banner

অডিও বুক

Items Showing 1 to 24 from 168 books results

মধ্যবিত্ত

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

কলেজ অধ্যাপক শুভেন্দুর হাসি-খুশি মধ্যবিত্ত জীবনযাত্রা। বৌদ্ধিক আদর্শবাদ এবং বৈষয়িক বাসনা চরিতার্থতার সহবস্থনের মধ্যে কোনো অশুচির দন্দ বা সংশয় তাঁর নেই। তাই সময় অভাবে এবং পঠনপাঠনের সুবন্দোবস্ততার অভাবে কলেজের পাঠ্যসূচি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় তাঁর বিশেষ কোনো হৃদয় বৈকুল্ল্য দেখা যায় না; অপরদিকে নিজের ব্যক্তিগত কোচিং-এ উপরি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তিনি সদা-সচেষ্ট এবং দায়িত্ববান। স্বগৃহে কর্মরতা নাবালিকা পরিচারিকার অধিকার বিষয়ে চিন্তিত না হলেও শুভেন্দু প্রীত বোধ করেন পরিচারিকাটির দুবেলা উদরসাধন হেতু শারীরিক লাবণ্য দেখে। বিষয়টি তাঁর মধ্যবিত্ত আত্মশ্লাঘা এবং তাঁর সংসারের কৃতিত্ব হিসেবেই দেখেন শুভেন্দু, এবং অত্যন্ত প্রীত বোধ করেন। এরই মধ্যে একদিন শুভেন্দুর নিজ কন্যা ইস্কুলের এক সামাজিক প্রকল্প বিষয়ে পরিচারিকাটিকে প্রাথমিক লেখাপড়া শেখানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। প্রাথমিক ভাবে ব্যাপারটিতে পারিবারিক গৌরব বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেন শুভেন্দু, কিন্তু মধ্যবিত্ত বাস্তবতার মৌতাত ভাঙতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো কি? কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ধারালো কলমে মধ্যবিত্ত জীবনাদর্শের চরম দ্বিচারিতার এক বাস্তব আলেখ্য শুনুন বইঘরে।

মারণ বাতাস

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

বেসরকারি গোয়েন্দা শ্রীমতি প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জী ওরফে মিতিন কলকাতা লালবাজার পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার অনিশ্চয় মজুমদারের মুখে এক হত্যাকাণ্ডের খবর পেলেন। ঘটনার বিবরণীতে পুলিশকর্তা এও জানালেন যে অপরাধীকে খুব সহজেই সনাক্ত করা গেছে এবং সেই আততায়ী স্বয়ং নিহতের স্ত্রী। কিন্তু মিতিনের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছিলো পুলিসি উপসংহার নেহাতই অতিরিক্ত সরলীকরণ এবং রহস্যের জট ছাড়াতে মিতিন স্বকীয় তদন্তে উপনীত হলেন পুলিশ বড়কর্তার অনুমতি নিয়ে। সন্দেহের তালিকার প্রধান সাক্ষীদের সাথে কথা বলার সময়ে মিতিনের চোখে ধরা পড়ে একটি ফটোভোলটাইক সেল চালিত দেওয়াল ঘড়ি এবং একটি বিশেষ সাক্ষী বিবরণীর অসঙ্গতি। প্রখ্যাত মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র মিতিন মাসি কাহিনী সংকলনের কিংবদন্তি রচয়িতা সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের কলমে রুদ্ধশ্বাস ক্রাইম থ্রিলার অবলম্বনে রোমাঞ্চকর শ্রুতিকাহিনী শুনুন বইঘরে।

লকার নম্বর ৩৩

দেবারতি মুখোপাধ্যায়

বীথিকা সম্প্রতি একটি সরকারি ব্যাংকে অফিসার পদে নিয়োগ হয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষানবিস। তার অল্পদিনের অভিজ্ঞতায়, ব্যাঙ্কিং কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তদারকির মধ্যে সবথেকে চাপের কাজ সে অনুভব করেছে মাসের প্রথম দিকের পেনশন প্রাপকদের দীর্ঘ জমায়েত, বিধি সম্মত ভাবে সামাল দেওয়ার কাজটি। স্বল্প মানব সম্পদ নিয়ে কাজের চাপ সামাল দিতে গিয়ে সেই দিনগুলিতে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কখনো কখনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ বিধি ভাঙতে বাধ্য হয়ে পড়েন ব্যাঙ্ক পরিষেবার গতি অব্যাহত রাখতে। দায়িত্ব সচেতন এবং কর্মদক্ষ বীথিকা একইভাবে গ্রাহকদের ভীড় সামাল দেওয়ার ব্যস্ততায় একবার যাচাই পদ্ধতি বিনা জনৈক গ্রাহক-কে লকার রুম-এ প্রবেশাধিকার দিয়ে বসে। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই নির্দিষ্ট লকার গ্রাহক ব্যাংকে ফোন করে জানান তাঁদের বাড়ির থেকে সেই সকালেই ব্যাঙ্ক লকারের চাবি খোয়া গেছে এবং সতর্কতার জন্য ব্যাঙ্ক যেন ওই লকারের প্রবেশাধিকার কাউকে না দেয়। উৎকণ্ঠি ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা উপলব্ধি করেন যে তাঁদের নাকের ডগার নিচ দিয়ে লকারটিতে ইতিমধ্যেই অনধিকার প্রবেশ ঘটে গিয়েছে এবং ব্যাঙ্ক আধিকারিক বীথিকা এই ব্যাপারে প্রতক্ষ্য ভাবে জড়িয়ে গেছে ক্ষণিকের গাফিলতির কারণে। রুদ্ধশ্বাস পুলিসি তদন্তে সামনে আসে এক অতি চাঞ্চল্যকর অপরাধের ষড়যন্ত্র। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উদীয়মান লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের কলমে ক্রাইম থ্রিলার অবলম্বনে রোমাঞ্চকর শ্রুতিকাহিনী শুনুন বইঘরে।

কুহক

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

চল্লিশোর্ধ সজল একজন মধ্যবয়সী, শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত এবং তদোপরি অবিবাহিত পুরুষ। দায়িত্ব বন্ধনহীন নির্ঝঞ্ঝাট জীবন সজলের মনে আনে এক তৃপ্তিবোধ। সেই জীবন মনের আনন্দে সজল উপভোগ করে এক ভাড়া বাড়ির চার দেয়ালের মাঝে। ঘটনাচক্রে সজলের বাবার মৃত্যুর পর, তার মা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এবং মায়ের সেবা সুশ্রসার দায়িত্ব বহন করতে করতে প্রথাসিদ্ধ বিয়ের বয়স সজলের অতিক্রান্ত হয়ে যায়। সম্প্রতি মায়ের দেহাবসানের পরে সম্পূর্ণ রূপেই সজল ঝাড়া হাত পা মধ্যজীবনের আঙিনায়। সজলের তাতে কোন আখ্যেপ নেই | বরং স্বাধীন, গুরুদায়ীত্বহীন, সচ্ছল জীবন সজলের বেশ লাগে। বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া হয় মিশ্র - কেউ হন ঈর্ষান্বিত; চটুল হাসি তামাশায় পেছনে লাগেন সজলের। আবার কেউ-কেউ নিঃস্বার্থ উপদেষ্টা হয়ে সজল-কে বিয়ের পরামর্শ দেন। কিন্তু সজল সেই রাস্তায় পা বাড়াতে অপারগ। একবার এক সহকর্মী বন্ধু একটি মেয়ের সংবাদ দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব রাখে সজলের সামনে। মহিলাটি প্রায় সজলের-ই সমবয়স্ক, মার্জিত রুচির এক ঘরোয়া নারী। পারিবারিক বাধা বিঘ্নের জন্য সঠিক সময়ে তাঁর বিয়ে হয়ে ওঠেনি; সুতরাং সর্বাঙ্গীন ভাবেই মহিলা সজলের উপযুক্তা - এই যুক্তি সজল-কে ভাবিয়ে তুললো জীবনে সর্বপ্রথম। অনিচ্ছা কখন যেন পাল্টে যেতে লাগলো এক ঐকান্তিক বাসনায়। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ঐন্দ্রজালিক লেখনীর স্পর্শে জীবন রসনার এই মোহময়ী কুহকের আহ্বান শুনুন বইঘরে।

আলোক আকাশের মা

তিলোত্তমা মজুমদার

আলোক এবং আকাশ ছিলেন ডাক্তার আনন্দরূপ এবং বাণী দেবীর দুই কৃতি, মেধাবী পুত্র সন্তান, যাঁরা সমাজের নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে, সত্তরের ছাত্র আন্দোলনে সামিল হন এবং অকালেই সেই আগুনে হারিয়ে যান চিরতরে। সন্তান হারানোর নিদারুন শোক বুকে নিয়ে আনন্দরূপ এবং বাণী, দুই জীবন্ত লাশে পরিণত হন এবং বর্তমানের কায়িক অস্তিত্ব ভুলে স্মৃতির আবর্তে তলিয়ে যান। সর্বগ্রাসী সেই হাহাকারের মধ্যে শুধু জেগে থাকে একটাই প্রশ্ন - মনুষত্বের দাবিতে দুই নবীন প্রাণের আত্মত্যাগের কেন হবে এই নিদারুন পরিণতি? তাঁদের নির্বাক প্রশ্ন সমাজের সেই মানুষ্য শ্রেণীর প্রতি - যা পরাভূকের মতন উৎসর্গীকৃত প্রাণের বালিদানে বলীয়ান, কিন্তু যারা সেই চরম আহুতির কথা মনে রাখেনি কোনোদিন। আনন্দরূপ জীবন বিমুখ হলেন, সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করে ক্রমে ছেড়ে দিলেন তাঁর সঙ্গতির সকল উপায়; এর পরিসামাত্তি এলো চরম দারিদ্র তাড়িত মৃত্যুর মধ্যে। হতদরিদ্র অবস্থায় ছেড়ে গেলেন স্ত্রী বাণী এবং তাঁদের কন্যা সন্তান - আভেরিকে। রূঢ় বাস্তবের কোলে লালিত হয়ে বড় হয় আভেরি এবং সেই বড় হওয়ার জীবনদর্শন তাকে শেখায় আত্মকেন্দ্রিকতা, যা তার মৃত সহোদরদের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। স্বকীয় বিচার বুদ্ধিতে আভেরির প্রতীত হয় তার ভাতৃদ্বয়ের বিচারবোধ, আদর্শবাদ নিছক অপরিমিত নির্বুদ্ধিতা, বাস্তবজ্ঞানহীনতা ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। জীবন আদর্শের এই সংঘাতের মধ্যেই, সহায় সম্বলহীন বাণী আশ্রিত হতে বাধ্য হলেন মেয়ে-জামাইয়ের বাসস্থানে। কিন্তু বাণীর হৃদয়ের মাঝে বেঁচে থাকলো তাঁর মৃত সন্তানদের অবিমিশ্র আদর্শবাদ। কিন্তু নিরাবেগ বাস্তবের সাথে অসম সম্মুখ সমরে আদর্শের শেষ পরিণতি কি হলো? জড়বাদী সমাজের এই মর্মস্পর্শী সামাজিক আলেখ্য শুনুন বইঘরে।

দিঘারু পেরিয়ে

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য্য

মিস্টার ভট্টাচার্য একটি কাঠকলের ব্যবস্থাপক হয়ে অরুণাচল প্রদেশের তেজু অঞ্চলে, কাজে বদলি হয়ে এলেন। তার দ্বায়িত্ব কাঠ কাটিয়ে, সিজিন করিয়ে ডাউন স্ট্রিমএ কোম্পানির কারখানায় সেই কাঁচামাল পাঠানো। বর্ষা এসে পড়ার আগেই সুষ্ঠ ভাবে এ কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। ভট্টাচার্যের আগের ব্যবস্থাপক আচমকা নিরুদ্দেশ হয়ে যান বর্ষার ঠিক পূর্বে। সে অঞ্চলে ভয়ঙ্কর পাহাড়ি বর্ষা নামে এবং সেই প্রলয়ংকারী নদীতে কাঠ ভাসানোর অর্থ প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি। অথচ, ভট্টাচার্যর দক্ষ্য পরিচালনা সত্ত্বেও, স্থানীয় কার্যনিৰ্বাহক - গীতেশ বর্গহাঞ্চির অবহেলায় কাজ পরিকল্পনা মাফিক এগোলো না। গীতেশ লোকটি জলপথে কাঠ পারাপার করানোর ব্যাপারে ভীষণভাবে অনীহা প্রকাশ করতে থাকে কোনো এক আতঙ্কের কারণে। সে বলে, ওই পথে কাজ করতে করতে বহু কুলি নিখোঁজ হয়েছে সম্প্রতি কোনো অজ্ঞাত কারণে। ভট্টাচার্য সমস্ত কথা বুজরুকি ঠাহর করে শক্ত হাতে হাল ধরলেন এবং কর্মচারীদের প্রায় বাধ্য করলেন কোমর বেঁধে কাজে লাগতে। কিন্তু অনতিবিলম্বেই তিনি টের পেলেন যেন তার ওপর ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে কোনো এক অশুভ-অলৌকিক শক্তি। কি হবে তারপরে? দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের এই রুদ্ধশ্বাস অলৌকিক আতঙ্কের শ্রুতি কাহিনী শুনুন বইঘরের অডিও গল্পে।

মিনুর লাল ঘুড়ি আর লামিয়া

সায়ক আমান

ছোট্ট দুরন্ত মিনু সারাদিন তার কল্পনার দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায়; নতুন নতুন পরিকল্পনায় তার সময় কাটে তার ছোট্ট বেড়াল সাথী প্লুটোকে সঙ্গে নিয়ে। প্লুটো তার সমস্ত দু:সাহসিক অভিযানের বিস্বস্ত সঙ্গী। সারাদিন দৌরাত্যের পরে রাত্রে বিছানায় শুয়ে অতল ঘুমের সাগরে মিনু দেখে ছোট্ট দুরন্ত মিনু সারাদিন তার কল্পনার দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায়; নতুন নতুন পরিকল্পনায় তার সময় কাটে তার ছোট্ট বেড়াল সাথী প্লুটোকে সঙ্গে নিয়ে। প্লুটো তার সমস্ত দু:সাহসিক অভিযানের বিস্বস্ত সঙ্গী। সারাদিন দৌরাত্যের পরে রাত্রে বিছানায় শুয়ে অতল ঘুমের সাগরে মিনু দেখে কতই না রোমাঞ্চকর অভিযান। কল্পনার কাজল মাখা অন্তর্দৃষ্টিতে মিনু কখনো দেখে ভয়ানক দৈত্যের সাথে তার প্রবল বিক্রম লড়াই, আবার কখনো দেখে রূপকথার সপ্নের দেশে সে মনের আনন্দে ভ্ৰাম্যমান । স্বপ্নর লড়াইয়ে রোজ রাত্রেই মিনু জয়ী হয় যুদ্ধে। কিন্তু একবার তার স্বপ্নে এলো এক ভীষণ ড্রাগন-মুখী দৈত্য যার নাম লামিয়া। মিনু কি এবার পারবে হারাতে সেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীকে ? সায়ক আমানের এই মিষ্টি শিশুতোষ শুনুন বইঘরে।

বিরিয়ানি অথবা মৃত্যু

সায়ক আমান

কেশব চন্দ্র সেন, এক উদরসর্বস্ব ষাটোর্ধ প্রবীণ, যাঁর নোলসের তালিকায় নতুন সংযোজন চিকেন বিরিয়ানি। ক্রমবর্ধমান সেই ক্ষুধা তারণার সাথে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে তাঁর স্পর্শকাতরতা। প্রকোপের একেবারে হালের শিকার, খাবারের প্যাকেট ডেলিভারি করতে আসা স্থানীয় রেস্তোরাঁর ছোকরা। হেতু, বিরিয়ানির অর্ধসেদ্ধ একটুকরো আলু, যা কিনা সেন মহাশয়ের, খাবারের আমেজটাই মাটি করেছে স্বমূলে। মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা বহনে স্নায়ু বাধ সাধলে, ক্ষনিকের জন্য সংজ্ঞাহীন হয়ে কাত হলেন সেন মহাশয়। ক্ষণিক বিপত্তির মাশুলস্বরূপ, ডাক্তার জামাইয়ের বিধানে,অনির্দিষ্ট সময় ব্যাপী বন্ধ হলো সমস্ত মশলাদার খোরাকি। কিন্তু উদর যেখানে বিধির বামে, সেখানে আপোস, নিয়ন্ত্রণ আসে কোন কামে? খাদ্য রাসিক বাঙালির মানসপটে এই হাসির দাঙ্গা উপভোগ করতে শুনুন বিরিয়ানি অথবা মৃত্যু বইঘরের অডিও গল্পে|

আমি প্লুটো

দেবতোষ দাশ

প্লুটো ও তার ক্লাসের বন্ধু নীল, স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষা শেষে ঠিক করলো কয়ালদের বাগানে ঢুকে মজা করবে দুজনে। সবুজে সবুজে সাজানো সেই বাগানে নানান গাছগাছালির ভিড়, হরেকরকম ফল পাকড় আর বাগানের মাঝে এক সুগভীর স্নিগ্ধ শীতল পুকুরের জল - এসব প্লুটো-নীলের মতো ছেলে-মেয়েদের কাছে এক ভীষণ প্রিয় খেলার জায়গা। বাগানে ঢোকার কিছু পর প্লুটো শুনতে পেলো তার নাম ধরে কেউ যেন ডাকছে । খুঁজতে গিয়ে দেখা মিললো একটি তাদের বয়েসী ছেলের , যে বাগানের একটা ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে বসে ছিল। পরিচয় জানতে চাওয়ায় সেই বললো , তার নামও প্লুটো - তবে সে সৌরজগতের ছোট উপগ্রহটি। অবাক হয়ে নীল আর প্লুটো ভাবে, এ নিশ্চয় কোনো উপহাস; কিন্তু আগন্তুক প্লুটো দৃঢ় স্বরে জানায় সে কোনো পরিহাস করছেনা। পরিচয় আরো বিশদে জানতে গিয়ে কি অজানা তথ্য শুনতে পেলো প্লুটো আর তার বন্ধু নীল? ছোটদের এডভেঞ্চার ও কল্পবিজ্ঞান মিশ্রিত এই সরস শিশুতোষটি উপভোগ করতে শুনুন বইঘরের অডিও গল্পে।

এক দুই আড়াই

দেবতোষ দাশ

অশীতিপর বিপত্নীক আমলা অবসরপ্রাপ্ত কৃষ্ণ মজুমদার, আচমকাই ঘুমের মধ্যে মারা যান; অন্তত অবস্থাগত বিচারে প্রাথমিক ভাবে সেইরকমই অনুমান করা গেছিলো। মজুমদার মহাশয়ের একমাত্র ছেলে কর্মসূত্রে থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেই কারণে বিপত্নীক মজুমদার একলাই থাকতেন কলকাতায় সল্টলেকের বসত বাড়িতে। তাঁর সঙ্গী ছিল ঘরের কাজের একটি ছেলে - প্রদীপ। বাবার ডেথ সার্টিফিকেটে আপাত কোনো অসঙ্গতির উল্লেখ না থাকলেও,মজুমদারের ছেলে মৃত্যু কারণ সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তার সন্দেহের কারণ ডেথ সার্টিফিকেটের ঘুমের মধ্যে মৃত্যু সময়ের উল্লেখ, যা প্রয়াত মজুমদার মহাশয়ের নৈশ নিদ্রার অভ্যেস সমর্থন করেনা। এছাড়াও সেই সন্ধ্যায় ছেলে তার বাবার মোবাইল ফোন-এ বারবার ভিডিও কল করেও যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন; অথচ বাবা আগে থেকেই জানতেন, সেই সন্ধ্যায় ছেলে তাঁকে ফোন করবেন খবরাখবর নিতে। প্রসঙ্গত সেই রাত্রে ঘরের কাজের ছেলেটি বাড়িতে ছিলোনা এবং কৃষ্ণ মজুমদার একলাই ছিলেন ঘরে। পুলিসি তদন্দে মৃত কৃষ্ণ মজুমদারের এক দাবা খেলার সঙ্গীর নাম সামনে আসে। পুলিশকে সেই সঙ্গী জানান যে মৃত মজুমদার একাকিত্বের অবসাদে ভুগছিলেন এবং সেই হেতু আত্মঘাতী প্রবণতাও নাকি তাঁর মধ্যে দেখা দিয়েছিলো | তদন্তে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হাথে আসে পুলিশের - সেটি হলো সম্প্রতি ওই অঞ্চলে একই রকম আরো কিছু মৃত্যু ঘটেছে এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মৃত ব্যক্তিরা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এবং থাকতেন একা; দাবা খেলায় আসক্ত সাক্ষীটি সেই সকল মৃত মানুষের দাবা খেলার সঙ্গী ছিলেন। রহস্যের জাল ভেদ করতে অবশেষে বিখ্যাত গোয়েন্দা ধরণী কয়ালের সাহায্য প্রার্থী হলেন পুলিশ বড়কর্তা। দেবতোষ দাশ রচিত এই রুদ্ধশ্বাস গোয়েন্দা কাহিনী শুনুন বইঘরের অডিও গল্পে।

বনলতা

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

ইতিহাসের এক অধ্যাপিকা ঘরের নিভৃতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছিলেন একনিবিষ্ট চিত্তে। অকস্মাৎ ঘরের দরজায় কলিংবেল বেজে ওঠায় বিঘ্নিত হলো তাঁর মনোনিবেশ। আই-হোলে চোখ রেখে তিনি দেখতে পেলেন দরজায় এসে উপস্থিত হয়েছেন এক প্রৌঢ়া, যাঁর অবয়ব দেখে কোনো পূর্বপরিচিত প্রতিত হলো। দরজা খুলে প্রৌঢ়ার সম্মুখীন হতেই, অধ্যাপিকার মনে পড়লো ছাত্রীবস্থায় এই প্রৌঢ়াই একদিন তাঁকে স্কুলে পড়াতেন। ঘরে অভ্যর্থনা করে অধ্যাপিকা তাঁর প্রাক্তন স্কুল এর দিদিমনির সাথে আলাপচারিতায় রত হলেন। কথায়-কথায় অধ্যাপিকা জানতে পারলেন তাঁর উনি বর্তমানে দুস্থ, অনাথ-অসহায় মানুষদের সহায়তার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। সেই কাজে তিনি যেমন বিভিন্ন মানুষের কাছে অর্থসাহায্য প্রার্থনা করেন, তেমনি নিজের যৎসামান্য পেনশন রোজগারের থেকেও দুস্থ, অনাথদের সেবা কল্পে অনুদান করেন। প্রৌঢ়ার এই বিরাট সেবাকল্পের প্রতি নিষ্ঠা, মুগ্ধ করে অধ্যাপিকাকে। তিনি অনুদান প্রদান করেন প্রৌঢ়ার তহবিলে। প্রাক্তন ছাত্রী আজ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল এবং সর্বোপরি সংবেদনশীলা - এই বিশ্বাসের অঙ্গীকারে প্রৌঢ়ার আসা-যাওয়া শুরু হলো অধ্যাপিকার ঘর। তারপর? শ্রদ্ধেয়া সুচিত্রা ভট্টাচার্যের এই অসামান্য মর্মস্পর্শী আখ্যান শুনুন বইঘরে।

মেঘ আসে রোদ হাসে

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সুকু পড়াশুনায় মেধাবী এবং তার জিজ্ঞাসু মন প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জনে সক্রিয়। এই অনুসন্ধিৎসা একদিন তাকে আকৃষ্ট করে বাবার ড্রয়ারে রাখা একটি ঝলমলে পার্কার কলমের প্রতি। সুকু স্কুলের বন্ধুদের সেই চিত্তাকর্ষক কলম দেখানোর লোভ সামলাতে পারলোনা। সেদিন সুকু, এই মহার্ঘ্য কলম এবং তার সংগ্রহের সাম্প্রতিকতম সংযোজন - একটা বিটকেল গুবরে পোকা একটা ছোট কৌটোয় ভোরে স্কুলে নিয়ে এলো। ফাদার ডাইসন-এর থেকে বুঝে নিয়ে, তার নতুন পোষ্য সেই অজানা পোকাটার জন্য, একটা খাদ্য তালিকা তৈরী করার ইচ্ছাও ছিল সুকুর। কিন্তু আফসোসের বিষয়, সুকুর সমস্ত প্ল্যান ভেস্তে দিলো তারই সহপাঠিনী - মেরি আলভা-র কৌতূহল। মেরি কৌটো খুলে দেখতে চেষ্টা করে ভেতরে রক্ষিত রহস্য; আর তার ফলস্বরূপ গুবরে পোকাটি কৌটো-বন্দি দশা থেকে মুক্ত হয়ে ক্লাসের খোলা জানালা দিয়ে শুধু পালালোই না, সারা ক্লাসের খুদে ছাত্র-ছাত্রীদের একেবারে লন্ডভন্ড অবস্থা করে ছাড়লো। সেই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে সুকু-র নিয়ে আসা সেই মহার্ঘ্য কলমটিও গেলো হারিয়ে। বাবার প্রিয় এবং অত্যন্ত মূল্যবান কলম হারানোর দোষ কি সুকু তার বাবার কাছে স্বীকার করতে পারবে ? ফাদার কি তাকে বকুনি দেবেন ? মা আর দাদা কি বলবে? সুকু এবার কি করবে? শ্রধ্যেয় কথাশিল্পী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের এই অমূল্য শিশুতোষটি উপভোগ করুন বইঘরে।

সুরের মায়া

হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

জনৈক এক কিউরিও সংগ্রহকারক নিলাম থেকে একটি পুরোনো পিয়ানো বাদ্যযন্ত্র কেনেন। বস্তুটি তার সংগ্রহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য একটি সংযোজন হয়ে ওঠে। বন্ধু বান্ধব তার অভিরুচির প্রশংসা করেন। সংগ্রহের বস্তুটিকে উপযুক্ত সম্মান দেওয়ার অভিপ্রায়ে লোকটি পিয়ানো শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অচিরেই এক পিয়ানো শিক্ষক নিযুক্ত হলেন এবং শুরু হলো শিক্ষা । কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই নতুন শিক্ষক, আপাত কোনো কারণ ছাড়াই, আচমকা আসা বন্ধ করে দিলেন। প্রায় একই সময়ে, শিক্ষানবিস সেই লোকটির বাড়ির অন্দরে কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটতে শুরু হলো - রাত্রি নিশীথে তিনি শুনতে শুরু করেন পিয়ানোর স্বরধ্বনি। প্রতিত হলো যেন বাদ্য যন্ত্রের ঘরে কারোর অজ্ঞাতে প্রবেশ ঘটেছে এবং সে যেন যন্ত্রটি বাজাচ্ছে। কিন্তু পর্য্যবেক্ষন করতে এসে কোনোবারই কাউকে দেখা গেলো না। বাড়ির মালিক আন্দাজ করলেন এই অলৌকিক বাজনা আর পিয়ানো শিক্ষকের আচমকা কাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি শিক্ষকের বাড়ি খুঁজে তাকে সরাসারি জিজ্ঞাসা করলেন কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণ। সেই সাক্ষাতে পিয়ানো শিক্ষকের কাছে কোন অজানা তথ্য জানতে পারলেন সংগ্রহকারক ? ভৌতিক রহস্যের অন্যতম বিশিষ্ট লেখক, স্বর্গীয় হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের এই লৌমহর্ষক অলৌকিক কাহিনী শুনুন বইঘরে।

সঙ্গীতা

বাণী বসু

এই কাহিনীর পটভূমি গড়ে উঠেছে শিক্ষার রাজনীতিকরণ এবং সেই পথ ধরে সামাজিক অবক্ষয়ের এক ধূসর প্রেক্ষাপট ঘিরে। রাজনৈতিক মদতপুষ্ট কলেজ উনিয়নের মাস্তানরা বহু ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল এবং পক্ষপাতদুষ্ট প্রহসনে পরিণত করে থাকে, কতৃপক্ষের প্রতক্ষ এবং পরোক্ষ মদতে । এমনি একটি কলেজের বাৎসরিক আসন পূর্তি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কাহিনীর সূত্রপাত, যেখানে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে, সম্পূর্ণ নিয়ম বিরুদ্ধ ভাবেই, ভিন-রাজ্য থেকে আসা এক তরুণীর আসন পূর্তির ব্যবস্থা করে ওই কলেজের প্রভাবশালী এক ইউনিয়ন-এর মাস্তান। তরুণীটি পড়াশুনোয় মেধাবী হলেও, যেস্থানে অরাজগতার শিকার হয়ে বহু উপযুক্তরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসন লাভে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফেরে, সেখানে আসনপূর্তির সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও নিয়মের এই ব্যতিক্রম, খুবই উল্লেখযোগ্য বদান্যতা। প্রতিদান স্বরূপ কিছু উপঢৌকন প্রত্যাশিত হওয়াই স্বাভাবিক এবং এই ক্ষেত্রে তরুণীর লাবণ্য এবং যৌবন আকাংখ্যার বীজ রোপন করে সহায়কের অন্তরে। লেন-দেনের এই সামাজিক দস্তুর সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে, তরুণী প্রত্যাখ্যান করে সেই নাগরটিকে। কি ঘটলো এই ঘটনার পরিণতি? সাহিত্য সম্রাজ্ঞী বাণী বসুর ক্ষুরধার কলমে এই অসামাজিক বাস্তবতার আখ্যান শুনুন বইঘরে।

ও কি আমি?

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

সম্ভ্রান্ত লাটু বাবুদের বহুদিনের পুরোনো অট্টালিকা বিক্রি হয়েছিল এক নতুন পারিবারের হাথে। এক সময়ের জাকজমক পূর্ণ সেই স্থাপত্য ইমারত তখন স্বর্ণালী অতীতের ছায়ামাত্র। নতুন গৃহস্বামীর ছোট পরিবার এবং সেই পরিবারের ছোট্ট ছেলে অবাক বিস্ময়ে ঘুরে ঘুরে দেখতো সুবিশাল স্থাপত্যের বিস্তার। সুবৃহৎ অট্টালিকার বহু ঘরের তালাবন্ধ দরজা তখন ব্যবহারের অভাবে বিস্মৃত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে। বড়দের অনুশাসনে ছেলেটির ওই সব ঘরে ঢোকা ছিল নিষিদ্ধ; কিন্তু বন্ধ ঘরগুলোর অজ্ঞাত নিরালা অভন্ত্যর বারবার আকর্ষণ করতো তাকে। মাঝে মাঝে সে যেন ঘর গুলোর ভেতর থেকে শুনতে পেতো কিছু ক্ষীণ অস্পষ্ট শব্দ, যা তার কৌতূহলী মনকে প্রলুব্ধ করতো বাধা নিষেদ লংঘন করতে। এক প্রবল ঝড় বৃষ্টির সন্ধ্যায় ছেলেটির সামনে সহসা উপস্থিত হলো এক সুবর্ণ সুযোগ; অভিভাবকরা তাকে একলা বাড়িতে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন; কিছু পরিচারক ঘরের কাজ সামলাতে ছিলেন ইতিউতি ব্যস্ত। ছেলেটি সেই সুযোগে একটি সুরক্ষিত লকার, বেশ কিছুক্ষনের চেষ্টার পর খুলে ফেলে এবং ভেতর হাতড়ে সেস্থানে খুঁজে পায় একটা বিবর্ণ হয়ে আসা ছবি যেখানে উঁকি দিচ্ছিলো তারই প্রায় সমবয়েসী একটি অচেনা বালকের প্রতিকৃতি। সেই প্রতিকৃতির গভীর বিষাদঘন চোখের চাহুনি থেকে প্রতিফলিত হচ্ছিলো কোনো অজানা আশঙ্কার অশুভ ইঙ্গিত। কি ঘটলো তার পরে ? আধুনিক রহস্য রোমাঞ্চ সাহিত্যের এক বিশিষ্ট লেখক - অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর এই শিহরণ জাগানো কাহিনী শুনুন বইঘরে।

সংবাদে হরিপদবাবু

উল্লাস মল্লিক

হরিপদবাবু বাংলার নাবাবহাটি নিবাসী একজন মধ্যবিত্ত বাঙালি ভদ্রলোক। আর দশজন মধ্যবর্গের মতন, যশ প্রতিপত্তির অপূর্ণ্য আকাংখ্যা নিয়েই তার দিন কাটে। স্বাদ পূরণ করতে তিনি নানান কৌশলের কথা ভাবেন, কিন্তু সেই সব উপায় অন্তর সাধনে, সম্ভাব্য বিপত্ত্যির ঝুঁকি তাকে দমিয়ে রাখে। অবশেষে কার্য্য সাধনে এক অভিনভ কল্পনা হরিবাবুর মাথায় আসে; সেই কল্পনা বাস্তবায়নে হরিবাবু পাড়ার অটোরিকশা চালক ভূতালির, সামান্য সাহায্য নেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো ভূতালির স্থুলবুদ্ধি। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে, ব্যাঙ্গ কৌতুক ধারার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক উল্লাস মল্লিক মহাশয়ের এই সামাজিক দর্পন উপভোগ করুন বইঘরে |

দিকু

তিলোত্তমা মজুমদার

এই কাহিনী গ্রামের এক দুস্থ বিধবা মা ও তার শিশু দিকুর সারল্য মাখানো কাহিনী; যে কাহিনী পাঠক কে নিয়ে যায় শৈশবের নিষ্পাপ ঊষালগ্নে, এলোমেলো মধ্যাহ্নে, ধুলোমাখা অপরাহ্নে এবং বেলাশেষে মায়ের আঁচলের স্নেহভরা মায়াবী আশ্রয়ে। এখানে স্বপ্ন বেঁচে থাকে অভুক্ত উদর উপেক্ষা করে; এখানে হৃদয়ের স্পন্দন জড়িয়ে রাখে ভালোবাসার উষ্ণতাকে, জ্বালানির উত্তাপের অভাব ভুলে। স্কুলের অংকের মাস্টারমশাই দিকুর মধ্যে খুঁজে পান প্রতিভা; দিকুর মেধা পারিবারিক দারিদ্রতার ভ্রুকুটি উপেখ্যা করে অক্লেশে বুঝে নেয় অঙ্ক-কষার দুরূহ রূপরেখা। পিতৃহারা শিশুটিকে তিনি আগলে রাখেন অসীম স্নেহে; আর সকল শিশুদের যখন উশৃঙ্খলতার দায়স্বরূপ শাস্তি বিধান হয়, দিকুর দুরন্তপনা গ্রাহ্য হয় মৃদু সহবত শিক্ষার সুশাসনে। কিন্তু নিয়তির এক অমোঘ অদৃশ্য বাণ একবার সেই সহিষ্ণুতা, ঔদার্য ও কোমলতার পরীক্ষা নিতে অকস্মাৎ নেমে আসে মানুষ দুটির জীবনে। এ যুগের এক অনন্য ভাবগম্ভীর কলমের এই অসামান্য আখ্যান শুনুন, তিলোত্তমা মজুমদারের "দিকু" শ্রুতিকাহিনী, বইঘরের অডিও গল্পে।

ঘেরাটোপে এক সান্ধ্য আসর

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

শহুরে কলকাতার উচ্চবিত্ত এক আবাসনে, সবান্ধব নৈশভোজের মনোরম আয়োজন চলেছে আড়ম্বরের আতিশয্যে। আমন্ত্রীদের তালিকায় উচ্চবিত্ত সমাজের প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষিত কিছু ব্যক্তিত্ব; সমাজের সকল বিষয়ের উপর যাদের মতামত আত্মশ্লাঘার ধারক। সান্ধ্য সভায় কখনো উঠে আসছে কৃষক শ্রেণীর চরম দুর্দশা, কখনো আবার নান্দনিক জীবন ধারণের সূক্ষ পর্যালোচনা। সভাসদদের পদ্ধতিগত ত্রুটির যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক ও তির্যক ব্যঙ্গক্তি উস্কে দিয়ে চলেছে উষ্ণ সুখাদ্য ও মহার্ঘ্য সূরাপাত্রের অফুরন্ত যোগান। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের এই তীব্র শ্লেষাত্মক সমাজ সমালোচনা অনুধাবন করুন বইঘরে।

অপহৃত এরেন্দিরা

দেবতোষ দাশ

বিশ্ববিখ্যাত নোবেল জয়ী স্প্যানিশ ঔপন্যাসিক - গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মাৰ্কজ | তার অবিসংবাদী শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কীর্তির নাম “ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটুড”। সাহিত্য জগতে এমন সুপ্রসিদ্ধ সৃষ্টির কদর অপরিমেয় | ঘটনাচক্রে, সেই বিখ্যাত সাহিত্য সৃষ্টির কিছু বছর পূর্বেই, মাৰ্কজ সেই রচনা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছিলেন একটি ঔপন্যাসিকায়, এবং সর্বোপরি সেই কীর্তিপটে, স্বয়ং স্রষ্টার হস্তসাক্ষর সৃষ্টিকে করে তোলে মহার্ঘ্য। সুদূর ল্যাটিন আমেরিকা থেকে মাৰ্কজ-এর অমর ঔপন্যাসিকা, চুরি এবং তারপর হাত বাদল হয়ে পৌঁছে যায় কলকাতার মাটিতে। ইন্টারপোল এর গোপন রিপোর্ট এর ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেও ব্যর্থ হয়, তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজনকে হাতে-নাতে ধরতে। অবশেষে বিখ্যাত গোয়েন্দা ধরণী কয়ালের সাহায্য প্রার্থী হলেন পুলিশ বড়কর্তা । কিন্তু সেই প্রচেষ্টা কি যথেষ্ট প্রমাণিত হবে, ধুরন্ধর মাফিয়া কে ঘায়েল করতে? দেবতোষ দাশ রচিত এই রুদ্ধশ্বাস গোয়েন্দা কাহিনী শুনুন বইঘরের বাংলা অডিও গল্পে।

তিতলির বাবা-মা

দেবারতি মুখোপাধ্যায়

সদ্য বিবাহিতা তিতলি, বিবাহ সূত্রে সংসার পেতেছে সুদূর ইউরোপের সুইজারল্যান্ড-এ। সেদেশে তার স্বামী একজন ভারতীয় রেস্তোরাঁর সফল পরিচালক। এই সাফল্য এবং সচ্ছলতায় সুখী তিতলির মনে শুধু একটাই দুশ্চিন্তা - স্বদেশে ফেলে আসা তার একাকী বর্ষীয়ান বাবার দেখাশোনার চিন্তা। তিতলির বাবা -মায়ের বৈবাহিক কলহ সূত্রে স্ব-আরোপিত একাকিত্বের কোনো মীমাংসা হয়নি, দুটি মানুষের জেদের কারণেই। অথচ দাম্পত্য কলহের কোনো গুরুতর কারণ কোনোদিনও ঘটেনি; মতানৈক্যে ছিল শুধু দুই সত্তার পৃথক ব্যক্তিত্ব। বিবাহের আগে, তিতলি বহুবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ মনোরথ । নতুন সংসার একটু গুছিয়ে নিয়ে, তিতলি এবং তার স্বামী একটি অভিনভ পরিকল্পনার ছক কষে প্রবীণ দম্পতির কলহের ইতি টানতে। পরিকল্পনা মাফিক তারা, তিতলির বাবা এবং মাকে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে আমন্ত্রণ করে, কিন্তু প্রবীণ দম্পতি যুগলের একে অপরের অজান্তে। উদ্দেশ্য দুটি মানুষকে তাদের পরিচিত ভূখণ্ডের বাইরে নিয়ে এসে একে অপরের সান্নিধ্যে রাখা । তিতলিদের সেই আন্তরিক পরিকল্পনা কি সফল হবে অবশেষে? বর্তমান যুগের এক অগ্রণী নবীন লেখিকা - দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই অম্ল-মধুর দাম্পত্য কলহ এবং প্রেমের মিষ্টি উপাখ্যান শুনুন বইঘরের বাংলা অডিও গল্পে।

Items Showing 1 to 24 from 168 books results

Boighor

Stay Connected