banner

অডিও বুক

Items Showing 1 to 24 from 145 books results

রাস্তা যখন শেষ

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

অপরাধের উপযুক্ত দণ্ড, অপরাধী বহুবার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাবশালীদের সাহায্যে। অন্যায় অর্জিত সম্পদ এবং ক্ষমতা মানুষকে করে তোলে নীতিভ্রষ্ট এবং সেই পঙ্কিল লোলুপতা, সংক্রমিতের মনুষত্বকে সমূলে হত্যা করে। পুলক এমনি এক দাগি অপরাধী। কিন্তু অন্যায়ের শিকার হওয়া সব মানুষের শেষ পরিণতি কি তবে এই নিয়তিকে মেনে নেওয়াই ভবিতব্য? এই কাহিনী এক কৃতসংকল্প সত্তার, যিনি কঠিনচিত্তে অপরাধীর যোগ্য শাস্তি নিদান পরিকল্পনা করেন অত্যন্ত সুচারু হাতে। প্রযুক্তিক সেই ছকে, বুদ্ধি, ধৈর্য এবং সম্পাদনার কুশলী মিশেল কি তবে শেষবারের মতো, দুর্বৃত্তের বাজিমাত করতে সফল হবে? এযুগের অন্যতম বিশিষ্ট কলম, অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর এই ঝকঝকে ব্যতিক্রমী গল্প শুনুন বইঘরে।

রামধনু রং

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

ছোট্ট পাপু এক বিশিষ্ট শিশুবিদ্যালয়ে, ভর্তি প্রবেশিকা পরীক্ষার সম্মুখীন। উদ্বিগ্ন মা-বাবা নানা ভাবে পাপুকে প্রস্তুতি নেওয়াচ্ছেন, পাছে কাঙ্খিত স্কুলের সীমিত আসন পাপুর অধরা থেকে যায়। স্কুল প্রবেশিকা লড়াইয়ের এই ইদুর দৌড়, পাপুর জীবনে এটি প্রথমবার নয়, কিন্তু এখনো অবধি এই প্রবল প্রতিযোগিতামূলক এবং বেশ কিছুটা অসাম্যের মল্লযুদ্ধে, কাঙ্খিত আসন পাপুর অর্জন হয়ে ওঠেনি। চিন্তিত মা-বাবা এবারের প্রচেষ্টায়, কসরতের কোনো ত্রুটি রাখেননি এবং শিশুর মনসংযোগ বজায় রাখতে, কঠোর হাতে শিশুর সহজাত চঞ্চলতা ও বহুমুখী কৌতূহল দমনে তারা সচেষ্ট হয়েছেন। প্রবেশিকা সাক্ষাৎকারে মা-বাবার অপেক্ষিত প্রায় কোনো প্রশ্নই পাপুকে করলেন না, স্কুলের পরীক্ষক দিদিমুনিরা। পক্ষান্তরে, অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের আকস্মিকতায় ব্যুহল মা-বাবার বৈপরীত্যে, অকুতভয় পাপু তার শিশুসুলভ সারল্যে সপ্রতিভ। পাপুর সহজাত অপেশাদারী অভিব্যক্তি কি তবে স্কুল প্রবেশিকায়, পুনর্বার ব্যর্থ করবে তাকে? মদ্ধবিত্ত সংসারের সন্তান প্রতিপালনের পরিচিত এই রূপরেখা অনুধাবনের অতি বাস্তব আলেখ্য শুনুন বইঘরে।

ঔরস বিক্রেতা

রতনতনু ঘাটী

ভুবন ও যশোদা, তাদের প্রথম সন্তান লাভের আকুতি নিয়ে নিদারুন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে প্রবল দারিদ্রের মধ্যে, অনাহার এবং অপুষ্টির শিকার হয়ে। যশোদা এর আগে একাধিকবার গর্ভবতী হয়েও, সেই সন্তান ধরে রাখতে পারেনি; তাই পুনরায় সিঁদুরে মেঘ দেখে সন্ত্রস্ত কৃষক দম্পতি বুক বাঁধছে দৈব অনুকম্পার আশায়। এবারের গর্ভাবস্থা জটিলতর; প্রয়োজন, ভুবনের সাধ্যাতীত মহার্ঘ্য চিকিৎসা এবং পথ্যের। মরিয়া ভুবন বহু চেষ্টা করেছে, মানুষের কাছে দয়া ভিক্ষা চেয়েছে কিন্তু গ্রামের নোংরা কূটনীতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার সমস্ত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে। কেউ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। চরম সন্ধিক্ষণে আকস্মিক এক সম্পূর্ণ অপরিচিত, ভুবনের সামনে এগিয়ে ধরলো সাহায্যের হাত। পরিবর্তে আগন্তুক চেয়ে নিলো কোনো এক অজানা কাজে ভুবনের সম্মতি। অবশেষে এক অন্ধকার রাত্রে, ঋণ পরিশোধের অমোঘ ডাকে সাড়া দিয়ে ভুবন সম্মুখীন হলো সম্পর্কের দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক বাধ্যতার এক চরম দ্বৈতত্ত্বের মাঝে। প্রসিদ্ধ লেখক রতনতনু ঘাটির কলমে এক অসামান্য সামাজিক থ্রিলার গল্প শুনুন বইঘরে।

ননদ বৌদির রান্নাঘর

তিলোত্তমা মজুমদার

মিনতি এবং কাকলি - স্বামী পরিত্যক্তা দুই মাঝ বয়সী নারী; কিন্তু জীবনের সামনে তারা মাথা নোয়াইনি। শহর বস্তির সীমাবদ্ধ গৃহকোনের চৌহদ্দির মধ্যেই তারা তিল তিল করে গড়ে তুলেছে নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের পরিমিত আয়ত্তি। বস্তি সংলগ্ন অট্টালিকার ফ্ল্যাটে উচ্চমধ্যবর্তী বাসিন্দাদের রান্নার যোগান দিয়ে তাদের বেঁচে থাকা। কঠিন সেই লড়াইয়ে তাদের প্রত্যহ সঙ্গী যান্ত্রিক ব্যস্ততা আর বঞ্চনার ক্ষতে ভরা স্মৃতি; তাই জীবনের জয়গানে সুললিত কথোপকথনের মাধুর্য্য নয়, তাদের জীবনের সঙ্গী হলো নৈরাশ্য তাড়িত গালিগালজ এবং গৃহ কোন্দল। জীবনের সেই উত্তপ্ত মরুপ্রান্তরের মধ্যেই তাদের কাছে এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস বয়ে নিয়ে আসে কিছু মানুষ - যারা বাড়িয়ে দেয় সাহচর্য্যের উষ্ণ হাত; এই স্বতন্ত্র হাতগুলো পৃথক্ ও বিযুক্ত; তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পাড়ার মাস্তান, রাস্তার মোড়ের চা দোকানি, আবার কোনো ক্ষেত্রে কোনো অট্টালিকার হিতকরী। জীবনের এই সবিরাম গতির মধ্যে আসে এক আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ যা অনিশ্চিতের প্রচ্ছন্ন হুমকি বহন করে আনে মিনতি, কাকলির মানসপটে। তবে কি তারা নিয়তির কাছে হার মানবে এবার? নাকি সব দুর্গমতা অতিক্রম করে তারা এগিয়ে চলবে জীবনের জয়গানে?

মর্তুকাম

বাণী বসু

এই আখ্যান দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধুর, যারা ঘুণধরা সমাজের এক মূর্ত আবহমান প্রতিভূ - সাকার হতে ব্যর্থ যুবা, যারা তাদের সপ্ন, আকাঙ্খ্যা বিসর্জন দিয়ে কোনোক্রমে টিকে আছে খড়কুটো অবলম্বন করে। জীবন তাদের কাছে এক কুৎসিত আদিরসাত্মক ব্যঙ্গ; অবস্থার শিকার হয়ে ধুঁকতে থেকে, আজ তারা সেই পুতিগন্ধময় অস্তিত্বকে জীবন ধারণের ঝাঁঝালো মশলা হিসেবে উপভোগ করে। মৃত্যু তাদের কাছে যেন এক ছলনাময়ী প্রণয়নী, এক বিলাসবহুল মরীচিকা। তাই যেকোনো অপমৃত্যু, ব্যাভিচার, মানসিক বিকারের সংবাদ তাদের কাছে নিতান্তই বিনা শ্রমে লব্ধ রূচিবর্ধক রসাস্বাদন। এরই মাঝে এক বন্ধুর জীবনে নেমে এলো অপমৃত্যু। পুলিশি তদন্তের সাক্ষী হয়ে ওপর বন্ধু ডুবে যেতে থাকে এক মানুষিক ঘোরের মধ্যে, যেখানে তার শারীরিক কায়া একদিকে যেমন খুঁজে বেড়ায় বন্ধুর অপমৃত্যুর কারণ, ওপর দিকে তার অবচেতন, শঙ্কিত হতে থাকে কোনো এক গুপ্ত সত্য উদ্ঘাটনের ভয়ে। কোন সেই কালান্তক সত্য? অপরাজেয় কথা সাহিত্যিক বাণী বসুর কলমে এই দুর্ধর্ষ্য অন্ধকার মনোবিজ্ঞান শুনুন বইঘরে।

এক থালা ভাত

সায়ন্তনী পূততুন্ড

চা বাগানের সবুজ ঔজ্জ্যলের কোণে পরাণের মতো জনজাতিরা বেঁচে থাকে দু মুঠো ভাতের আশায় । তারা সরল, গরীব- তাই যা কাজ জোটে তাতেই পেট চালায়। অপরদিকে অরণ্যের চোরাপাচার আর চা বাগানের আর্থিক রমরমার অশুভ আঁতাত বিস্তারিত হতে থাকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শ্রেণীর মধ্যে। সেই আবর্ত্যে পরে এবং নিদারুন খিদের জ্বালায় অসহায় জনজাতির গরিব মানুষগুলো বাধ্য হয় অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হতে সজ্ঞানে এবং অজ্ঞানে । পরাণ সে জালেই পড়ে জড়িয়ে - জঙ্গলের নতুন বড় অফিসার এসেছেন - সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি- চোরাচালানকারিরা পরাণ কে টপ দিলো, সেই অফিসারকে খুন করতে । এক মুঠো ভাতের লোভে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত পরাণ - যে বৃক্ষমূল ও গাছের বীজ খেয়ে অর্ধমৃত, সে কি হয়ে উঠবে সেই ষড়যন্ত্রের বলির পাঠা? বাংলার অন্যতম লেখিকা সায়ন্তনী পুততুন্ডর মনকে নাড়া দেয়া "এক থালা ভাত" - ছোটগল্প শুনুন বইঘরে।

বিক্রম রাঠোঢ়

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য্য

ভারতের মধ্যপ্রদেশে জঙ্গল ঘেরা রাঠোড় রাজবাড়ী থেকে মন্জুর হলো ডক্টরেটের কাজে ইন্টারভিউর আবেদন । ইতিহাসের গবেষক রাজবাড়ীর আতিথেয়তা ও সৌন্দর্যে বিমোহিত- রাজা ও রানী কেউ যত্নের কোনো ত্রুটি রাখলেন না । রাজার সাথে নানা কথোপকথনে গবেষক বহু তথ্য পেলেন । তার দৃষ্টিগোচর হলো আরো এক আশ্চর্য বিষয়ের প্রতি - দেখলেন বড় বড় অঙ্কনচিত্রে রাঠোড় পরিবারের সব পূর্বপুরুষের মুখের অবয়বে, এক অদ্ভুত মিল । রাজা তার রাজসিক চালে প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন, কিছু প্রশ্ন ছেড়ে - বললেন সেগুলো তার পারিবারিক বিষয় - তা তিনি বলতে বাধ্য নন । কি ছিল সেই গবেষণার প্রশ্ন - যা রাজা উত্তর দিতে নারাজ ? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে কি গবেষককে তার জিজ্ঞাসু মনের মাসুল দিতে হবে জঙ্গলের থমথমে আঁধারে ? অধুনা বাংলার অন্যতম লেখক দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের লোমহর্ষক অতিপ্রাকৃত থ্রিলার উপভোগ করুন বইঘরে।

বাহাত্তুরে

ইন্দ্রনীল সান্যাল

পল্লব পাল কিছুদিন আগে টেক্সস থেকে ফিরেছেন বাংলায়। আই আই টি খড়্গপুরের একদা ছাত্রটি তার মেধার ঔজ্যল্যে বিদেশে প্রভূত উন্নতি করেন এবং সেই সুবাদে বিদেশে পসার জমান অনায়াস দক্ষতায়। এরই মাঝে এতো দশক পরে হঠাৎ দেশে ফিরে আসার কারণ, তার একাকিত্ব এবং বার্ধক্য জনিত নানান জটিলতা। জীবনের এই অপরাহ্ন বেলায় পৌঁছে, পল্লব খুঁজছেন কোনো সুন্দর ও উন্নত পরিষেবা যুক্ত, ছিমছাম সার্ভিস এপার্টমেন্ট। সেই অনুসন্ধান কালীন তার হঠাৎ দেখা, মহুয়া মিত্রর সাথে, মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে। মহুয়া, তাঁর ফেলে আসা স্কুল জীবনের সহপাঠিনী, এবং পরবর্তী কালে পারিবারিক সূত্রে, পুরোনো দিনের বন্ধু। পেশায় বড় ডাক্তার মহুয়া আজ পল্লবের মতনই, বয়স প্রান্তের এই সায়ান্ন্যে, নির্বান্ধব একাকিনী। একাকিত্বের এই মরুতৃষ্ণা কি তাঁদের জীবনে নিয়ে আসবে নতুন উষ্ণতার ছোয়া? শুনুন ইন্দ্রনীল সান্যালের আকর্ষণীয় ছোট গল্প বইঘরে।

৩৮ বিচউড স্ট্রিট

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

অভ্র সম্প্রতি অফিসের একটা কাজ নিয়ে ওয়েলস এর নিকটবর্তী ক্যারিলন শহরতলিতে বসবাসরত । এই প্রান্তরের ইতিহাস ঘেটে জানা যায় যে একসময় এটি রোমান সাম্রাজ্যের একটি অংশ ছিল যা কালের বিবর্তনে নিশ্চিহ্ন হয় । জনশ্রুতি আছে যে অধুনা এই শহরতলি একদা সেই রোমান সাম্রাজ্যের গোরস্থানের ওপরে পুনর্গঠিত হয়ে ওঠে। সেই বাসস্থানে, কনকনে ঠান্ডা এক আধার রাতে, অভ্রর কানে আসে এক ধাতব শব্দ; শব্দের উৎস ছিল বাড়ির সংলগ্ন বাগানের দিক থেকে । শব্দটা যেন বাগান পেরিয়ে তার ঘরের দরজার ঠিক বাইরে এসে থেমে যায় । অভ্রের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছিলো যে বারান্দা সংলগ্ন সেই দরজার বাইরে কিছু একটা এসে দাঁড়িয়ে আছে; যদিও ঘন কুয়াশার আচ্ছাদনের ভেতর থেকে স্পষ্ট ঠাহর করে যাচ্ছিলো না । একটা বাতি হাথে নিয়ে বাগানের সামনে এসে অভ্র দেখতে পেলো কুয়াশার মধ্যে স্থির হয় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বাচ্চা মেয়ে । ঘটনার আকশ্যিকতায় সর্বাঙ্গ কাটা দিয়ে ওঠে অভ্রের । কি ঘটে এর পরে ? অধুনা বাংলার অন্যতম লেখক অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর এই ভৌতিক সাসপেন্স থ্রিলার, পাঠক-কে অবশ্যই আকর্ষণ করবে চুম্বকের ন্যায় ।

লাহা বাড়ির আতঙ্ক

পল্লবী সেনগুপ্ত

বিয়ের পরে নব দম্পতি - মালা এবং চয়ন, লাহাবাড়িতে ভাড়া নিয়ে আসে | তাদের সেই নতুন বাসস্থানটি নিয়ে প্রচুর কানাঘুষো প্রচলিত এবং তার একটি প্রধান কারণ লাহা পরিবারের গোপন নির্বান্ধব জীবনযাপন | চয়ন সমস্ত কিছু অগ্রাহ্য করে ভাড়া নেয় সেই বাড়ি , মূলত তার সীমিত আয় এবং সল্প বাড়ি ভাড়ার কারণে | চয়ন একটি কল সেন্টারে এক্সেকিউটিভ; তার কাজের সময়, রাত্রিব্যাপী | মালাকে তাই একা রাত্রি যাপন করতে হয় সেই বাসস্থানে | সহধর্মিনী হিসেবে মালা সেই নতুন জীবন ধারণে অভ্যস্ত হতে সচেষ্ট - কিন্তু রাত্রি কালীন একাকিত্ব এবং বাসস্থানটি সম্পর্কে নানান কানাঘুসো মালার মানসিক শান্তিকে বিঘ্নিত করতে শুরু করে | তার মনে পড়ে সেই ছোট বয়সে শোনা এক সাধুর সাবধানবাণী, যেখানে সাধুটি কোনো অজ্ঞাত অপ্রাকৃতিক অমঙ্গলের সম্ভাবনা ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন মালার জীবনে | কিন্তু সম্ভাবনার থেকে উদ্ধারের রাস্তা সাধুটি বলেননি সেই সাক্ষাতে | ঘটনাক্রমে, একের পর এক বিনিদ্র রাত্রিযাপন কালে মালা উপলব্ধি করে কোনো এক অশুভ ইঙ্গিত যা পরিণত হয় এক বিভীষিকায় |

দুরাশা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দার্জিলিঙে ঘুরতে আসা এক পথিকের সাথে পথে হঠাৎ দেখা এক গৈরিকবসনা সন্ন্যাসিনীর | একাকিনী সেই সন্ন্যাসিনী অঝোরে কাঁদছিলেন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে | কৌতূহলী পথিক সন্ন্যাসিনীকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর মনোকষ্টের কারণ | ক্ষণিক নীরব থেকে, সেই একাকিনী শোনালেন এক আশ্চর্য্য প্রণয় কাহিনী, যেই কাহিনীতে নিহিত ছিল এক কালজয়ী জীবন দর্শন, যা মানব সভ্যতার সৃষ্ট ধর্মান্ধতা অতিক্রম করে, পথিকের মানসপটে সৃষ্টি করে এক মায়াবী বিভ্রম | সেই উপলব্ধি পথিক কে যেন এক লহমায়, সমস্ত জাগতিক এবং সামাজিক শৃঙ্খলার চুড়ান্ত রক্ষনশীলতা এবং কদর্য সংকীর্ণতার রূপ দর্শন করায় | পথিক উপলব্ধি করেন ভালোবাসার পবিত্রতা, বিশ্বাস এবং সেবাই মনুষত্ত্বের সর্বোচ্য পরিচয় |

রুকু আর সুকু

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

খেলার মাঠ থেকে দুই ভাই - রুকু আর সুকু, ঝগড়া করতে করতে ঘরে ফিরছে। ফুটবল খেলার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, সুকু ট্যাকেল করে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে রুকুর গোড়ালি দিয়েছে মুচকে; অথচ রেফারির দৃষ্টি ব্যাপারটি ধরতেই পারেনি, সুকুর সতর্ক পারদর্শিতায়। স্বাভাবিক কারণেই রুকুর হয়েছে অভিমান; ওপর দিকে সুকু ব্যাপারটিকে তার দক্ষতার পরিচয় হিসাবেই ব্যাখ্যা করতে চায়। রুকুর অভিমানের আরো গুরুতর কারণ হলো যে মুচকে যাওয়া গোড়ালি, তাকে বেশ কিছুদিন আহত বন্দিদশায় ঘরে বেঁধে রাখবে; অথচ যিনি এই কান্ডটি ঘটিয়েছেন, তার সেই ছোট ভাই সুকু কিন্তু দিব্বি খেলে , আনন্দ করে বেড়াতে পারবে। রুকু মনের দুঃখে তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাইয়ের সাথে তার আড়ি - আজ থেকে বাক্যালাপ বন্ধ। দাদা রুকুর সাথে কথা না বলে সুকুর পক্ষ্যে ঘরে থাকা অসম্ভব - মনে মনে সে বুঝতে পারে দাদার অভিমানের কারণ। অবস্থার একটা সুবিচার করা উচিত- তা ভাবা মাত্র সুকু এক অভিনভ পন্থা বেছে নিলো; কি ছিল সুকুর সেই প্ল্যান?

কে?

তিলোত্তমা মজুমদার

ছাত্র জীবনের বন্ধু সান্তনু মিত্রের মধ্যে তিস্তা খুঁজে পেত রবি ঠাকুরের "রক্ত করবীর" নায়ক রঞ্জন-কে | তিস্তার চোখে সেই রঞ্জন ছিল যেমনি অপরাজেয়, অপ্রতিরোধ্য , তেমনি সে ছিল তিস্তার যৌবনে কাঙ্খিত পুরুষোত্তম | কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানে, দুটি সত্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়| জীবন তাদের ভোরে ওঠে নিজ নিজ আত্মপ্রতিষ্ঠায় দুটি বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক প্রান্তে একে অপরের অজ্ঞাতে| তিস্তা আজ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত কলেজ অধ্যাপিকা ; উচ্চপধস্ত কর্পোরেট এক্সেকিউটিভ সুমিত-এর সুখী গৃহিনী | স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস এবং আনুগত্যের স্বচ্ছতা | নিজেদের একমাত্র সন্তান পড়ছে শহরতলীর নামী বোর্ডিং স্কুল-এ | সব মিলিয়ে এক সুখী, সচ্ছল ও সফল গৃহকোণ | শান্তনুর কথা তিস্তা ভুলেই গাছে ; আজ তা শুধু স্মৃতি, ফেলে আসা উচ্ছল যৌবনের উষ্ণ অনুরাগ | প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সুমিত - তিস্তার জীবনে আকস্মিক উদয় সান্তনুর | শান্ত তরঙ্গহীন সংসার তটিনীতে অকষ্যাৎ শ্রাবণের খরস্রোত |

Items Showing 1 to 24 from 145 books results

Boighor

Stay Connected