেশা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কখনও ডেস্কে বসে কাজ করেছেন। কখনও দেশ চষে বেড়িয়েছেন অনুষ্ঠান নির্মাণে। তারপর জীবনের ঘিঞ্জিতে ঝলমল করে গানের রোদ উঠে গেছে এক ফাঁকে। গেয়েছেন- ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো, ভাবনায় ডুবি ভাসি, যদি কান্না কান্না লাগে এবং আরও প্রায় দুই শতাধিক গান। লিখেছেন ও সুর করেছেন অর্ধ সহস্র গান। মূল পরিচয় গানে। তবুও আরাম পান লিখতেই। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, লিখছেন অনেক শাখাতেই। এ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে দেড় ডজন গ্রন্থ। ইনহাউস প্রোডাকশন, হেলেঞ্চাবতী, সগৌরবে চলিতেছে, ঝিনাইপাখি, ফেকুয়া, ঘাসফুল ও সন্ধ্যামালতীরা, আগুনভরা কলস, ঠিকানা রাত্রিপুর, নীল মলাটের গল্প, ডাকবাক্সের ডানা, তোমার খোলা পিঠে আমার আততায়ী মেঘ, মানিব্যাগ, সুতো ছাড়া সংসার, আয়না ভাঙা রোদ, লাল কাতানের দুঃখ, ভালোবাসার উনুনঘর, যে বছর তুমি আমি চাঁদে গিয়েছিলাম, দুপুর পাখি। লুৎফর হাসানের একমাত্র মেয়ে দুপুর। মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন, সে বড় হয়ে বলুক ‘বাবা, তোমার আর দুঃখ নেই, আমি বড় হয়ে গেছি, তোমাকে কে ভালবেসেছে, কে ভালোবাসে নাই, আর দুঃখ করো না।’

Items Showing 1 to 20 from 20 Authors results

Boighor

Stay Connected